“রিমস পার্ট-২-এর স্বপ্ন দেখানো সরকার গরিবকে অ্যাম্বুল্যান্স দিতে ব্যর্থ” — রাফিয়া নাজের কড়া আক্রমণ রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঘটনা উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ঝাড়খণ্ড প্রদেশের রাফিয়া নাজ। তিনি বলেন, “যে সরকার রিমস পার্ট-২ (উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র) গড়ার কথা বলছে, সেই সরকারই গরিব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দিতে পারছে না।” রাফিয়া বলেন, সরকার একদিকে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ স্লোগান তোলে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জরুরি মুহূর্তে রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। এটা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। অ্যাম্বুল্যান্স দেরিতে আসায় মৃত্যু তিনি উদাহরণ দেন গড্ডা জেলার এক শিশু-কন্যার মৃত্যুর ঘটনা। রাফিয়া বলেন, “অ্যাম্বুল্যান্স সময়মতো না পৌঁছনোয় শিশুটির মৃত্যু হয়, যদিও তার পরিবার বারবার ফোন করে সাহায্য চেয়েছিল।” একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে চতরা জেলাতেও, যেখানে সুকুল ভুঁইয়ার মৃত্যু হয় দেরিতে অ্যাম্বুল্যান্স আসায়। এই ঘটনাগুলিই প্রমাণ করে, রাজ্যে জরুরি চিকিৎসা পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে গেছে। ৩২% অ্যাম্বুল্যান্স বন্ধ, চালক নেই, বেতনও না! রাফিয়া জানান, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে ৩২ শতাংশ পরিষেবা-যোগ্য অ্যাম্বুল্যান্স অচল অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জনগণের করের টাকায় যদি এই পরিষেবা চালানো হয়, তাহলে তার রক্ষণাবেক্ষণে এই চরম অবহেলা কেন?” অনেক জেলায় গোটা ব্লকের জন্য একটিমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। চালক ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব রয়েছে বহু গাড়িতে, ফলে জরুরি পরিষেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বহু অ্যাম্বুল্যান্স কর্মী মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। “যারা নিজের জীবন বাজি রেখে পরিষেবা দেন, তাদের পারিশ্রমিক না দিয়ে কীভাবে সরকার তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত কাজ আশা করে?” — প্রশ্ন তুলেছেন রাফিয়া। তিনি বলেন, “এখন আর স্লোগান নয়, বাস্তবে কাজ চাই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভাঙন রোধ করতে হবে এখনই। প্রতিটি ১০ হাজার জনসংখ্যার জন্য অন্তত একটি অ্যাম্বুল্যান্স নিশ্চিত করা হোক।” তিনি আরও দাবি করেন: রাফিয়া নাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আর কোনও মৃত্যু নয়। এবার সময় এসেছে, সংস্কার চাই। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে আর ছেলেখেলা বরদাস্ত করা হবে না।”
“শিক্ষা ও সংস্কারের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে শক্তিশালী সমাজ” — রাজ্যপাল
সকাল সকাল ডেস্ক। গুমলা (ঝাড়খণ্ড): “শিক্ষা যদি সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তবে তা সমাজ গঠনে যথার্থ ভূমিকা রাখতে পারে না। শিক্ষা ও সংস্কারের সমন্বয়েই একটি উন্নত ও সুসংগঠিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।” — এ কথা বললেন মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী সান্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার। শনিবার গুমলা জেলার রায়ডিহ প্রখণ্ডের অন্তর্গত ভালমণ্ডা গ্রামের বিনদেশ্বরী লাল সাহু সরস্বতী শিশু বিদ্যা মন্দিরে নবনির্মিত বালিকা ছাত্রাবাস (সরস্বতীধাম)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। আদিবাসী কন্যাশিক্ষায় নতুন দিশা রাজ্যপাল বলেন, “এই আবাসন শুধু একটি ভবন নয়, বরং এটি আদিবাসী ও গ্রামীণ অঞ্চলের মেয়েদের স্বনির্ভরতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ গড়ার মঞ্চ হয়ে উঠবে।”