মেয়েদের নিরাপত্তা, আদালত এবং পার্সনাল ল : সমান নাগরিকত্ব জরুরি
সকাল সকাল ডেস্ক। ডঃ নিবেদিতা শর্মা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সামনে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন হলো, দেশের মেয়েদের এবং ছেলেদের নিরাপত্তা কি তাদের ধর্মীয় পরিচয় এবং পার্সনাল ল’ দ্বারা নির্ধারিত হবে, নাকি সংবিধান ও সংসদ দ্বারা প্রণীত আইন সকলের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এই প্রশ্ন শুধুমাত্র আইনগত প্রযুক্তি বা বিচারিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের ভবিষ্যত এবং জাতির দিক নির্ধারণকারী বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন উচ্চ আদালত মুসলিম পার্সনাল ল’ এর প্রেক্ষাপটে বলেছেন যে, যদি কোনো মুসলিম মেয়ে যৌবনপ্রাপ্ত হয়, তবে তার বিবাহ—যদি সে ১৮ বছরের কম বয়সী হয়—সেটিও বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হলো, শরীয়তের ভিত্তিতে যৌবন বিবাহের ক্ষমতা প্রদান করে। তবে এই ব্যাখ্যা শিশুদের অধিকার, সংসদে প্রণীত পোকসো আইন এবং সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সরাসরি বিরোধ সৃষ্টি করে। ২০১২ সালে সংসদ শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে রক্ষা করার জন্য পোকসো আইন প্রণয়ন করে। এতে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যে, ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি ব্যক্তি শিশু এবং তার সঙ্গে যে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক অপরাধ, তা বিবাহের নামেই হোক না কেন। যখন আদালত পার্সনাল ল’ এর ভিত্তিতে এই বিধানকে উপেক্ষা করে, তখন শুধুমাত্র আইন লঙ্ঘন হয় না, বরং এটি একটি দ্বৈত ব্যবস্থা সৃষ্টি করে যা সংবিধানের সমতার নিশ্চয়তাকে দুর্বল করে। সংবিধানিক মানদণ্ড ও সমতার প্রশ্ন:সংবিধান অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ১৪ সকলকে সমতার অধিকার দেয়, অনুচ্ছেদ ১৫(৩) মহিলাদের এবং শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করে এবং অনুচ্ছেদ ২১ প্রতিটি নাগরিককে মর্যাদা ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করে। এই অধিকারগুলি ধর্ম বা প্রচলনার উপর নির্ভর করে না। যখন হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা পার্সি মেয়েদের জন্য বিবাহের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর, কিন্তু মুসলিম পার্সনাল ল’ এর অধীনে এটি ১৫ বা ১৬ বছরেই বৈধ ধরা হয়, তখন এটি নাগরিকত্বের সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। দেশ তখন “এক আইন, এক নিরাপত্তা” এর দিকে এগোতে পারে, যখন সকল মেয়েকে তাদের ধর্মীয় পরিচয় থেকে উপরে সমান সুরক্ষা দেওয়া হবে। অন্যথায়, ভারত একটি দ্বৈত ব্যবস্থা সম্পন্ন দেশ হয়ে যাবে, যেখানে এক সম্প্রদায়ের মেয়ে রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাবে এবং অন্য মেয়ে একই বয়সে “বিবাহিত বন্ধন” এর নামে অসুরক্ষিত থাকবে। আইনি কাঠামো ও আদালতের ব্যাখ্যা:দেশে শিশু বিবাহ নিষিদ্ধ আইন, ২০০৬ এবং পোকসো আইন, ২০১২—উভয়ই স্পষ্টভাবে ১৮ বছরের আগে বিবাহ ও যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করে। সর্বোচ্চ আদালত ২০১৭ সালে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট থট বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ মামলার ঐতিহাসিক রায়ে বলেছে, যদি স্ত্রী ১৮ বছরের কম বয়সী হয়, তবে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণের সমতুল্য অপরাধ ধরা হবে। এই রায় প্রচলনকে শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে উপরে রাখার কথা অস্বীকার করেছে এবং সংবিধানের সর্বোচ্চতাকে প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপরও, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উচ্চ আদালতের মতো কিছু আদালত মুসলিম পার্সনাল ল’ এর প্রেক্ষাপটে নাবালিগ বিবাহকে বৈধ হিসেবে গণ্য করেছে। অন্যদিকে, দিল্লি ও কেরল উচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে যে, পোকসো সব পার্সনাল ল’ এর উপরে। এই বিরোধ স্পষ্টভাবে দেখায় যে, এখন সর্বোচ্চ আদালতকে সংবিধান পীঠ গঠন করে স্পষ্ট ও সার্বজনীন সিদ্ধান্ত দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এনসিপিসিআর এবং বিচারব্যবস্থার অবস্থান:শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য সংসদ জাতীয় শিশু অধিকার সংরক্ষণ কমিশন (এনসিপিসিপিআর) তৈরি করেছে। যখন এই সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়, তখন এর আবেদন খারিজ করা হয়, বলা হয় এটি “অজানা” এবং মামলায় তার লোকস স্ট্যান্ডি নেই। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি শিশুদের আইনি রক্ষাকারী সংস্থাটিকেও বিচারব্যবস্থা শোনার জন্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে মেয়েদের কণ্ঠ কে উত্থাপন করবে? সংসদকে উচিত এনসিপিসিপিআর -কে স্পষ্টভাবে এই অধিকার প্রদান করা, যাতে এটি সরাসরি সর্বোচ্চ আদালত এবং উচ্চ আদালতে শিশু অধিকার সংক্রান্ত মামলায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। শিশু বিবাহ এখনও সামাজিক চ্যালেঞ্জ:এই প্রশ্ন প্রায়ই মুসলিম পার্সনাল ল’ এ সীমাবদ্ধ রাখা হয়, কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিশু বিবাহ সমগ্র দেশে একটি বিস্তৃত সামাজিক সমস্যা। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপ (এনএফএইচএস-৫) অনুযায়ী, ভারতে ২৩% মেয়ে ১৮ বছরের আগে বিবাহিত হয়। গ্রামীণ এলাকায় এই হার আরও বেশি। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও আসাম প্রভৃতির রাজ্যে শিশু বিবাহের হার ৩০% এর ওপরে। এই তথ্য স্পষ্ট করে যে, সমস্যা কোনো একটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নয়, বরং সামাজিক কাঠামো ও পিছিয়ে থাকা অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু যখন আদালত পার্সনাল ল’ এর ভিত্তিতে শিশু বিবাহকে বৈধ করে, তখন এই সামাজিক সমস্যা আরও গভীর হয়। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং ভারতের প্রতিশ্রুতি:ভারত ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশন (ইউএনসিআরসি) এ স্বাক্ষর করেছে। সংধি অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি ব্যক্তি শিশু এবং তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে শিশু বিবাহ শেষ করার লক্ষ্যও নিয়েছে (এসডিজি-৫.৩)। উল্লেখযোগ্য যে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশসহ অনেক মুসলিম-প্রধান দেশ বিবাহের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ২০১৭ সালে শিশু বিবাহ নিষিদ্ধ আইন প্রণয়ন করে নাবালিক বিবাহকে অপরাধ ঘোষণা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, এটি ধর্মের নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সংস্কারের বৈশ্বিক এজেন্ডা। মুসলিম সমাজের ভিতরেও সংস্কারের ডাক:মুসলিম সমাজের ভিতরও বিপুলসংখ্যক মানুষ শিশু বিবাহের বিরোধী। বহু মুসলিম মহিলা সংগঠন ও সামাজিক কর্মী জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলাম শিশু বিবাহকে উৎসাহ দেয় না। প্রফেট মুহাম্মদের শিক্ষায় বিবাহ প্রাপ্তবয়স্কতা ও সম্মতি ভিত্তিক হওয়া উচিত, কেবল শারীরিক যৌবনের উপর নয়। সুতরাং সংস্কারের দাবি বাহ্যিক চাপ নয়, বরং সমাজের ভিতর থেকেও আসছে। কম বয়সে বিবাহ শুধুমাত্র আইনি সমস্যা নয়, বরং সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত দূরগামী প্রভাব ফেলে। কিশোরাবস্থায় গর্ভধারণে মাতৃত্ব মৃত্যুহার অনেকগুণ বেড়ে যায়। দ্রুত বিবাহের ফলে মেয়েদের শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকে এবং স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়। নাবালিক মাতৃত্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দ্রুত করে, যার ফলে সম্পদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। খেলাধুলা, শিক্ষা, শিল্প ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রের সম্ভাব্য প্রতিভা অসময়ে বিবাহের কারণে সীমিত হয়ে যায়। