বৈশ্বিক সংঘাতের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি: এটি সংকট নয়, সতর্কতা এবং সুযোগের সময়
সকাল সকাল ডেস্ক -ডা. ময়ঙ্ক চতুর্বেদী পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল, ইরান এবং আমেরিকার সাথে জড়িত সামরিক ঘাঁটিগুলির আশেপাশে যুদ্ধসদৃশ পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। প্রতিবারই দেখা গেছে যে যখনই উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বাড়ে, তার সরাসরি প্রভাব বৈশ্বিক তেল বাজার, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই, ভারতের মতো একটি বড় আমদানিকারক দেশ নিয়েও নানা ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, কিন্তু এই আশঙ্কাগুলির মধ্যে একটি শক্তিশালী এবং আশ্বস্ত করার মতো সত্যও সামনে আসছে যে ভারতের অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, সুষম এবং প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ীও হয়, তাহলেও ভারতের উপর তার প্রভাব সীমিত থাকবে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভারতের অর্থনৈতিক নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং বাজারের দৃঢ়তা এখন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে। সতর্কতা, প্রস্তুতি এবং নীতিনির্ধারকদের সক্রিয়তা উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা দেখে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছেন। এসবিআই রিসার্চের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আরবিআই সরকারি বন্ড অর্থাৎ জি-সেকের ইল্ডকে সুষম রাখতে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে, যাতে আর্থিক ব্যবস্থায় আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়। এর পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করে রুপির অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং এটিকে 92-এর নিচে ধরে রাখতে সফল হয়েছে। বস্তুত, এই পদক্ষেপটি দেখাচ্ছে যে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা বৈশ্বিক সংকটগুলি বুঝতে পেরে সময়মতো প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। আজ ভারতের কাছে প্রায় 600 বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে, যা যেকোনো বাহ্যিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতা প্রদান করে। এছাড়াও, সোনার রিজার্ভও ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এর অংশ প্রায় 17.6 শতাংশে পৌঁছেছে। এটিও এক ধরনের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ঢাল। তেল সংকটের চ্যালেঞ্জ এবং ভারতের কৌশল উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সাথে জড়িত। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় 20 শতাংশ অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্য হয়। যদি এখানে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় 91 ডলার প্রতি ব্যারেল এবং ডব্লিউটিআই প্রায় 89 ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এসবিআই রিসার্চের মতে, যদি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে 10 ডলার বৃদ্ধি পায়, তাহলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতির উপর কিছুটা চাপ পড়তে পারে, কিন্তু এখানে এটি বোঝাও জরুরি যে ভারত গত কয়েক বছরে তার জ্বালানি কৌশলকে যথেষ্ট বৈচিত্র্যপূর্ণ করেছে। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ক্রয়, দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তি এবং কৌশলগত তেল রিজার্ভের মতো ব্যবস্থাগুলি ভারতকে হঠাৎ আসা সংকট থেকে অনেকটাই রক্ষা করে। বৈশ্বিক উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে ভারত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক রিপোর্ট এই কথার প্রমাণ যে বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এশিয়া, বিশেষ করে ভারত এবং চীনের হাতে। আইএমএফের মতে, 2026 সালে বৈশ্বিক প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধিতে ভারতের অবদান প্রায় 17 শতাংশ থাকার আশা করা হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানটি সেই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত যা গত এক দশকে ভারতে ঘটেছে। আজ ভারত বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান বৃহৎ অর্থনীতি হয়ে উঠেছে। আইএমএফ 2025 সালের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার 7.3 শতাংশে উন্নীত করেছে, যখন পরবর্তী অর্থবছরের জন্যও 6.4 শতাংশের শক্তিশালী বৃদ্ধির হার অনুমান করা হয়েছে। এর বিপরীতে, আমেরিকার অবদান প্রায় 9.9 শতাংশ থাকার আশা করা হচ্ছে, যখন অনেক ইউরোপীয় অর্থনীতি ধীর বৃদ্ধি নিয়ে সংগ্রাম করছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ভারতের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। জনসংখ্যার চাপ নয়, উন্নয়নের সুযোগ ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করার সময় প্রায়শই জনসংখ্যাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এটি সত্য যে ভারতের জনসংখ্যা অনেক বড়, কিন্তু এটিও ততটাই সত্য যে এই জনসংখ্যাই ভারতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তিও। আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম তরুণ কর্মীবাহিনী ধারণকারী দেশ। এই তরুণ জনসংখ্যা উৎপাদন,ব্যবহার এবং উদ্ভাবন এই তিনটি ক্ষেত্রে নতুন শক্তি যোগান দিচ্ছে। ভারতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ এবং পরিষেবা খাতের দ্রুত বর্ধনশীল কার্যকলাপ কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন পথ খুলে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলিও চীনের পর এখন ভারতকে