এই ২৩৬তম সরস্বতীধাম নির্মাণে সহায়তাকারী গুজরাটের সুরতের মাতুশ্রী কাশীবা হরিভাই গোটী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট-কে তিনি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান। আলবার্ট এক্কার স্মরণ রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে ভারতের বীর সন্তান পরমবীর চক্র প্রাপ্ত শহীদ ল্যান্সনায়েক আলবার্ট এক্কা-কে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “ঝাড়খণ্ডের মাটির সন্তান আলবার্ট এক্কার আত্মবলিদান আমাদের গর্বিত করে, তাঁকে আমরা কুর্নিশ জানাই।” সমাজ গড়তে শিক্ষার সঙ্গে প্রয়াসের প্রয়োজন রাজ্যপাল উল্লেখ করেন, বিদ্যা বিকাশ সমিতি, ঝাড়খণ্ড-এর ভূমিকাও। রাজ্যের দূরবর্তী ও আদিবাসী অঞ্চলে বহু বছর ধরে এই সংগঠন শিক্ষা, সংস্কার ও সামাজিক সচেতনতার প্রসারে নিরলস কাজ করে চলেছে। সম্প্রতি তিনি নগড়ি কুডলুঙ্গে সংগঠনের একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের কাজ কাছ থেকে দেখেছেন বলেও জানান। “বেটি পড়ে, দেশ এগোয়” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “বেটি পড়ে, দেশ এগোয়” দর্শনের উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, “ঝাড়খণ্ডে একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা আদিবাসী মেধার বিকাশে সহায়ক হবে।” সহযোগিতার দৃষ্টান্ত মুম্বইয়ের সুমন রমেশ তুলসিয়ানি ট্রাস্ট ছাত্রদের জন্য দু’টি বাস উপহার দিয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। রাজ্যপাল বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠনগুলির এমন ভূমিকা ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার।” চূড়ান্ত বার্তা অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে রাজ্যপাল বলেন, “যে শিক্ষা মূল্যবোধ শেখায় এবং যে সংস্কার সমাজকে দিশা দেখায়— তাই সত্যিকারের শিক্ষা। এই ছাত্রাবাস সেই চিন্তার প্রতিফলন। এটি শুধু একটি আবাসিক ভবন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ, আত্মনির্ভরতা ও জাতি গঠনের কেন্দ্র হয়ে উঠুক— এটাই কামনা।” অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিদ্যা বিকাশ সমিতির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজকর্মী ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
রথের আগেই মিলবে বকেয়া ডিএ? ২৭ জুনের সময়সীমায় চাপ বাড়ছে নবান্নে
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা: ২৭ জুন রথযাত্রা, আর সেই দিনই শেষ হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমা—যার মধ্যে রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে। সময় গুনছেন প্রায় ১০ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী। প্রশ্ন একটাই: রথের আগে মিলবে তো বকেয়া টাকার প্রাপ্য অংশ? ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্যকে তিন মাসের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অন্তত ২৫ শতাংশ—প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা—সরকারি কর্মীদের দিতে হবে। রাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, পুরো বকেয়া ডিএ মেটাতে মোট খরচ হবে ৪১,৭৭০ কোটি টাকা। এই অবস্থায় আর্থিক সঙ্কটে থাকা নবান্ন ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২৪ জুন রাজ্য ফের ৩,৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে চলেছে—যার মধ্যে ২,০০০ কোটি ২৫ বছরের মেয়াদি এবং ১,৫০০ কোটি ২৬ বছরের মেয়াদি ঋণ। এর আগে ৩ ও ১৭ জুন যথাক্রমে ২,০০০ কোটি করে আরও দুটি ঋণ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে জুন মাসে নবান্ন মোট ৭,৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি মন্তব্য করেছিলেন, একসঙ্গে পুরো বকেয়া ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্য সরকারের “কোমর ভেঙে যাবে।” আদালত স্পষ্ট করে দেয়, অন্তত ২৫ শতাংশ দিতে হবে ২৭ জুনের মধ্যে। সেই চাপ সামাল দিতেই ঋণের পথেই হাঁটছে রাজ্য, বলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্রের খবর, নবান্ন আদালতের কিছু দিক নিয়ে ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ দায়ের করেছে। কিন্তু বর্তমানে গ্রীষ্মাবকাশ থাকায় সেই আবেদন এখনও ওঠেনি। ফলে জুনের মধ্যেই নির্দেশ পালন ছাড়া বিকল্প দেখছেন না আইনজ্ঞরা। এখন নজর ২৭ জুনের দিকেই—রথের চাকা গড়ানোর আগে বকেয়া ডিএ-র টাকা আদৌ হাতে পাবেন তো সরকারি কর্মীরা?