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব পড়ে। দ্রুত বিবাহিত মেয়েদের মধ্যে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন:পোকসো আইন ২০১৯ সালে সংশোধনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি ধার্য করেছে, নাবালিকাদের সঙ্গে ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত ব্যবস্থা রয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, সংসদ ও সরকার উভয়ই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গম্ভীর। কিন্তু যদি আদালত পার্সনাল ল’ এর আড়ালে এই বিধানকে অকার্যকর করে, তবে কঠোরতা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে। এখন সময় এসেছে যে, সর্বোচ্চ আদালত সংবিধান পীঠ গঠন করে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করুক যে, পোকসো ও শিশু বিবাহ নিষিদ্ধ আইন সব পার্সনাল ল’ এর উপরে। সংসদকেও উচিত পোকসো আইনে স্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা, যা শিশুদের সুরক্ষাকে সব পার্সনাল ল’ এর উপরে রাখবে। সাথে, এনসিপিসিপিআর -এর মতো সংস্থাগুলোকে সরাসরি বিচারব্যবস্থায় যাওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। ভারতের বার্তা স্পষ্ট হওয়া উচিত: মেয়েদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদা হলো আসল জাতির ধর্ম। কোনো প্রচলনা, পার্সনাল ল’ বা সামাজিক রীতি মেয়েদের অধিকার থেকে উপরে নয়। কম বয়সে বিবাহ কেবল একটি মেয়ের নয়, বরং পুরো জাতির ভবিষ্যত নষ্ট করে। সেই মেয়ে, যিনি আগামীতে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, নেতা বা শিক্ষক হতে পারতেন, অসময়ে বিবাহের কারণে
দঙ্গাহীন সমাজ গঠনের প্রতি আমাদের দায়িত্ব
সকাল সকাল ডেস্ক। হৃদয়নারায়ণ দীক্ষিত দাঙ্গা অন্ধযুদ্ধ। এতে শত্রুর সঠিক পরিচয় জানা যায় না। আগুন লাগানো বা বোমা ফাটানো ব্যক্তি জানে না তারা কাকে মারছে। দাঙ্গা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণের কর্ম। সাম্ভল দাঙ্গার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সাম্ভলের জনসংখ্যাগত চরিত্রের কথাও উল্লেখ রয়েছে। জনসংখ্যাগত চরিত্রের পরিবর্তন রাষ্ট্রজীবনের সমস্ত ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে সাম্ভলের জনসংখ্যা ৪৫ শতাংশ ছিল, যা এখন কমে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। স্পষ্ট যে, এই চরিত্রের প্রভাবেই হিন্দুদের পালানোর জন্য বাধ্য করা হয়েছে। মুসলিম জনসংখ্যার ভিত্তিতেই পাকিস্তানের দাবি করা হয়েছিল। ১৯৫১ সালের জনগণনায় হিন্দুদের সংখ্যা ৮৫ শতাংশ এবং মুসলিম ১০ শতাংশ ছিল। সাইয়েদ শাহাবুদ্দিন অনুযায়ী ১৯৯১ সালে হিন্দু ছিলেন ৮১.৫ শতাংশ এবং মুসলিম ১২.৬ শতাংশ। এখানে মুসলিম জনসংখ্যার হার ক্রমবর্ধমান। ২০১১ সালের জনগণনায় হিন্দু ৭৯.৮ শতাংশ এবং মুসলিম ১৪.২ শতাংশ ছিলেন। এরপর থেকে জনগণনা হয়নি, তবে মোটামুটি হিসেবে দেশে এখন হিন্দু ৮০.৮ শতাংশ এবং মুসলিম ১৬.৩ শতাংশ হতে পারে। পাশের দেশ পাকিস্তানে ভাগ হওয়ার সময় হিন্দু ২৪ শতাংশ ছিল। এখন ১.