তাদের নতুন উৎপাদন কেন্দ্র হিসাবে দেখছে। “চীন প্লাস ওয়ান” কৌশলের অধীনে অনেক বহুজাতিক সংস্থা ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে ভারতের স্থিতিশীল ভাবমূর্তি। বৈশ্বিক সংকটের সময়ে বিনিয়োগকারীরা সর্বদা এমন দেশগুলির সন্ধান করেন যেখানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। ভারত এই মুহূর্তে সেই শ্রেণীতে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হয়। বিশ্বের অনেক রেটিং এজেন্সি এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্রমাগত এই বিষয়টি নিশ্চিত করছে যে ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত। পরিকাঠামোতে দ্রুত বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করেছে। এই কারণেই বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিদেশী বিনিয়োগ ভারতের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। তবে এটি বলাও ভুল হবে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত ভারতকে একেবারেই প্রভাবিত করবে না। তেলের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং আর্থিক বাজারে অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, কিন্তু ভারতের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই চ্যালেঞ্জগুলি বুঝে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরবিআই-এর সতর্ক নীতি, সরকারের শক্তি কৌশল এবং শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভারতকে এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি সেই পরিপক্কতা যা একটি অর্থনীতিকে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও স্থিতিশীল রাখে। আজ উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তেল বাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। শক্তিশালী নীতি, সক্রিয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বৈচিত্র্যময় শক্তির উৎস, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং তরুণ কর্মীবাহিনী – এই সমস্ত কারণ ভারতকে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়। তাই এটি আতঙ্কিত হওয়ার সময় নয়, বরং সতর্কতা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যাওয়ার সময়।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটই লক্ষ্য, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না : জ্ঞানেশ কুমার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটই লক্ষ্য, জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ (ফুল) বেঞ্চের তিন দিনের রাজ্য সফর শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। এদিন দুপুরে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেন জ্ঞানেশ কুমার। জ্ঞানেশ জানালেন, বুথ বা ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে ভিতরে ঢুকতে পারবেন ভোটাররা। কোনও বুথে ১২০০-র উপর ভোটার থাকবে না বলে জানালেন জ্ঞানেশ কুমার। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ভোটকেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানালেন জ্ঞানেশ কুমার।পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে, তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন, জানালেন জ্ঞানেশ।
ভারতীয় দল পরাক্রম ও দক্ষতা দিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করেছে
সকাল সকাল ডেস্ক -আচার্য পন্ডিত পৃথ্বীনাথ পান্ডে ৮ই মার্চের তারিখটি ভারতীয় ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে দেশকে গর্বিত করার মতো ছিল এবং সবার চোখ সন্ধ্যা ৭টায় গুজরাটের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পিচে স্থির ছিল। সমস্ত জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, যখন ভারত টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একতরফা মনে হওয়া ম্যাচে ৯৬ রানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ চুম্বন করে, তখন যেন ঘড়িও কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিল। অভিষেক শর্মার ধারাবাহিক ব্যর্থতা দেখে, তাকে ফাইনালে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল; অবশেষে, তাকে সুযোগ দেওয়া হয় এবং তিনি অতীতের পৃষ্ঠাগুলিকে উপেক্ষা করে, এমন একটি পৃষ্ঠায় তার পরাক্রম ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, যা অবিস্মরণীয় হয়ে গেছে এবং স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার হয়েছে যে প্রথম তিনজন ব্যাটার অর্ধশতক করেছেন। শুধু তাই নয়, পাওয়ার-প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রানের স্কোর করাও একটি রেকর্ড হয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ড টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা কিছুটা সঠিক মনে হচ্ছিল না। ভারতীয় দল এই সুযোগটি লুফে নেয়। যখন সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং ঈশান কিষাণ ব্যাটিং করছিলেন, তখন বোলিং খুব সাধারণ মানের মনে হচ্ছিল। শুরুর এক-দু’ওভার পর্যন্ত ভারতীয় ব্যাটাররা বলের প্রকৃতি বুঝেছিলেন, তারপর তাদের মেজাজ বদলে যায় এবং ছক্কা-চার দিয়ে দর্শক ও শ্রোতাদের প্রচুর মনোরঞ্জন হতে থাকে। সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ এবং শিবম দুবের ব্যাটের কামাল ছিল যে ভারতীয় দলের স্কোর ২৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এক সময় এমনও ছিল, যখন ভারতের স্কোর প্রায় ৩০০ রান দেখাচ্ছিল। চারজনই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন, যখন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এসে একটি বেপরোয়া শট খেলে ভারতকে প্রায় ৫০ রান পিছিয়ে দেন; কারণ এরপর ‘আয়া রাম-গয়া রাম’-এর দৃশ্য দেখা