চলে গেলেন কিংবদন্তি: ৯০ ছোঁয়ার আগেই থেমে গেল ধর্মেন্দ্রর জীবনের আলো
সকালে সকালে ডেস্ক মুম্বই বলিউডে নেমে এসেছে শোকের কালো মেঘ। এবার আর অলৌকিক প্রত্যাবর্তন ঘটল না। ঠিক ১১ নভেম্বরই হঠাৎ গুজব ছড়িয়েছিল ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর, কিন্তু ভক্তদের প্রার্থনায় সেইবার মৃত্যুকে হার মানিয়ে আবার ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু সোমবার আর সেই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হল না। দুপুর গড়াতেই গোটা দেশ জেনে যায়—চলে গেলেন বলিউডের প্রিয় ‘হি-ম্যান’। থেমে গেল এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এক জীবনে ২৪৭টি ছবি, চূড়ান্ত জনপ্রিয়তার স্বাদ, ‘জয়-ভিরু’ আইকনিক জুটি—সেইসব গল্প আজ ইতিহাস। বহুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছিলেন ধর্মেন্দ্র। শেষ সময়টা কাটছিল তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গেই। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলেন বলেই পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগেই তাঁকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়—আপাতত রুটিন চেকআপের জন্য, এমনটাই জানা গিয়েছিল। হাসপাতালের দোরগোড়ায় লড়াই, শেষ পর্যন্ত হার মানলেন হি-ম্যান সোমবার সকালে হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায়। জানা যায়, মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে; দেওয়া হয়েছে ভেন্টিলেশন। চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়, ঘণ্টায় ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ চলছিল। দুপুর হতেই খবর আসে—সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন কিংবদন্তি। ডিসেম্বরে ৯০—ঠিক তার আগেই থেমে গেল দীপ্তিময় পথচলা ডিসেম্বরে ৯০-এ পা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। বয়স ৮৯ হলেও তিনি থামেননি একদিনও। এখনও বলিউডে সমান দাপটে কাজ করে যাচ্ছিলেন। জয়া বচ্চন ও শাবানা আজমির সঙ্গে করণ জোহরের ‘রকি ঔর রানি কি প্রেম কাহানি’-তে তাঁর অভিনয় দর্শকদের আবার সেই পুরনো ধর্মেন্দ্রকে মনে করিয়ে দিয়েছিল। সদ্য প্রকাশ্যে এসেছিল তাঁর পরবর্তী ছবির প্রথম ঝলকও। কিন্তু সেই ছবি আর তাঁর জীবনে মুক্তির আলো দেখল না। শেষ দেখা দেখতে ছুটলেন হেমা মালিনী—ভারত প্রার্থনায়, তবুও রক্ষা হল না সোমবার বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে নেমে আসে তৎপরতা। তাড়াহুড়ো করে পৌঁছন হেমা মালিনীও। দেশজুড়ে তখন প্রার্থনা একটাই—ধর্মেন্দ্র দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রার্থনা অধরাই রইল। চলে গেলেন রূপোলি পর্দার এক অদম্য নায়ক, এক অমলিন স্মৃতি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক দীপ্ত নক্ষত্র।
দিল্লিতে আন্তর্জাতিক অস্ত্র চক্রের পর্দাফাঁস, বিদেশি পিস্তল-সহ ধৃত ৪
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি : দিল্লিতে আন্তর্জাতিক অস্ত্র চক্রের পর্দাফাঁস করলো অপরাধ দমন শাখা। অনেকগুলি বিদেশি পিস্তল ও কার্তুজ-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম – অজয়, মনদীপ, দলবিন্দর এবং রোহান। এই চক্রটি তুরস্ক এবং চীনে তৈরি উচ্চমানের পিস্তল পাকিস্তান হয়ে ভারতে সরবরাহ করত। পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্রগুলি পঞ্জাবে ফেলে দেওয়া হত এবং তারপর পুনরায় বিক্রি করা হত। পুলিশ ১০টি দামি বিদেশি পিস্তল এবং ৯২টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে। ধৃতরা দিল্লি এবং আশেপাশের রাজ্যগুলিতে অপরাধী এবং গ্যাংস্টারদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। ধৃতদের মধ্যে দু’জন পাঞ্জাবের বাসিন্দা। ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, এই পুরো নেটওয়ার্কটি পাকিস্তানি আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্তদের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। অস্ত্রগুলি প্রথমে পাকিস্তানে আনা হত এবং তারপর সেখান থেকে ভারতে পাচার করা হত। পুলিশ এখন তদন্ত করছে, ধৃতরা এখনও পর্যন্ত ভারতে কতগুলি অস্ত্র বিক্রি করেছে এবং কোন দল বা ব্যক্তিরা সেগুলি পেয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি অস্ত্রগুলি শনাক্ত করতে মোবাইল ফোন, ব্যাঙ্কের বিবরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে।
বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নীতীশ, ডেপুটি হলেন সম্রাট ও বিজয়
সকাল সকাল ডেস্ক। পাটনা: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার। এই নিয়ে ১০-বার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জেডিইউ প্রধান। বৃহস্পতিবার পাটনার গান্ধী ময়দানে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। এছাড়াও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় কুমার সিনহা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ এনডিএ-র শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে জমজমাট ছিল পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দান। বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সবাই নীতীশ কুমারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। নীতীশ ছাড়াও মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন ২৫ জন বিধায়ক। শপথগ্রহণ করেছেন আগের মন্ত্রিসভায় নীতীশের দুই ডেপুটি, বিজেপির বিজয় সিন্হা এবং সম্রাট চৌধুরি। একটি সূত্রের দাবি, এ বারও এই দু’জনকেই উপমুখ্যমন্ত্রী করা হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ এনডিএ-র ছবি তুলে ধরতে শপথ গ্রহণের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু, এলজেপি (আর) নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (হাম)-র নেতা জিতনরাম মাঝি। উপস্থিত ছিলেন বিজেপিশাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা প্রমুখ। বৃহস্পতিবার মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন জেডিইউ-র বিজয়কুমার চৌধুরি, বিজেন্দ্রপ্রসাদ যাদব, শ্রোয়ান কুমার, অশোক চৌধুরি, লেসি সিং, মদন সাহনি, সুনীল কুমার এবং মহম্মদ জামা খান। বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে সম্রাট এবং বিজয় ছাড়াও শপথগ্রহণ করেন দিলীপ জয়সওয়াল, মঙ্গল পান্ডে, সঞ্জয় সিংহ টাইগার, রমা নিষাদ, অরুণশঙ্কর প্রসাদ, রামকৃপাল যাদব, নীতিন নবীন এবং সুরেন্দ্রপ্রসাদ মেহতা। জিতনরামের দল হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার তরফে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন সন্তোষ সুমন।
এসআইআর-এর মতো ‘অপরিকল্পিত অভিযান’ ‘অবিলম্বে বন্ধ করার’ আহ্বান মমতার
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা: “আমি গভীরভাবে মর্মাহত এবং দুঃখিত। আজ আবারও, আমরা জলপাইগুড়ির মালে একজন বুথ লেভেল অফিসারকে হারিয়েছি”। বিএলও-র অস্বাভাবিক মৃত্যুর জেরে এসআইআর-কে দায়ী করে বুধবার “অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত অভিযান বন্ধ করার আহ্বান” জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক্সবার্তায় লিখেছেন, “আদিবাসী মহিলা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শ্রীমতি শান্তি মুনি এক্কা চলমান এসআইআর কাজের অসহনীয় চাপের মুখে আত্মহত্যা করেছেন। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন — কেউ ভয় এবং অনিশ্চয়তার কারণে, আবার কেউ মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে। তথাকথিত নির্বাচন কমিশন আরোপিত অপরিকল্পিত, নিরলস কাজের চাপের জন্য এত মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাচ্ছে। আগে যে প্রক্রিয়ায় ৩ বছর সময় লাগত, এখন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করার জন্য ২ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। বিএলও-দের উপর অমানবিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে বিবেক দিয়ে কাজ করার এবং আরও প্রাণহানির আগে অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
অন্ধ্রে রোড শো প্রধানমন্ত্রীর, বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস জনসাধারণের মধ্যে
সকাল সকাল ডেস্ক। পুট্টাপার্থি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ সফরে যান। অন্ধ্রের পুট্টাপার্থিতে ভগবান শ্রী সত্য সাই বাবার সৌধ ও মহাসমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। ভগবান শ্রী সত্য সাই বাবার শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই উপলক্ষ্যে একটি স্মারক মুদ্রা ও তাঁর জীবন, শিক্ষা তথা পরম্পরার সম্মানে একগুচ্ছ ডাকটিকিটের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। এদিন পুট্টাপার্থিতে রোড শোও করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে একঝলক দেখার জন্য রাস্তার ধারে ছিল সাধারণ মানুষের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিনের অনুষ্ঠানে বলেন, “১০ বছর আগে, ভারত সরকার সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা চালু করেছিল। এটি এমন কয়েকটি প্রকল্পের মধ্যে একটি যেখানে ৮.২ শতাংশ উচ্চ সুদের হার দেওয়া হয়। সুকন্যা সমৃদ্ধির অধীনে মেয়েদের জন্য চার কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।” এই প্রকল্প মেয়েদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দিশা দেখাবে বলেও আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী।