গভীর সমুদ্রে পরপর ট্রলারডুবি, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৭ মৎস্যজীবী
সকাল সকাল ডেস্ক। নামখানা: ফের গভীর সমুদ্রে বিপর্যয়। শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে নামখানা উপকূলের কাছে পরপর দুটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে দুই ট্রলারেই থাকা মোট ২৭ জন মৎস্যজীবী সৌভাগ্যবশত প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। এই ঘটনায় মৎস্যজীবীদের মহলে চাঞ্চল্য ছড়ালেও বড় রকমের দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলেই স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ঘটনায়, শনিবার সকালে ‘এফবি সাকিলা’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার নামখানার ১০ মাইল খেয়াঘাট থেকে সমুদ্রে রওনা দেয়। জম্বুদ্বীপের আশপাশে গভীর সমুদ্রে পৌঁছনোর পরই ট্রলারটির সি-কক পাইপ ফেটে যায়। ফলে ইঞ্জিনঘরে জল ঢুকে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ওই ট্রলারে থাকা ১১ জন মৎস্যজীবী তখন বিপদে পড়েন। তবে কাছাকাছি থাকা অন্য ট্রলারগুলির সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে তার আগের দিন, শুক্রবার রাতে। ‘এফবি মা দুর্গা’ নামে আরেকটি ট্রলার ১৬ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কেঁদুয়া দ্বীপের কাছে পৌঁছতেই ট্রলারটির নিচের কাঠের অংশ খুলে যায় এবং জল ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রলারটির অধিকাংশ অংশ ডুবে যায়। আর্তনাদ শুনে আশপাশের ট্রলারগুলি দ্রুত ছুটে এসে সবাইকে উদ্ধার করে। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানিয়েছেন, “খারাপ আবহাওয়া কাটতেই ট্রলারগুলি ফের সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। মরশুমের শুরুতেই পরপর দুটি ট্রলার ডুবে যাওয়া যথেষ্ট উদ্বেগের। তবে সব মৎস্যজীবী সুস্থভাবে ফিরে এসেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।” তিনি আরও জানান, ট্রলারগুলির কাঠামোগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি কিংবা নিরাপত্তা পরীক্ষার অভাব—এই সব কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সমুদ্রে রওনা হওয়ার আগে প্রতিটি ট্রলারের প্রযুক্তিগত যাচাই নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ট্রেকার-ডাম্পার সংঘর্ষে মৃত ৫, জখম ১০
সকাল সকাল ডেস্ক। কান্দি: রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদের কান্দি-বহরমপুর রাজ্য সড়কে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনা। গোকর্ণ পাওয়ার হাউস মোড়ে যাত্রীবোঝাই একটি ট্রেকার ও একটি ডাম্পারের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের, আহত অন্তত ১০। গুরুতর জখম অবস্থায় তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল ১১টা নাগাদ বীরভূমের বেলে এলাকা থেকে একটি ট্রেকার ২০ জন যাত্রী নিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরছিল। প্রত্যেকেই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। গোকর্ণ মোড়ের কাছে হঠাৎই একটি দ্রুতগামী ডাম্পার সজোরে ধাক্কা মারে ট্রেকারটিকে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ট্রেকারটি রাস্তায় উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক-সহ পাঁচ জন, যাঁদের মধ্যে তিন জন মহিলা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছে আহতদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েক জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও গুরুতর জখমদের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ট্রেকারটি ধীরগতিতে চলছিল, কিন্তু ডাম্পারটি আচমকাই এসে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় সাময়িকভাবে রাজ্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়, তৈরি হয় যানজট। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফের স্বাভাবিক করে চলাচল। মৃত ও আহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের হাসপাতালে ডাকা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখছে—ডাম্পার চালকের অসাবধানতা, নিয়ন্ত্রণ হারানো না কি অন্য কোনো কারণ ছিল, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। ডাম্পার চালক ও মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে গ্রামীণ রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই যান ও বেপরোয়া ডাম্পার চলাচল নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু দিন ধরেই ওই মোড়ে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাঁরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সুপারি পাচারচক্রের মূল চক্রী ধীরজ ঘোষ অবশেষে গ্রেফতার