যেতে থাকে। ১৬তম ওভারে ২০৪ রানের মাথায় ভারতের ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। বোঝা যাচ্ছিল না যে নিউজিল্যান্ডের বোলার নিশাম ভারতীয় ব্যাটারদের উপর কোন জাদু করেছেন, যে হঠাৎ একের পর এক তিনটি উইকেট – সঞ্জু স্যামসন, ঈশান এবং সূর্যকুমার যাদবের পড়তে থাকে। এরপর একই স্কোরে ডাফির বলে হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যাচ পড়েছিল। তিনজনই অপ্রয়োজনীয় শট খেলেছিলেন। একটু থমকে যাওয়া উচিত ছিল কারণ রান তো হচ্ছিলই। সঞ্জু স্যামসনও তার আগের স্টাইলে ফাইনালেও অর্ধশতকীয় ইনিংস (৪৬ বলে ৮৯ রান) খেলেছিলেন। অভিষেক ২১ বলে অর্ধশতক করেছিলেন। ঈশানও অর্ধশতক (২৫ বলে ৫৪ রান) করে তার যোগ্যতা প্রমাণ ও দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তিনজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ফলস্বরূপই ভারতীয় দলের স্কোর সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল, যা কেউ আশা পর্যন্ত করেনি। হার্দিককে আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স করার জন্য আগেই পাঠানো হয়েছিল; কিন্তু তিনি নিষ্ক্রিয় দেখাচ্ছিলেন, যার ফলস্বরূপ শেষ ১৪ বলে তিন উইকেট হারিয়ে মাত্র ৯ রান হয়। যে স্কোর ৩০০ রান পর্যন্ত দেখাচ্ছিল, তা পুরোপুরি সংকুচিত হয়ে যায়। তিনজনের আউট হওয়ার সাথে সাথেই রানের জন্য হাহাকার দেখা যেতে থাকে। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ১৫তম ওভার থেকে রানের উপর লাগাম টেনে ধরেছিল। এক সময় ছিল, যখন ভারতীয় দলের রান-গড় ১৫-১৬ ছিল। বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন দেখা যাচ্ছিল। তিনজনের সংযত থাকা উচিত ছিল; কিন্তু তারা বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল। হেনরি হার্দিককে আউট করে দিয়েছিলেন। বোলাররা ইয়র্কার থেকে দূরে থেকে বলের উপর নানাভাবে আঙুল ঘুরিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন। গত চার ওভারে (১৬ থেকে ১৯) মাত্র ২৮ রান এসেছিল। এবার শিবম দুবের পালা ছিল, যিনি শেষ ওভারে চার বলে ২৪ রান (দুটি ছক্কা এবং তিনটি চার) করে ভারতকে ২৫৫ রানে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যা গত চার ওভার আগে করা খুব কঠিন মনে হচ্ছিল। এইভাবে শিবম মাত্র ৮ বলে অপরাজিত ২৬ রান করে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন। নিঃসন্দেহে, ভারত ২৫৫ রানের স্কোর করে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শুরু হয়ে গিয়েছিল। ভারতীয় বোলাররা তাদের উপর কার্যকর দেখাচ্ছিলেন। ভারতীয় দল তখন জোরদার ধাক্কা খেয়েছিল যখন আর্শদীপ সিংয়ের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে শিবম দুবে সাইফার্টের একটি সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। সাইফার্ট বিপজ্জনক ব্যাটার, যাদের জীবনদানের ফলস্বরূপ সাইফার্ট হার্দিক পান্ডিয়ার বলে পরপর দুটি ছক্কা মেরেছিলেন। হার্দিকের প্রথম ওভারে ২১ রান করে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা, বিশেষ করে সাইফার্ট তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। অ্যালেন যে ব্যাট দিয়ে আকর্ষণীয় পারফরম্যান্স করছিলেন,সেটি পরিবর্তন করে অন্য একটি ব্যাট নিলেন এবং অক্ষর প্যাটেলের পরের বলেই তিলক বর্মার হাতে ক্যাচ তুলে দিলেন। যে রচিন রবীন্দ্র উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত, প্রথম উইকেট পতনের পর এলেন; কিন্তু জসপ্রীত বুমরাহর প্রথম বলেই তার জোরালো ক্যাচ লং-অনে দাঁড়ানো ঈশান কিষাণ লুফে নিলেন, যদিও বলটি ছিটকে গিয়েছিল তবুও ঈশান দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সেটি ধরে ফেললেন। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে অক্ষর প্যাটেল বিপজ্জনক দেখা ফিলিপসকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখিয়ে দিলেন। ‘পাওয়ার-প্লে’তে প্রচুর রান করা এবং উইকেট বাঁচিয়ে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু নিউজিল্যান্ড পাওয়ার-প্লেতে ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। তাদের পাওয়ার-প্লেতে ৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সাইফার্টের ক্যাচ ছাড়াটা ব্যয়বহুল প্রমাণিত হলো; কারণ সাইফার্ট মাত্র ২৩ বলে ৫০ রান করেছিলেন। হার্দিক পান্ডিয়া ব্যাটিংয়ে তেমন কিছু করতে পারেননি; কিন্তু তিনি চ্যাপম্যানকে ক্লিন বোল্ড করে দিয়েছিলেন; যদিও তার প্রথম ওভারটি খুব ব্যয়বহুল ছিল। নিজের প্রথম ওভারে ১৫ রান দেওয়া বরুণ চক্রবর্তীও ব্যয়বহুল ছিলেন; কিন্তু তিনিও আক্রমণাত্মক দেখা সাইফার্টকে ঈশান কিষাণের হাতে ক্যাচ করিয়ে মূল্যবান উইকেট নিয়েছিলেন। এভাবে নিউজিল্যান্ডের অর্ধেক ব্যাটসম্যান ৯ ওভারের খেলায় ৮৩ রানের স্কোরে প্যাভিলিয়নে পৌঁছে গিয়েছিল। যখন নিউজিল্যান্ডের পাঁচটি উইকেট পড়ে গিয়েছিল তখন টিভি স্ক্রিনে মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মা, কপিল দেব এবং জয় শাহের মুখ দেখানো হয়েছিল। একাদশ ওভারের পঞ্চম বলে সেই অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখা গেল, যখন ড্যারিক মিচেলের ব্যাটিং করার সময় তার শট মারার পর অর্শদীপ অফ স্টাম্পে দাঁড়ানো মিচেলের দিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দ্রুত বল ছুঁড়লেন, যা নিয়ে মিচেল আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, তারপর ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং অর্শদীপ মিচেলের সাথে হাত মিলিয়ে বিতর্ক শান্ত করলেন। যখন নিউজিল্যান্ডের মহারথীরা ‘আয়ারাম-গয়ারাম’-এর ভূমিকায় দেখাচ্ছিলেন তখন অধিনায়ক স্যান্টনার অধিনায়কোচিত ইনিংস খেললেন; কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ত্রয়োদশ ওভারটি খুব রোমাঞ্চকর ছিল, যেখানে অক্ষরের প্রথম