তৃণমূলের শাসনে বাংলার মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত: কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন অমিত শাহ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : তৃণমূলের শাসনে বাংলার মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত| কলকাতায় এসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন অমিত শাহ| তিনি এদিন বলেন, ভয় দুর্নীতি আর অনুপ্রবেশের জায়গায় বিকাশ এবং গরীব কল্যাণের জন্য সরকার বানানোর সংকল্প দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের মধ্যে। তৃণমূলের শাসনে বাংলার মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত। আমরা বিজেপির সব কার্যকর্তা আশ্বাস দিচ্ছি বাংলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর এখানে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে এবং গরীব কল্যাণ হবে। এর পাশাপাশি মজবুত প্রশাসন তৈরি হবে যা অনুপ্রবেশ রুখে দেবে। মানুষ তো দূর একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না। শুধু অনুপ্রবেশ বন্ধই করব না, সব অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে। তৃণমূলের নেতৃত্বে আজ বাংলার বিকাশ থেমে গেছে। পুরো দেশে যে বিকাশ হচ্ছে সেটা এই রাজ্যে কাটমানির কারণে বন্ধ হয়ে আছে। আমাদের সংকল্প ১৫ এপ্রিল ২০২৬ এর পর যখন বিজেপি সরকার হবে তখন পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব আমরা পুনরুদ্ধার করব। বাংলার মনিষীদের স্বপ্নের বাংলা আমরা তৈরি করব। বিজেপির বীজ বপন হয়েছিল জনসংঘ থেকে। জনসংঘ স্থাপন করেছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অমিত শাহ বলেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৭% ভোট এবং ২ টি সিট আমরা পেয়েছি। ২০১৬ তে ১০% ভোট এবং ৩ টি বিধায়ক ২০১৯ ৪১% ভোট এবং ২০২১ নির্বাচনে ৭৭ টি সিট পেয়েছিলাম। এর ফলে কংগ্রেস পার্টিও এই রাজ্যে শূন্য হয়ে গেছে। বামেরাও কোনও ভোট পায়নি আর আমরা প্রধান বিরোধী দল হয়েছি। ২০২৪ নির্বাচনে ৩৯% ভোট পেয়েছি ও ১২ টি আসন পেয়েছি। ২০২৬ এও আমরা বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসব।
রাঁচিতে ওষুধের দোকানে অগ্নিকাণ্ড, প্রাণহানির খবর নেই
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি : রাঁচির কাঁকে রোড এলাকার কেয়ার অ্যান্ড কিওর ওষুধের দোকানে সোমবার গভীর রাতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দোকান বন্ধ করে মালিক বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই দোকান থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দোকান মালিক দমকল বিভাগকে জানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনীর কর্মীরা বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দোকান মালিক জানান, অগ্নিকাণ্ডে দোকানের ওষুধ ও আসবাবপত্র পুড়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর নেই। মঙ্গলবার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
ফিরে দেখা: ২০২৫ সালে ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সেরা ১০টি সাফল্য
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : ২০২৫ সালটা ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে ঐতিহাসিক বছর। এই বছরটাতে ভারতের ক্রীড়াবিদরা ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। তার মধ্যে ক্রিকেট, দাবা, প্যারা-অ্যাথলেটিক্স, অ্যাথলেটিক্স, ও খো-খো-এর মতো বিভিন্ন ইভেন্ট রয়েছে। তার মধ্যে থেকেই এমনই ১০টি সেরা সাফল্য তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে। **ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্ব কাপ জয়: ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথম মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করেছিল। এটা ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। **নীরজ চোপড়া (জ্যাভলিন থ্রো): নীরজ চোপড়ার জন্য , ২০২৫ সাল ছিল ঐতিহাসিক নিক্ষেপের বছর। দোহা ডায়মন্ড লীগে, তিনি জ্যাভলিনে ৯০ মিটার বাধা অতিক্রমকারী প্রথম ভারতীয় ক্রীড়াবিদ হয়ে ওঠেন। তার