চিনের হুঁশিয়ারি পানামা ও আমেরিকাকে, তাইওয়ান ইস্যুতে ‘সীমা অতিক্রম’ না করার বার্তা

সকাল সকাল ডেস্ক

বেজিং। তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ এবং চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলির মধ্যে যে কোনও ধরনের সরকারি যোগাযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে চিন। বেজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও বহিরাগত শক্তিকে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না।

চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি পানামার কয়েকজন সাংসদ তথাকথিত ‘পানামা-তাইওয়ান সংসদীয় বিনিময় গোষ্ঠী’ গঠন করেছেন বলে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সাংসদেরাও ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।

তবে পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এই বিষয়ে জানিয়েছেন, দেশের বিদেশনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকারের নির্বাহী বিভাগের। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনও সাংসদের তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অর্থ এই নয় যে পানামা সরকার সেই পদক্ষেপকে সমর্থন করছে।

গুও জিয়াকুন বলেন, বিশ্বে একটিই চিন রয়েছে এবং তাইওয়ান চিনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাইওয়ান ইস্যুতে বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করার জন্য কয়েকজন রাজনীতিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এই বিষয়ে ‘সীমা অতিক্রম’ করলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে।

চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তথাকথিত সংসদীয় বিনিময় গোষ্ঠী গঠনকে ‘এক চিন’ নীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পানামা সরকারের বক্তব্য চিনের নজরে এসেছে। বেজিং আশা করে, চিন-পানামা সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি বজায় রাখতে পানামা বাস্তব পদক্ষেপ করবে এবং ‘এক চিন’ নীতির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানাবে।

এই ঘটনায় আমেরিকাকেও সতর্ক করেছে চিন। গুও জিয়াকুন আমেরিকাকে ‘এক চিন’ নীতি এবং চিন ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি যৌথ বিবৃতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র পক্ষে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলিকে ভুল বার্তা দেওয়া বন্ধ করতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেজিং। পাশাপাশি চিন-পানামা সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা বা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগের বিরোধিতা করে আসছে চিন। বেজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজস্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চিন ও আমেরিকার মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More