বলে হার্দিক ড্যারিক মিচেলের একটি সহজ ক্যাচ ছাড়লেন এবং দ্বিতীয় বলে একটি খারাপ ফিল্ডিং করে চার রান দিলেন; কিন্তু ঈশান কিষাণ ছাড়লেন না। তিনি অক্ষরের বলে মিচেলের ক্যাচ লুফে নিলেন। অক্ষর প্যাটেলের বোলিং দুর্দান্ত ছিল, যিনি তিন ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। এভাবে উনিশতম ওভারে নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল এবং ভারতীয় দল নিজেদের দেশে প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার দিকে অগ্রসর দেখাচ্ছিল। ষোড়শ ওভারের তৃতীয় বলে জসপ্রীত বুমরাহ সপ্তম উইকেট হিসেবে নিশামকে এবং চতুর্থ বলে ম্যাথিউ হেনরিকে ইয়র্কার করে ভারতের জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন। সেই নিশামই ছিলেন, যিনি তিনটি আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স করা ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে পরপর আউট করেছিলেন। এভাবে নিউজিল্যান্ড সপ্তদশ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৩ রান করেছিল। উনিশতম ওভারে নিউজিল্যান্ডের ৯ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। অবশেষে নিউজিল্যান্ড উনিশতম ওভারে মাত্র ১৫৯ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল এবং ভারত পরপর দুবার বিশ্বকাপ জেতা বিশ্বের প্রথম দেশ হয়ে গিয়েছিল; তবে এখন তৃতীয়বার (২০০৭, ২০২৪ এবং ২০২৬
নারী মুক্তি আন্দোলনঃ মানব সমাজ সংরচনার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ
সকাল সকাল ডেস্কমনোতোষ মণ্ডল, বোকারো আমাদের সমাজ — মানুষের সমাজ। বস্তুতঃ নারী ও পুরুষের সম্মিলিত সমাজ। বাস্তবে নারী ও পুরুষ দুটো ভিন্ন সত্ত্বা নয় — একই সত্ত্বার দুটো দিক। যেমন, একটি কাগজের দুটো পৃষ্ঠাই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি মানব সমাজ নির্মাণকল্পে নারী ও পুরুষ উভয়েরই ভূমিকা সমভাবে প্রযোজ্য। অতএব সুষ্ঠু সমাজ সংরচনার ক্ষেত্রে কেউ অবজ্ঞেয় নয়, কেউ অপাংক্তেয় নয়। সুতরাং সামাজিক উন্নয়ন কল্পে নারী ও পুরুষ উভয়কেই হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই মানব সমাজ — মানব সমাজ রূপে পরিগণিত হতে পারবে। বাস্তব সত্য এই যে, নারী ও পুরুষ কেউ কারো উপর নির্ভরশীল নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা সম্বন্ধে আলোচনা প্রসঙ্গে বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন — ” মানুষের সমাজে কেউ অপাংক্তেয় নয়। একজন এক ‘শ বছরের অতি বৃদ্ধা বিধবা মহিলা তারও জীবনের মূল্য অপরিসীম। এই বিশ্ব সভায় সেও বর্জনীয় নয়, সেও তুচ্ছ নয়। আমরা তার সার্বিক মূল্যায়ন করতে পারিনি বলে ভাবি সে বুঝি পৃথিবীর বোঝা। এরকম ভাবাটাই আমাদের বুদ্ধির অল্পতার কারণ।”অতএব উপরোক্ত বক্তব্যটি থেকে এটাই স্পষ্ট যে, নারী রূপে জন্মগ্রহণ করাটা তার জন্য মোটেই অপরাধের বিষয় নয়, আসল কথাটা হচ্ছে এই যে, তাঁর যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে আমরা পারি না আর তাছাড়া সমাজের উন্নয়নে তাঁর কষ্টার্জিত ভূমিকাকে মোটেই সমর্থন করতে চাই না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে গিয়ে পুরুষ জাতি সর্বদাই নারী জাতির প্রগতিপথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে এসেছে। কারণ একটাই — তাঁরা যেন কোনো মতেই দক্ষতার ক্ষেত্রে এগিয়ে না যায়। আমরা অবশ্যই ভূলে যাই যে, নারী ও পুরুষ একই পরমপিতার সন্তান। অতএব মহান সমাজ শাস্ত্রবিদ্ শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন — ” প্রকৃতির সন্তান হিসেবে যে আলো, হাওয়া, মাটি, জল পুরুষের ভোগ্য হিসেবে থাকে, তার অধিকার অবাধভাবে নারীর ক্ষেত্রেও স্বীকার করে নিতে হবে।” অতএব জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁদেরকেও এগিয়ে যাবার সমান সুযোগ ও অবসর প্রদান করতে হবে। আর এটাই হবে মানুষ হিসেবে আমাদের একান্ত দায়িত্ব।একটা কথা অবশ্যই স্মরণীয় যে, নারী ও পুরুষ উভয়েই পরমপিতার সন্তান। তিনি উভয়কেই শক্তি, সামর্থ্য ও বুদ্ধি সমানভাবেই দিয়েছেন। কিন্তু সেই শক্তি ও সামর্থ্যের যথাযথ উপযোগ না করার জন্য আমরাই দায়ী। সুতরাং জীবনযুদ্ধে মানুষ তাঁর অন্তর্নিহিত গুণাবলীর উৎকর্ষ সাধনে, যিনি যত বেশি সচেষ্ট, তিনি তত বেশি কাজে লাগাতে পারবেন ও তত বেশি সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। কারণ এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। অতএব প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিটি বস্তুর উপর সবারই সমান অধিকার আর প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিটি সম্পদের যথোচিত ও বিচার সমর্থিত প্রয়োগ করাই আমাদের পবিত্র কর্তব্য।যদিও প্রাকৃতিক নিয়মে নারী ও পুরুষ উভয়েই একই পরমসত্ত্বার অবদান, তবুও বাস্তব ক্ষেত্রে নারী জাতি পুরুষের দ্বারা সর্বৈবভাবেই অবহেলিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত ও অবদমিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যধিক পরিমাণে নির্যাতীতাও বটে। সুষ্ঠু ও বলিষ্ঠ সমাজ নির্মণকল্পে এটাই হচ্ছে — সবচেয়ে বড় বাধা। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থাৎ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় আমরা নারী জাতিকে পরান্নভোজী ও পরমুখাপেক্ষী করে রাখাটাকেই — আমাদের সর্বাধিক সফলতা মনে করি যা সমাজ সংরচনার ক্ষেত্রে মস্ত বড় বাধা।আমাদের সবচেয়ে বড় দোষ — মহিলাদেরকে আমরা সব সময় রান্না ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বেঁধে রাখার চেষ্টা করি। আর এটাকেই নারীর মর্যাদা রক্ষার সাথে সাথে পুরুষের পৌরুষ প্রদর্শন মনে করি। নারী সমাজকে অবদমিত ও অবহেলিত রেখেই আমরা আমাদের পুরুষত্ব জাহির করতে অভ্যস্ত। এর পিছনে দুটো মূখ্য কারণ — এক, নারীর শারীরিক দুর্বলতা ও দুই, তাঁদের আর্থিক পরনির্ভরতা ও সকল কাজে পরমুখাপেক্ষিতা। সুতরাং সামাজিক অগ্রগতির পথ নির্বাধ করার নিমিত্তে নারী জাতিকে অবশ্যই আত্মনির্ভরশীল করার জন্য আমাদেরকেই সচেষ্ট হতে হবে। আর এটাই হবে সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের প্রকৃষ্ট ভূমিকা।