৬ শতাংশ। বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার সময় হিন্দু জনসংখ্যা ২২ শতাংশ ছিল, এখন ৭ শতাংশ। সাম্ভলেরও একই অবস্থা। জনসংখ্যার এই অমিল জাতীয় উদ্বেগের কারণ। মুসলিম জনসংখ্যা আধুনিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করে না। মাওলভী হিন্দুদের বুৎপরস্ত বলে সমালোচনা করেন। রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। রাষ্ট্র সর্বোচ্চত্বের কথা মেনে নেয় না। সাম্ভল উদাহরণ। এছাড়া যেখানে-যেখানে হিন্দু সংখ্যালঘু, সেখানে-সেখানে তাদের জীবন কষ্টময়। ক্রমাগত আতঙ্ক ও হত্যার আশঙ্কায় সংখ্যালঘু হিন্দুরা ভীত হয়ে থাকে এবং ভুক্তভোগী হয়ে পালিয়ে যায়। এই বিষয়টি খুবই গুরুতর। সরকাররা তাদের কাজ চালিয়ে যায়। সরকারি যন্ত্রনার বাধ্যবাধকতা হলো যে ঘটনা ঘটার পর তারা সক্রিয় হয়। সাম্ভলের ক্ষেত্রে ও একই হয়েছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে। কিন্তু সাম্ভলে মাত্র ৭৫ বছরে ২০৯ হিন্দু নিহত হয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে এমন সংবেদনশীল প্রশ্নকেও প্রায়শই ভূ-পৃষ্ঠীয় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় বানানো হয়। এক সময় সাম্ভলে ৬৮টি তীর্থ স্থান ছিল এবং ১৯টি বিশেষ ধরনের পবিত্র কূপ। এ সবের ওপর ধীরে ধীরে অবৈধ দখল চলে এসেছে। এর অর্থ যে সাম্ভলের গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। সাম্ভল দাঙ্গার সময় শুধু মূর্তি ও মন্দির নয়, এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মন্দির ও মূর্তিকে ধ্বংসযোগ্য মনে করা হয়। তালেবান বামিয়ান মূর্তিগুলি ধ্বংস করেছিল। ভারতের প্রতিটি প্রান্তে হাজার হাজার সুন্দর মন্দির ছিল। সপ্তম শতাব্দী থেকে মোহাম্মদ বিন কাসিম থেকে শুরু করে এবং আগ্রজেব পর্যন্ত মূর্তি ভাঙার অভিযান চলেছে। শেষ পর্যন্ত মূর্তির সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব কী? কমিটিও সাম্ভল দাঙ্গায় একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদকে উত্তেজক বক্তৃতার জন্য উল্লেখ করেছে। মহাত্মা গান্ধী হিন্দু-মুসলিম সহঅস্তিত্বের সমর্থক ছিলেন। গান্ধীজি মুসলিমদের মন জয়ের জন্য খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। খিলাফত ঘোর সাম্প্রদায়িক আন্দোলন ছিল। এর ভারতীয় সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। খিলাফত আন্দোলনের কারণে ভারত থেকে বাইরে ছিলেন। সমস্ত প্রচেষ্টার পর গান্ধীজি শেষ পর্যন্ত লিখেছিলেন, “হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রশ্নে আমি আমার পরাজয় স্বীকার করছি।” হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কিছু সমর্থক একটি যৌথ বিশ্বাসের ফেডারেল রূপের উপর জোর দিচ্ছিল, অর্থাৎ হিন্দু হজরত মুহাম্মদ ও কোরানকে সম্মান করবে এবং মুসলিমরা রাম, কৃষ্ণ, শিব এবং গীতা, বেদ ইত্যাদিকে সম্মান করবে। হিন্দুদের জন্য এটি সহজ ছিল। মুসলিমদের জন্য কঠিন। হিন্দু জীবনের রচনায় পুরো অস্তিত্বকে একটি ক্ষমতা হিসেবে ধরা হয়। তারপর ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা দেশ পাকিস্তানের দাবি ওঠে। এই দাবির সমর্থনে সরাসরি কার্যক্রম নেওয়া হয়। লক্ষ লক্ষ হিন্দু নিহত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। তারপর পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ তৈরি হয়। পাকিস্তান একটি কৃত্রিম দেশ। রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি হয় না। সাম্ভল এই প্রবণতার একটি উদাহরণ। মূল বিষয় হলো ভারতের দুর্বল করার জন্য এই দলের ক্রমাগত ‘ষড়যন্ত্র’। শেষ পর্যন্ত ভারতবিরোধী এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত। অযুৎসাহিত উদাহরণ হলো রামজন্মভূমির প্রমাণ যা আর্সি (ASI) খননে পাওয়া গেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ও ছদ্মধর্মনিরপেক্ষরা রামজন্মভূমির প্রমাণ স্বীকার করেননি। এরপর কাশীর মামলা। এখানে ও খনন থেকে প্রাপ্ত প্রমাণকে সম্মান করা হয়নি। মথুরার শ্রীকৃষ্ণজন্মভূমি মন্দিরও একই ধরনের। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যেখানে-যেখানে গভীর খনন হয়, সেখানে গভীরে কোনো মূর্তি, কোনো উপাসনার স্থান, হিন্দুত্বের প্রতীক পাওয়া যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি বৃদ্ধি পায়। প্রতিটি দেশপ্রেমিকের দায়িত্ব হলো এই দৃষ্টিভঙ্গির খোলাখুলি প্রতিবাদ করা। সাম্ভলের বাস্তবতা ও হিংসা হাজার মানুষকে আহত ও সতর্ক করেছে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুক। হিন্দুদের পালানো গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। হিন্দু যখন কোনো পুরনো এলাকা ত্যাগ করে, তাদের মন্দির এখানেই থাকে। কেউ সহজে তার বাড়ি ছাড়ে না। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তখনই তারা বাড়ি ত্যাগ করে। স্বাধীনতা থেকে এখন পর্যন্ত সাম্ভলে ১৫টি দাঙ্গা হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা হ্রাসের কারণ এটি। প্রতিটি দাঙ্গা নিরপরাধের প্রাণ নিয়ে যায় এবং পরবর্তী দাঙ্গার আশঙ্কা রেখে যায়। এটি সরকারের জন্য সমস্যা তৈরি করে। কোনো সরকারই দাঙ্গা চায় না। যোগী সরকার প্রতিটি স্তরে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। দাঙ্গায় জড়িত অভিযুক্তদের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিলুপ্ত বহু তীর্থ মন্দির ও ধর্মস্থানকে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। দঙ্গাহীন সমাজ গঠন প্রতিটি সামাজিক কর্মী, সচেতন নাগরিক ও সরকারের দায়িত্ব যে সমাজকে প্রীতিপূর্ণ করে তোলা। জনসংখ্যায় নেতিবাচক পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত, তবেই এই রিপোর্টের যথার্থ ব্যবহার সম্ভব। শুভ যে, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তথ্য সংগ্রহে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। এই তিন সদস্য (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবেন্দ্র নাথ অরোরা’র সভাপতিত্বে অবসরপ্রাপ্ত ডিজিপি এ কে জৈন এবং অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অমিত মোহন প্রসাদ) মিলিত হয়ে তদন্তকে প্রামাণিক করেছেন। ৪৫০ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে সাম্ভলে দাঙ্গার বিশ্লেষণ রয়েছে। গত বছর ২৩ নভেম্বর সাম্ভলে ঘটে যাওয়া হিংসার বিষয়ে কমিটি বিবেচনা করেছে। সাম্ভল একা নয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সাম্ভল রয়েছে। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম অন্যান্য রাজ্যেও অনুসরণীয় হতে পারে। কমিটির রিপোর্টে ব্যাপক আলোচনা হওয়া উচিত। এই আলোচনার মাধ্যমে দাঙ্গার প্ররোচক উপাদান ও দাঙ্গাবাজ দৃষ্টিভঙ্গির কার্যপদ্ধতি বোঝা সহজ হবে।
এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের ভাবনা দেশের একতার জন্য প্রয়োজনীয় : প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট: এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের ভাবনা দেশের একতার জন্য প্রয়োজনীয়। রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, “এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত”-এর ভাবনা দেশের একতা, দেশের বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং নিশ্চিতভাবেই ক্রীড়া এতে একটা বড় ভূমিকা পালন করে। আর তাই তো আমি বলি, যে খেলে সে বিকশিত হয়। আমাদের দেশও যত টুর্নামেন্ট খেলবে তত বিকশিত হবে। আপনারা দু’জন ক্রীড়াবিদকে এবং আপনাদের বন্ধুদের আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এখন ভারতের প্রতি গোটা দুনিয়ার মনোযোগ রয়েছে। ভারতের মধ্যে লুক্কায়িত সম্ভাবনাগুলির দিকে সারা বিশ্ব দৃষ্টি দিয়েছে। এই প্রসঙ্গেই একটা আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। আপনারা তো জানেন আজকাল পডকাস্টের খুব ফ্যাশন