কাহিলিপাড়ার বাড়িতে উন্মোচিত জুবিন গার্গের আবক্ষ মূর্তি
অসমের প্রান্তে প্রান্তে উদযাপন প্ৰয়াত বহুমুখি রত্নের ৫৩-তম জন্মদিন সকাল সকাল ডেস্ক। গুয়াহাটি : আজ ৫৩-তম জন্মদিনের দিন কাহিলিপাড়ার বাড়িতে হাজারো অনুরাগীর উপস্থিতিতে উন্মোচন করা হয়েছে বহুমুখি প্রতিভাসম্পন্ন কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গার্গের আবক্ষ মূর্তি। আজ ১৮ নভেম্বর, গুয়াহাটিতে হাজার হাজার ভক্তের সমাবেশে অসমের যুবপ্রজন্মের হৃদস্পন্দন অকালপ্রয়াত দুরন্ত বহুমুখী কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, চিত্রপরিচালক, প্রযোজক, অসমিয়া সংস্কৃতির উজ্জ্বল রত্ন জুবিন গার্গের ৫৩-তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে গোটা রাজ্য। কাহিলিপাড়ায় প্রয়তের বাসভবন এবং একাধিক স্মৃতিসৌধকে ভক্তি ও স্মরণের কেন্দ্রে পরিণত করেছে আজ। গতকাল রাত থেকেই ভক্তরা তাঁর বাড়িতে সমবেত হয়ে প্রয়াত শিল্পীর সম্মানে ভক্তিমূলক এবং তাঁর রচিত মনমুগ্ধকার গান গেয়ে চলেছেন। বাড়ি-প্রাঙ্গণে তাঁর লালিত বকুল গাছের নীচে জুবিন গার্গের একটি আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের মাধ্যমে আবেগঘন বাতাবরণ তৈরি করে। স্বগৃহে জুবিনের আবক্ষ মূৰ্তির আবরণ উন্মোচন অনুষ্ঠানে হাজারো ভক্তকুলের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা কপিল বড়ঠাকুর, স্ত্রী গরিমা গার্গ, পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ। অনুষ্ঠানে এক মর্মান্তিক মুহূর্ত ছিল যখন প্ৰয়াতের বাবা কপিল বড়ঠাকুর তাঁর স্নেহের ‘গোল্ডি’ নামের ছেলের মূর্তিটি আলতো করে স্পর্শ করেছিলেন। সে দৃশ্য দেখে অনেকে কান্নায় ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। এদিকে কাহিলিপাড়া ছাড়াও প্রাণের শিল্পী, অসমের সম্পদ জুবিন গার্গকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্র এবং সরুসজাই স্টেডিয়ামে। সে সব জায়গায়ও বিশাল সমাবেশ হয়েছে। সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্রে আয়োজকরা একটি রক্তদান শিবির, নাম-প্রসঙ্গ, ‘নাহর’ (নাগেশ্বর)-এর চারা রোপণ এবং সন্ধ্যায় পাঁচ হাজার প্রদীপ জ্বালানো সহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এছাড়া প্রিয় শিল্পীর সম্মানে ৫০০টি আকাশবাতি জ্বালিয়ে রাতের আকাশকে আরও আলোকিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে আজ ভোর থেকে দিনব্যাপী ভাওনা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হচ্ছে কিংবদন্তি শিল্পীকে স্মরণীয় কররে রাখতে। গোটা রাজ্যের উজান থেকে নিম্ন যেমন, ডিব্রগড়, তিনসুকিয়া, শিবসাগর, যোরহাট, গোলাঘাট, শোণিতপুর, নগাঁও, হোজাই, বরাক উপত্যকা, ডিমা হাসাও জেলা, কামরূপের রঙিয়া, পলাশবাড়ি, বরপেটা, বঙাইগাঁও, ধুবড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক জনতা সংগীতশিল্পীর জন্মদিন উদযাপন করতে একত্রিত হয়েছেন। দিনটিকে ভক্তি, সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি এবং আন্তরিক স্মরণের একটি শক্তিশালী মিশ্রণে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। প্ৰাণের শিল্পী জুবিন গাৰ্গের নামে মঙ্গলদৈয়ে নামাকরণ করা হয়েছে একটি রাস্তার নাম। মঙ্গলদৈয়ের মিলনপুরের বাসিন্দা সর্বজনীন রাস্তাকে ‘জুবিন পথ’ নামে নামাকরণ করেছেন। এছাড়া প্রিয় শিল্পীর প্ৰিয় গাছ নাগেশ্বরের চারাও মঙ্গলদৈয়ের প্রায় সব গ্রামে রোপণ করেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রামের জনতা। মিলনপুরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মঙ্গলদৈয়ের বিধায়ক বসন্ত দাস, মঙলদৈ উন্নয়ন অধিকরণের অধ্যক্ষ প্ৰতাপ বরদলৈ, পুরপতি নিৰ্মালী দেবী প্রমুখ গ্রামের মানুষ।
এখনই রাজনৈতিক সন্ন্যাস নয়, জানালেন প্রশান্ত কিশোর