একথা অবশ্যই অতি সত্য যে, শারীরিক সংরচনার ক্ষেত্রে নারী জাতি অনেকটাই দুর্বল। কারণ প্রতিটি জীবের ক্ষেত্রেই এটা স্বাভাবিক ভাবেই পরিলক্ষিত। স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে তাঁরা মনের দিক দিয়েও অনেকটা দুর্বল। তাই নারীরা অতি সহজেই পুরুষদের পদতলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। আর তাঁদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই পুরুষ সমাজ নারীদেরকে বস্তুর ন্যায় ব্যবহার করে এসেছে। এটাই অবশ্যই বিবেকসম্মত সুবিবেচনা নয় — এটা স্পষ্টভাবেই অবিবেকিতা। এক কথায় দুর্বলের প্রতি সবলের শোষণ যন্ত্র। যেহেতু কোনো রকম শোষণকেই প্রশ্রয় দেওয়া অমানবিকতা, সুতরাং নারী জাতির অবমাননাও এক ধরণের পাশবিকতা, মানবতা নয়। মানুষ হিসেবে আমাদের একান্ত উচিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়া। কাউকে পিছনে রেখে এগিয়ে যাওয়া যায় না। তাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন —” যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে,পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।”সুতরাং মানুষ হিসেবে আমাদের ধর্ম — অগ্রসরের ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। কারণ সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে চলার মধ্যেই সামাজিক সার্থকতা বিদ্যমান। সহযাত্রীদের মধ্যে কেউ যদি যাত্রাপথে পিছিয়ে পড়ে, গভীর রাতের ঘনতমসায় দমকা হাওয়ায় যদি কারো দীপ নিভে যায়, তবে তাঁকে অন্ধকারের মধ্যে একলাটি ছেড়ে চলে যাওয়াটা মোটেই মানবোচিত কাজ বলে বিবেচিত হবে না। তাই তাঁকেও হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াতেই মানবতা পরিলক্ষিত হয়। সহযাত্রীদের একান্ত উচিত — নিজের প্রদীপের আলোয় সহযাত্রীর নিভে যাওয়া দীপশিখাটি পুনরায় প্রজ্জ্বলিত করে দেওয়া। এই কথা মনে রেখেই জনৈক কবি লিখেছেন:–” বর্তিকা লইয়া হাতে, চলেছিল একসাথে,পথে নিভে গেছে আলো, পড়ে আছে তাই।তোমরা কি দয়া করে, তুলিবে না হাত ধরেঅর্ধদণ্ড তার তরে থামিবে না ভাই?হ্যাঁ, অবশ্যই থামতে হবে। কারণ তা না করলে সমাজের মিলন সূত্রটি হারিয়ে যাবে। অতএব সব সময় একটা কথা অবশ্যই স্মরণীয় —সমমন্ত্রেণ জায়তে সমাজঃঅর্থাৎ এক সাথে মিলে মিশে যাওয়ার নাম — সমাজ। সুতরাং পিছিয়ে পড়া মানুষটিকেও এক সঙ্গে টেনে নিয়ে যাওয়াই, সামাজিক বন্ধন রক্ষা করার — সঞ্জীবনী শক্তি। সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে মহান দার্শনিক ও সমাজবেত্তা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন —“তাই পাপী, তাপী, চোর, চরিত্রহীন, অপরাধী — যে কেউ হোক না কেন, এগুলো তার বাইরের পরিচয়। ভেতরে সে পবিত্র হওয়ার সম্ভাবনায় ভরপুর। সেই সম্ভাবনার উদ্বোধন করাই সদবিপ্রদের ব্রত। তারা মানবিক মূল্য প্রদানে কখনও বাছ-বিচার করবে না। অতি ঘৃণ্য কাজ করার জন্য শাস্তি তার নিশ্চয়ই হবে কিন্তু তাকে ঘৃণা করে, না খেতে দিয়ে শুকিয়ে মেরে ফেলা মানবতাবাদী সদবিপ্রদের দ্বারা কখনও হয়ে উঠবে না। “অতএব তিনিই সদ্বিপ্র যিনি উচ্চ-নীচ, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসতে পারেন। এতদর্থে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কারণ তিনি সমাজবর্জিত রোগগ্রস্ত যবন হরিদাসকে নিজের হাতে সেবা করে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখেছেন। অতএব শ্রী চৈতন্যদেবকে সম্মান প্রদর্শন করার একটাই মহামন্ত্র:–“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।”যেহেতু নারী-পুরুষ দুইই পরমপিতার স্নেহের সন্তান, অতএব জীবনের অভিব্যক্তি ও স্বাধিকারের ক্ষেত্রে উভয়েরই সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকার থাকা একান্ত প্রয়োজন। কারণ সুদৃঢ় সামাজিক সংরচনার ক্ষেত্রে উভয়েরই ভূমিকা সমভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নারীদের মধ্যেও সম্ভাবনার কোন অভাব নেই। কিন্তু যথোচিত পরিবেশের অভাবে নারীদের মধ্যে নিহিত সম্ভাবনা সমূহ প্রস্ফুটিত হবার সুযোগ পায় না। বরং প্রস্ফুটিত হবার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং প্রবুদ্ধ পুরুষ জাতির একান্ত
সত্যের জয় হয়েছে, আবগারি মামলায় আদালতে অব্যাহতি মেলার পর প্রতিক্রিয়া কেজরিওয়ালের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আম আদমি পার্টির প্রথম সারির নেতা মণীশ সিসোদিয়াকে অব্যাহতি দিল দিল্লির আদালত। কোনও তথ্য ছাড়াই তাঁদের ওই মামলায় জড়ানোর জন্য সিবিআইকে তিরস্কার করেছে আদালত। বিচারক জানিয়েছেন, চার্জশিটে অনেক ত্রুটি রয়েছে। অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও সাক্ষী বা বিবৃতিতে মত পাওয়া যায়নি। এ দিন আদালতের রায় শোনার পরে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের চোখে জল। তিনি বলেন, জীবনভর শুধু সততাই অর্জন করেছি। সত্য সবসময় সামনে আসে। আমি আদালতকে ধন্যবাদ জানাব আমাদের সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য। তাঁর নাম এই মামলায় জড়ানোর বিষয়টিকে তিনি দেশের সবথেকে বড় রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। দলের পাঁচ বড় নেতাকে জেলে ঢুকিয়ে আম আদমি পার্টিকে ধ্বংস করার জন্য এই ফাঁদ পাতা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। কেজরিওয়াল বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আবগারি কেলেঙ্কারি নিয়ে বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। আজ আদালত সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে এবং সমস্ত অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমাদের বিচার বিভাগের উপর আস্থা আছে| সত্যের জয় হয়েছে| দলকে শেষ করার চেষ্টায় সমস্ত শীর্ষস্তরের আম আদমি পার্টির নেতাদের জেলে পাঠানো হয়েছিল, এই পুরো মামলাটি বানানো হয়েছিল, আমি আমার জীবনে কেবল সততা অর্জন করেছি, ভালো কাজ করে ক্ষমতায় এসেছি, কিন্তু মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের জেলে পাঠানো শোভা পায় না। উল্লেখ্য, আবগারি দুর্নীতি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোসিয়া, দুই জনেই গ্রেফতার হয়ে জেলে বন্দি ছিলেন। পরে তাঁরা জামিনে ছাড়া পান।