হয়েছে। নানা বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত পডকাস্ট বিভিন্ন ধরণের লোক দেখেন ও শোনেন। অতীতে আমিও কিছু পডকাস্টে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এমনই এক পডকাস্ট হয়েছিল পৃথিবীর অত্যন্ত বিখ্যাত পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানের সঙ্গে। এই পডকাস্টে অনেক কথা হয়েছিল এবং সারা বিশ্বের মানুষ তা শুনেছিলেন। পডকাস্টের সময় এমনই কথায় কথায় আমি একটা বিষয় উত্থাপন করেছিলাম। জার্মানির এক ক্রীড়াবিদ সেই পডকাস্ট শোনেন এবং আমি সেখানে যে কথা বলেছিলাম সেই বিষয়ে তার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়। তিনি এই টপিকের সঙ্গে এতটাই কানেক্ট করেছিলেন যে প্রথমে তিনি সেই বিষয়ে রিসার্চ করেন, তারপর জার্মানিতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চিঠি লিখে জানান যে উনি সেই বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চান।”
মরক্কো আফ্রিকা নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন
সকাল সকাল ডেস্ক।নাইরোবি, ৩১ আগস্ট: নাইরোবির সাফারিকম স্টেডিয়াম কাসারানিতে চ্যান ২০২৪ ফাইনালে মরক্কো প্রথমবারের মতো মাদাগাস্কারকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। মরক্কোর পক্ষে ওসামা লামলিউই দুটি গোল করেন এবং ইউসেফ মেহরি একটি গোল করেন।সেমিফাইনালে মরক্কো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সেনেগালকে পেনাল্টিতে হারিয়েছিল। অন্যদিকে মাদাগাস্কার সুদানকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিল। মরক্কোর যুব দলগুলোও এই বছর ভালো ফলাফল দেখিয়েছে। উত্তর আফ্রিকার দেশটি ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো এফএফকন সিনিয়র আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লখনউয়ের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, মৃত্যু ৭
সকাল সকাল ডেস্ক।লখনউ, ৩১ আগস্ট: গুন্ডওয়া এলাকার একটি বাজি কারখানায় রবিবার একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কারখানার মালিক, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।স্থানীয়রা বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কারখানার একাংশ ধসে যায় এবং ছাদ উড়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বিজেপি সরকারের সমালোচনা মানিক দের
সকাল সকাল ডেস্ক।আমবাসা, ৩১ আগস্ট: সিআইটিইউ-এর আমবাসা মহকুমা সম্মেলন উপলক্ষে সিপিআই(এম) পার্টি অফিস প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইটিইউ-এর রাজ্য সভাপতি মানিক দে। সমাবেশ শেষে মহকুমা সম্মেলন শুরু হয়, যেখানে ১৫০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।মানিক দে বলেন, “কাজ চাই, খাদ্য চাই, শ্রমিকদের স্বার্থে কথা বলবে সিআইটিইউ।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার গাল ভরা প্রতিশ্রুতি ও মিথ্যা ভাষণ দিয়ে চলমান। এছাড়া সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবকে সিপিআই(এম)-কে কেন্দ্র করে ভয় পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের গাড়ি দুর্ঘটনায়
সকাল সকাল ডেস্ক।হাওড়া, ৩১ আগস্ট: দুপুর একটার পরে হাওড়ার নিবড়ার কাছে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে মন্ত্রীর কোনও আঘাত হয়নি। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি আটক করা হয়েছে।মন্ত্রীর গাড়ি রবিবার ডানকুনির দিক থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল। ডোমজুড়ের নিবড়ার এলাকায় একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ির পিছনে ধাক্কা মারে, যার ফলে গাড়ির পিছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রীকে গাড়ি থেকে বের করে আনা হয় এবং তিনি সুস্থ আছেন।