সকাল সকাল ডেস্ক।শিলিগুড়ি : অবশেষে সুপারি পাচারকারী চক্রের প্রধান চক্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত অভিযুক্তের নাম ধীরজ ঘোষ। শনিবার গভীর রাতে নকশালবাড়ি থানার পুলিশ সুপারি পাচারকারী ধীরজ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নকশালবাড়ি ও ঘোষপুকুরে সুপারি বোঝাই মোট পাঁচটি ট্রাক আটক করেছিল পুলিশ। এই ঘটনায় কোনও বৈধ নথি না পাওয়ায় পুলিশ সুপারি পাচারের এই মামলায় মোট দশজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ধীরজ ঘোষের নাম উঠে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারবার নোটিশ দেওয়ার পরেও তিনি পুলিশের কাছে হাজির হচ্ছিলেন না। গত রাতে নকশালবাড়ি থেকে ধীরজ ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে দেরাদুনে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অষ্টম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার দেরাদুনে আয়োজিত এক বিশেষ যোগ অনুশীলন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “যোগ হল এক সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মন্ত্র। এটি শুধু শরীর নয়, মন ও আত্মাকেও সংযুক্ত করে, যার ফলে মানুষের সামগ্রিক উন্নতি ঘটে।”
খিদিরপুরে অগ্নিকাণ্ড ‘ম্যান মেড’, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে শুভেন্দু
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ১৭ জুন:খিদিরপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশ্বাস দেন, যেকোনো সহায়তায় তিনি এবং তাঁর দল পাশে থাকবেন। শুভেন্দুর দাবি, এই অগ্নিকাণ্ড কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ‘ম্যান-মেড’ ষড়যন্ত্র। তাঁর কথায়, “এটা কোনও স্বাভাবিক আগুন নয়, পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।” রবিবার গভীর রাতে খিদিরপুরের অরফ্যানগঞ্জ বাজারের একাধিক দোকানে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে দমকল বাহিনী। অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগুনের কারণ অস্পষ্ট হলেও বেশ কিছু দোকানে দাহ্য বস্তু মজুত ছিল, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। শুভেন্দুর দাবি, প্রশাসনের গাফিলতি এবং গভীর ষড়যন্ত্র এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে, যার তদন্ত হওয়া জরুরি।
মন্ত্রী শিল্পি তির্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ইউনেস্কোর কো-চেয়ারপার্সন
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচিইউনেস্কোর কো-চেয়ারপারসন এবং সিদো-কানহু মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়, দুমকা-র প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ সোনাঝারিয়া মিন্জ মঙ্গলবার কৃষিমন্ত্রী শিল্পি নেহা তির্কির বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতের সময় ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী সমাজ, ভাষা-সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী সম্পদের প্রসঙ্গে বিস্তৃত ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। সাক্ষাৎ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী শিল্পি নেহা তির্কি বলেন, “ডঃ মিন্জ-এর ইউনেস্কো-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কো-চেয়ারপারসনের পদে মনোনীত হওয়া শুধুমাত্র ঝাড়খণ্ড নয়, গোটা আদিবাসী সমাজের গর্বের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “ডঃ সোনাঝারিয়া মিন্জের সামাজিক সচেতনতা, দক্ষ নেতৃত্ব ও আদিবাসী সমাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা আন্তর্জাতিক পরিসরে আমাদের একটি শক্তিশালী পরিচয় গড়ে তুলবে।” মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, “এই নতুন ভূমিকায় ডঃ মিন্জ ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন, যা রাজ্যকে এক নতুন দিশা দেখাবে।” তিনি বলেন, “ইউনেস্কোর উদ্দেশ্য হল শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রচার। আমি নিশ্চিত, ডঃ সোনাঝারিয়া মিন্জ এই দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পালন করবেন।”
রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচিমঙ্গলবার রাজভবনে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় সেঠ। এই উপলক্ষে দু’জনের মধ্যে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রাজভবনের তরফে এই সাক্ষাৎকে একটি শিষ্টাচারমূলক সাক্ষাৎ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।