টাটা–বক্সার–টাটা হোলি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল কর্তৃপক্ষ, যাত্রীদের মিলবে অতিরিক্ত স্বস্তি
সকাল সকাল ডেস্ক পূর্ব সিংভূম : হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে ঝাড়খণ্ডের টাটানগর ও বক্সারের মধ্যে হোলি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ০৮১৮৩/০৮১৮৪ নম্বরের এই টাটা–বক্সার–টাটা হোলি স্পেশাল টিওডি ট্রেনটি উভয় দিকেই পাঁচ-পাঁচটি ট্রিপ করবে। শুক্রবার রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, ট্রেন নম্বর ০৮১৮৩ টাটা–বক্সার হোলি স্পেশাল আগামী ৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতি মঙ্গলবার টাটানগর থেকে ছাড়বে। অপরদিকে, ট্রেন নম্বর ০৮১৮৪ বক্সার–টাটা হোলি স্পেশাল ৪ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রতি বুধবার বক্সার থেকে যাত্রা করবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, টাটা–বক্সার হোলি স্পেশাল ট্রেনটি সন্ধ্যা ৫টা ১০ মিনিটে টাটানগর থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে বক্সারে পৌঁছাবে। ফেরার পথে বক্সার–টাটা স্পেশাল ট্রেনটি দুপুর ১২টায় বক্সার থেকে ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে টাটানগরে পৌঁছাবে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোলির সময় ঝাড়খণ্ড ও বিহারের মধ্যে যাত্রী চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের সুবিধাজনক যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের আগাম সংরক্ষণ করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সীমানার ওপারে সাইবার অপরাধের মোকাবিলা
সকাল সকাল ডেস্ক চার্বী অরোরা (মার্কিন দূতাবাস, নয়াদিল্লি) অপরাধীরা ফোন কল, মেসেজ এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করে সরকারি সংস্থা ও ব্যবসার ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং হাজার হাজার মাইল দূর থেকেও ভুক্তভোগীদের অর্থ বা সংবেদনশীল তথ্য দিতে প্রতারিত করে। যেহেতু এই সাইবার-সক্ষম জালিয়াতি নেটওয়ার্কগুলি আমেরিকানদের দ্রুত লক্ষ্যবস্তু করছে, তাই আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা লাইন হয়ে উঠেছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-এর লিগ্যাল অ্যাটাশে সুহেল দাউদ বলেন যে এই নেটওয়ার্কগুলির মোকাবিলা ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের উপর নির্ভর করে। “এফবিআই প্রতিষ্ঠিত আইনি ও অপারেশনাল অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।” তিনি বলেন। “আমাদের সহযোগিতায় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ তদন্ত সমন্বয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান অন্তর্ভুক্ত।” একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি এফবিআই-এর ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টার (আইসি3)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী 2024 সালে সাইবার-সক্ষম অপরাধ এবং জালিয়াতি থেকে ক্ষতির পরিমাণ 16.6 বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় 33 শতাংশ বেশি। যেহেতু অপরাধীরা আরও অবৈধ লাভ অর্জন করে, তারা তাদের কার্যক্রম সীমানা পেরিয়ে প্রসারিত করে। প্রযুক্তি এই বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। দাউদ ব্যাখ্যা করেন, “তারা নতুন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সমসাময়িক ঘটনা ব্যবহার করে জালিয়াতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।” আজ কিছু প্রতারক ভুক্তভোগীদের ঠকাতে এআই ব্যবহার করে নকল ছবি, ইমেল এবং ভয়েস তৈরি করে। তারা জোর দিয়ে বলেন, “এটি কোনো সামান্য সমস্যা নয়, এটি ডিজিটাল ক্ষেত্রে পরিচালিত সংগঠিত অপরাধ।” জালিয়াতি নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস অনেক সাইবার জালিয়াতি পরিকল্পনা সংগঠিত বিদেশী কল সেন্টার থেকে পরিচালিত হয়। কিছু তো যোগাযোগ তালিকা কেনা বা নকল ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কোম্পানিগুলিকে কাজ দেওয়ার মতো পরিষেবাগুলির “চুক্তি”ও করে। যেহেতু ভুক্তভোগী, প্রমাণ এবং অপরাধী প্রায়শই একাধিক দেশে ছড়িয়ে থাকে, তাই তদন্তের জন্য ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। দাউদ একটি সাধারণ মামলার উদাহরণ দেন: “ভারতে একটি কল সেন্টার ধরা পড়ে কিন্তু ভুক্তভোগীরা মার্কিন নাগরিক এবং আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র আমেরিকায় থাকে। ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এফবিআই-এর সাথে যোগাযোগ করে এবং এফবিআই ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করে ভারতীয় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এফবিআই ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রমাণের আর্থিক শৃঙ্খল সম্পূর্ণ করতেও সাহায্য করে কারণ ক্ষতি আমেরিকায় হয়েছিল।” এই সহযোগিতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। দাউদ বলেন, “এই প্রমাণ এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নিশ্চিত করে যে ভারতে কল সেন্টার পরিচালকদের আদালতে জবাবদিহি করা হয়। এই সহযোগিতা ছাড়া মামলার বিচার সম্ভব নয়।” সাম্প্রতিক একটি সাফল্য আমেরিকা-ভারত সহযোগিতার প্রভাবকে তুলে ধরে। এফবিআই বাল্টিমোর ফিল্ড অফিস, মন্টগোমেরি কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এবং মন্টগোমেরি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নি অফিস দ্বারা পরিচালিত যৌথ তদন্ত মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা এবং শত শত অন্যান্য আমেরিকানদের লক্ষ্য করে জালিয়াতি পরিকল্পনাগুলিকে ভারতে সংগঠিত প্রতারক কল সেন্টার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) ডিসেম্বর 2025 সালে এই কল সেন্টারগুলিকে ভেঙে দেয় এবং প্রায় 5 কোটি ডলার চুরির জন্য দায়ী অপরাধী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বদানকারী ছয় ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। দাউদ বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে এমন সাফল্যের অনেক উদাহরণ রয়েছে। এই সবই এফবিআই এবং ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অংশীদার হিসেবে হাতে হাত রেখে কাজ করার ফলে সম্ভব হয়েছে।” ব্যক্তিগত মামলার বাইরে, এই প্রচেষ্টাগুলি দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত ঘটায়, অপরাধী বাস্তুতন্ত্রকে দুর্বল করে—আর্থিক চ্যানেল, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং নিয়োগ পাইপলাইনগুলিকে কেটে দেয় যা জালিয়াতি অভিযানগুলিকে টিকিয়ে রাখে। সচেতনতা কেন গুরুত্বপূর্ণ সাইবার জালিয়াতি সব বয়স এবং পটভূমির মানুষকে প্রভাবিত করে। দাউদ ব্যাখ্যা করেন যে “একটি সাধারণ ভুল ধারণা হল যে সাইবার জালিয়াতি কেবল তাদেরকেই লক্ষ্য করে যারা প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ নয়, লোকেরা প্রায়শই মনে করে যে তারা কখনও প্রতারণার শিকার হবে না। এই প্রতারণাগুলি মানব মনোবিজ্ঞানের শোষণ করে, প্রযুক্তিগত দুর্বলতার নয়।” সাইবার জালিয়াতি কোনো ভুক্তভোগী-বিহীন অপরাধ নয়। এটি অবসরপ্রাপ্তদের,”পরিবার এবং ছোট ব্যবসাগুলিকে প্রভাবিত করে। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক প্রভাব আর্থিক ক্ষতির সমান হয়। দাউদ বলেন, “সচেতনতা আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষাগুলির মধ্যে একটি, সামান্য সতর্কতাও মানুষকে প্রতারণা চিনতে এবং আর্থিক বা মানসিক ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করতে পারে। প্রতারণার রিপোর্ট করাও গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি যদি অর্থ ইতিমধ্যেই হারিয়ে যায়, রিপোর্ট করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্যাটার্ন চিনতে এবং অপরাধী নেটওয়ার্কগুলিকে ব্যাহত করতে সাহায্য করে।” প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হয় এবং ক্রমাগত মিথস্ক্রিয়া নিশ্চিত করে যে তদন্তকারীরা অপরাধমূলক কৌশলগুলির থেকে এগিয়ে থাকে। এই অংশীদারিত্ব কেবল আলাদা আলাদা মামলা সমাধানের বিষয়ে নয় বরং টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি নির্মাণের বিষয়ে।
মোদী সরকার দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর : অমিত শাহ
সকাল সকাল ডেস্ক আরারিয়া : নরেন্দ্র মোদী সরকার দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর, জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার বিহারের আরারিয়ায় এক জনসভায় অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্তির অর্থ কেবল ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম মুছে ফেলা নয়। আমরা ভারতীয় মাটি থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে অপসারণের জন্য একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নরেন্দ্র মোদী সরকার সমগ্র দেশকে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর এবং এই উদ্যোগ শীঘ্রই সমগ্র সীমান্ত অঞ্চলে শুরু হবে।” অমিত শাহ আরও বলেন, “আজ ভারতের বিপ্লবী বীর সাভারকরের মৃত্যুবার্ষিকী। বীর সাভারকর কেবল স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন অতুলনীয় যোদ্ধা ছিলেন না, বরং একজন নির্ভীক দেশপ্রেমিকও ছিলেন যার কলমে ছিল অপরিসীম শক্তি। তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে দেশপ্রেমের এক ঢেউ জাগিয়েছিলেন এবং মৌলিক নীতিগুলির প্রতিফলনকারী একজন নেতা ছিলেন। অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, ভাষার শুদ্ধিকরণ, অথবা বিশুদ্ধ জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক না কেন, বীর সাভারকর এই সকলের জন্য প্রচুর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখেছিলেন। আজ, সমগ্র দেশের পক্ষ থেকে, আমি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর সাভারকরকে আমার আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে চাই।”
সাইবার জালিয়াতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে : অশ্বিনী বৈষ্ণব
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, যার মুখ, কণ্ঠস্বর বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে, তার সম্মতি ছাড়া সিন্থেটিক কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত নয়। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন দিল্লিতে এক কনক্লেভে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের দ্বারা হোস্ট করা কন্টেন্টের দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি আরও বলেন যে, নাগরিক এবং শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্ব। বৈষ্ণব বলেন, সাইবার জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক অতীতে সরকার প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ করেছে এবং স্পষ্টভাবে বলেছে, অনলাইনে নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন অবৈধ কাজ প্রচার বা অপরাধ সংঘটনের জন্য ব্যবহৃত না হয়। মন্ত্রী প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের রাজস্ব বণ্টন নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ সমাজ এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তিনি আরও বলেন, প্ল্যাটফর্মগুলিকে অবশ্যই কন্টেন্ট তৈরি করা ব্যক্তিদের সঙ্গে ন্যায্যভাবে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হবে।