সকাল সকাল ডেস্ক। পাটনা: ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বিহার ভোটে জেডিইউ ২৫ পার করলে তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিয়ে নেবেন। তবে প্রশান্ত কিশোর (পিকে)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যে প্রমাণ করে বিহারে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে জেডিইউ তথা এনডিএ। অন্যদিকে পিকের দল জন সুরজ পার্টি একটিও আসন জেতেনি। এহেন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন ‘ভোট কুশলী’ তথা জন সুরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। নিজের সন্ন্যাস নেওয়ার দাবি থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে আঙুল তুললেন জেডিইউ-এর দিকেই। পিকের অভিযোগ, বিহারে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন নীতীশ কুমার। বলেন, জেডিইউ যদি দুই লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তবেই পদত্যাগ। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তাঁর দলের খারাপ ফলের জন্য সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের দিক থেকে ইতিবাচক চেষ্টা করেছি। আমরা এই সরকারকে বদলাতে পারিনি। আমরা আমাদের দিক থেকে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু মনে হচ্ছে আমরা কোথাও না কোথাও ব্যর্থ হয়েছি। তাঁর কথায়, জনগণ যদি আমাদের উপরে আস্থা না রাখে, তা হলে তার দায় সম্পূর্ণ রূপে আমার। এবারে তাঁর প্রতিজ্ঞা, বিহারের ক্ষমতাসীন সরকার যদি নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি মাফিক দেড় কোটি মানুষকে দুই লক্ষ করে টাকা দেয়, তবে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন।
ডি ককের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে সমতা আনলো দক্ষিণ আফ্রিকা
সকাল সকাল ডেস্ক ফয়সালাবাদ : ফয়সালাবাদে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কুইন্টন ডি কক ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন অব্যাহত রেখেছেন। তার দল পাকিস্তানের বিপক্ষে আট উইকেটে জয়লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক খেলা থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দুই বছরের অনুপস্থিতির পর আবারও নিজেকে প্রস্তুত করে তোলা ডি কক, ইকবাল স্টেডিয়ামে অপরাজিত ১২৩ রানের ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন এবং তিন ম্যাচের সিরিজ সমান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০.১ ওভারে দুই উইকেটে ২৭০ রান করে, পাকিস্তানের ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৯ রান তাড়া করে সহজেই জয় পায়। শনিবার ফয়সালাবাদে আবারও তাদের নির্ণায়ক ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
বন্দে মাতরম শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, এটি ভারতের আত্মা ও সংকল্পের স্বর: প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে বন্দে মাতরম শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, এটি একটি মন্ত্র, একটি শক্তি, একটি স্বপ্ন এবং একটি সংকল্প। এই গানটি ভারত মাতার প্রতি ভক্তি এবং নিষ্ঠার প্রতীক। যা আমাদের অতীতের সঙ্গে সংযুক্ত করে, বর্তমানের প্রতি আস্থা জাগিয়ে তোলে এবং ভবিষ্যতের জন্য সাহস জোগায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী শুক্রবার জাতীয় গীত বন্দে মাতরমের ১৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে দিল্লিতে বর্ষব্যাপী উদযাপনের সূচনা করেছেন। তিনি বন্দে মাতরমের উপর একটি বিশেষ স্মারক মুদ্রা এবং ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এ গানের আবেগ ভারতমাতাকে ঘিরে। এই গান ভারতের মধ্যে বিশ্বাস জোগায়, আমাদের লক্ষ্য যতই কঠিন হোক না কেন, তা ভারতবাসীর পক্ষে অসাধ্য কিছু নয়। এক সুরে যখন গোটা দেশ এই গান গেয়ে ওঠে, তখন ভারতের একতার ছবি ফুটে ওঠে। একের পর এক প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করেছে বন্দে মাতরম। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এই গানটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য অনুপ্রেরণা এবং আজও এটি স্বাধীনতা রক্ষার সংকল্পের প্রতীক। বঙ্কিম বাবু ভারত মাতাকে জ্ঞানের দেবী সরস্বতী, সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী এবং শক্তির দেবী দুর্গা হিসেবে চিত্রিত করেছেন। এই অনুভূতি ভারতকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে অগ্রণী করে তুলছে। যখন ভারত চাঁদে পা রেখেছিল, যখন আমাদের মেয়েরা যুদ্ধবিমান চালাতে শুরু করেছিল, অথবা যখন আমাদের মেয়েরা বিজ্ঞান ও খেলাধুলায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে শুরু করেছিল, তখন প্রতিটি ভারতীয়ের হৃদয় থেকে একটিই আওয়াজ বেরিয়ে এসেছিল: ভারত মাতা কি জয়, বন্দে মাতরম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দে মাতরম কেবল স্বাধীনতার গান নয় বরং ভারতের আত্মার প্রকাশ। এই উপলক্ষে, তিনি বন্দে মাতরম ধ্বনি উচ্চারণ করে জীবন উৎসর্গকারী সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা এবং মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা–সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমের আত্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্দে মাতরমকে ভেঙে টুকরো করা হয়েছিল। বন্দে মাতরমের এই বিভাজনেই দেশের বিভাজনের বীজ বপন করা হয়েছিল। রাষ্ট্র নির্মাণের এই মহামন্ত্রের সঙ্গে এই অন্যায় কেন হয়েছিল, তা আজকের প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। দেশের জন্য সেটাই আজও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ‘বন্দে মাতরম্’ – এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সমবেতভাবে গাওয়া হয়। সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রসঙ্গত, ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অক্ষয় নবমীর পুণ্যতিথিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গান লিখেছিলেন বলে মনে করা হয়। তাঁর আনন্দমঠ উপন্যাস যখন বঙ্গদর্শন পত্রিকায় পর্বে পর্বে প্রকাশিত হচ্ছিল, তখন তাতে এই গানটি প্রথম দেখা যায়। পরবর্তীকালে ১৮৮২ সালে আনন্দমঠ উপন্যাসটি বই হিসেবে প্রকাশিত হয়। সেই সময়ে ভারত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলছিল এবং জাতীয় পরিচয় ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল। মাতৃভূমিকে শক্তি, সমৃদ্ধি ও দেবত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিবাদন জানিয়ে এই গানটি ভারতের ঐক্য ও আত্মসম্মানবোধের জাগ্রত চেতনাকে কাব্যিক রূপ দেয়। অচিরেই এটি স্বদেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয়
সকাল সকাল ডেস্ক। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো একদিনের বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছে। এই জয় শুধু একটি ট্রফি জেতার নয়, এটি ভারতীয় মেয়েদের প্রতিভা, সাহস এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই সাফল্য দেশের লাখো মেয়ের জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছে—যেখানে তারা খেলাধুলা বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে। এই জয় সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এটি প্রমাণ করেছে, মেয়েরাও ছেলেদের মতোই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে জয় আনতে পারে। এর ফলে শুধু মহিলার ক্ষমতায়নই নয়, খেলাধুলার গুরুত্বও সমাজে আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ আজকের যুগে খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি দেশের উন্নতির প্রতীক। মহিলা দলের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের মেয়েরা শিরোপা জিততে পারেনি। এতদিন মহিলা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডেরই আধিপত্য ছিল। ভারতের জয় তাই শুধু নিজেদের নয়, উন্নয়নশীল দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। ফাইনাল ম্যাচের আগে থেকেই দেশের মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল তুঙ্গে। স্টেডিয়ামে বিপুল দর্শকসমাগম এবং খেলোয়াড়দের প্রতি বিশ্বাসই প্রমাণ করেছিল যে ভারতীয় দল এবার ইতিহাস গড়বে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ও তার দল সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। অনেকে এই জয়কে ১৯৮৩ সালের পুরুষ দলের বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন। যেমন তখন কাপিল দেবের নেতৃত্ব ভারতীয় ক্রিকেটের চেহারা বদলে দিয়েছিল, তেমনই আজ মহিলা দলের জয় ভবিষ্যতের প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ২০০৬ সালে যখন বিসিসিআই মহিলা ক্রিকেটের দায়িত্ব নেয়, তখন থেকেই পরিবর্তন শুরু হয়। সমান পুরস্কার, ভালো সুযোগ-সুবিধা ও মহিলা প্রিমিয়ার লিগ চালু করার ফলে আজ ভারতের কন্যারা বিশ্বের শীর্ষে। এই জয় সেই দীর্ঘ পরিশ্রম ও বিশ্বাসের ফল।