শোক থেকে শক্তিতে উত্তরণ: মানভূমের নারী জাগরণের রূপকার নিভা দেবী
সকাল সকাল ডেস্ক দেবরাজ মাহাতোবাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে নারী শিক্ষা এক দীর্ঘ সংগ্রামের নাম। ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণ থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এই যাত্রাপথে বহু মহীয়সী নারী নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইতিহাসে সুপরিচিত, কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যাঁরা নিভৃতে থেকে একটি জনপদের অন্ধকার দূর করেছেন। পুরুলিয়ার শিক্ষা মানচিত্রে তেমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন শ্রীমতী নিভা রায়চৌধুরী। ছাত্রছাত্রী ও সহকর্মীদের প্রিয় ‘বড়দিমণি’ কেবল একজন শিক্ষিকা ছিলেন না; তিনি ছিলেন রুক্ষ মানভূমের মাটিতে নারী শিক্ষার বীজ বপনকারী এক দূরদর্শী কারিগর।নিভা রায়চৌধুরীর জন্ম ১৯২০ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ঢাকার প্রখ্যাত কাশীপুর জমিদার বাড়িতে। সেই সময়ে জমিদারি আভিজাত্যের সমান্তরালে তাঁদের পরিবারে শিক্ষার এক গভীর ধারা প্রবাহিত ছিল।তাঁর মাতামহ বংশের ইতিহাসও ছিল সমান গৌরবান্বিত। কলকাতার ভবানীপুরের বিখ্যাত ‘মজুমদার বাড়ি’ ছিল তাঁর মামার বাড়ি। নিভা দেবীর মা ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী স্নাতকদের মধ্যে অন্যতম এবং হাইকোর্টের প্রথম ভারতীয় বিচারপতি চন্দ্রমাধব ঘোষের পৌত্রী। এই পারিবারিক ঐতিহ্যই নিভা দেবীর অন্তরে আধুনিক চিন্তা ও শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের জন্ম দিয়েছিল।কলকাতার গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয়। মেধাবী নিভা দেবী ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করেন। কিন্তু সেই যুগে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ নারীদের জন্য মসৃণ ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। এই উচ্চশিক্ষা লাভের পেছনে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ শ্রী হরপ্রসাদ মিত্রের প্রেরণা তাঁকে মানসিকভাবে ঋদ্ধ করেছিল।নিভা দেবীর বিবাহিত জীবন ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। মাত্র ১৯ বছর বয়সে অকাল বৈধব্য তাঁর জীবনের ওপর এক কালো ছায়া ফেলে দেয়। কিন্তু এই শোক তাঁকে স্তব্ধ করতে পারেনি। তাঁর দেওর, বিশিষ্ট পণ্ডিত ডঃ এম. এন. রায়, এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ান। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, নিভা দেবীর মেধা ও কর্মশক্তিকে সমাজের কল্যাণে নিয়োগ করাই হবে শোক থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। ডঃ রায়ের অনুপ্রেরণায় নিভা দেবী সামাজিক কুসংস্কারের শৃঙ্খল ভেঙে শিক্ষার ব্রতে আত্মনিয়োগ করেন।পঞ্চাশের দশকের শুরুতে নিভা রায়চৌধুরী যখন পুরুলিয়ায় আসেন, তখন এই অঞ্চলটি ছিল অত্যন্ত অবহেলিত। তৎকালীন বিহার সরকারের নির্দেশে তিনি ‘শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।সেই সময় পুরুলিয়া ছিল মূলত বাঙালি অধ্যুষিত কিন্তু প্রশাসনিকভাবে বিহারের অংশ। নারী শিক্ষার হার ছিল নগণ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল শোচনীয়। রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের স্কুলে পাঠানো ছিল বিলাসিতা মাত্র। নিভা দেবী নিজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছাত্রীদের স্কুলে আনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।তিনি জানতেন, কেবল অক্ষরজ্ঞানই শিক্ষা নয়। তাঁর নেতৃত্বে স্কুলে চালু হয় নাচ, গান, আবৃত্তি ও বিতর্ক সভা। তিনি বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞানমনস্কতা ছাড়া আধুনিক সমাজ গড়া অসম্ভব। তাঁরই প্রচেষ্টায় স্কুলে বিজ্ঞানের পঠন-পাঠন উন্নত হয়।পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের সহযোগিতায় স্কুলের বিজ্ঞান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে রাজ্যপাল পদ্মা নাইডু এর উদ্বোধন করেন।১৯৯৮ সালের ২রা জানুয়ারি এই মহান শিক্ষাব্রতী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তিনি যে দীপশিখা জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন, তা আজও অমলিন। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান মেলায় ‘নিভা রায়চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রবর্তিত হয়েছে।শ্রীমতী নিভা রায়চৌধুরী কেবল একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। ঢাকার জমিদারি বিলাস বিসর্জন দিয়ে পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটিতে শিক্ষার যে ফল্গুধারা তিনি বইয়ে দিয়েছিলেন, তা আজও বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রীদের প্রেরণা জোগায়। প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, ‘বড়দিমণি’র জীবন তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।তথ্যসূত্র : ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় (পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান আধিকারিক), শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের লেখা