যুগান্তকারী পারফরম্যান্স ট্র্যাক-এন্ড ফিল্ড সম্প্রদায়কে উজ্জীবিত করেছিল, তরুণ ক্রীড়াবিদদের সীমানা অতিক্রম করতে এবং ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা যে উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে তা প্রদর্শন করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। **সুমিত অ্যান্টিল (প্যারা-অ্যাথলেটিক্স): প্যারা-অ্যাথলিট সুমিত অ্যান্টিলের জন্য, ২০২৫ ছিল আরেকটি রেকর্ড ভাঙা বছর। জ্যাভলিন এফ৬৪ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তিনি চ্যাম্পিয়নশিপ রেকর্ড ভেঙে টানা তৃতীয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জিতেছেন। অ্যান্টিলের নিষ্ঠা এবং ধারাবাহিকতা তাকে ভারতের অন্যতম সেরা প্যারা-অ্যাথলিট করে তুলেছে, যা সারা দেশের অগণিত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রাণিত করেছে। **দিব্যা দেশমুখ (দাবা): দিব্যা দেশমুখ ২০২৫ সালে, ১৯ বছর বয়সে, তিনি জর্জিয়ার বাতুমিতে ফিডে মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনেরু হাম্পির মুখোমুখি হন। ধ্রুপদী খেলা এবং উত্তেজনাপূর্ণ টাই-ব্রেকের পর, দিব্যা চ্যাম্পিয়ন হন। এই জয় তাঁর গ্র্যান্ডমাস্টারের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে এবং বিশ্বব্যাপী দাবার সর্বোচ্চ স্তরে ভারতের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করে। **শীটেল দেবী (প্যারা-আর্চারি) : শীতল দেবী ২০২৫ সালে, বিশ্ব তীরন্দাজ প্যারা চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্ব খেতাব অর্জন করেন। বছরের শেষের দিকে, তিনি আরও একটি মাইলফলক অতিক্রম করেন, যখন তিনি এশিয়া কাপের জন্য ভারতের সক্ষম-শরীরের কম্পাউন্ড দলে নির্বাচিত হন, সেই স্তরে অন্তর্ভুক্ত প্রথম প্যারা-তীরন্দাজ হন। তার যাত্রা ভারতীয় খেলাধুলায় উৎকর্ষতা এবং দক্ষতা কীভাবে বোঝা যায় তা প্রসারিত করে। **সম্রাট রানা (অ্যাথলেটিক্স/ব্যাকইয়ার্ড ট্রেনিং): ২০২৫ সালে, কায়রোতে আইএসএসএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে সোনা এনে দেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই বিভাগে সিনিয়র ব্যক্তিগত বিশ্ব খেতাব অর্জন করেন। **অনিমেস কুজুর (অ্যাথলেটিক্স) : ঝাড়খণ্ডের গ্রামীণ ট্র্যাক থেকে আন্তর্জাতিক যোগ্যতা অর্জন করেন অনিমেষ। অনিমেষ কুজুরের উত্থান ২০২৫ সালে। তিনি জাতীয় ১০০ মিটার রেকর্ড ভেঙে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। **ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দল: ভারতের রোহিত শর্মা ও সূর্য শেখরের দল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এশিয়া কাপ টি-২০ শিরোপা জেতে । **ভারতের পুরুষ ও মহিলা খো-খো দল: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, খো খো বিশ্বকাপে , ভারতের পুরুষ এবং মহিলা দল উভয় শিরোপা জিতে ক্লিন সুইপ অর্জন করে। প্রতিটি ম্যাচেই দুটি দল কৌশলগত প্রতিভা এবং শক্তিশালী দলগত কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করে। ভারতের এই জয় তিনি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণীয় করেছে। **ভারতের মহিলা দৃষ্টিহীন ক্রিকেট দল অপরাজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে: ভারতের প্রথম দৃষ্টিহীন মহিলাদের দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করে। প্রতিযোগিতা জুড়ে দলটি নির্ভীক ব্যাটিং, সুশৃঙ্খল বোলিং এবং তীক্ষ্ণ ফিল্ডিং উভয়ই উপভোগ করে। তাদের শিরোপা জয় অন্তর্ভুক্তিমূলক খেলাধুলো এবং বৃহত্তর স্বীকৃতির দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে। **ভারতের মহিলা আইস হকি দল ঐতিহাসিক এশিয়া কাপে ব্রোঞ্জ জিতেছে: ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপে ভারতের মহিলা আইস হকি দল লাদাখ এবং হিমাচল প্রদেশের হিমায়িত হ্রদ এবং অস্থায়ী রিঙ্কগুলিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। তাদের পডিয়াম ফিনিশিং স্থিতিস্থাপকতা এবং বিশ্বাসের প্রতীক ছিল। **হকিতে ভারতের এশিয়া কাপ জয় (পুরুষ): ভারত এশিয়া কাপ হকিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে, যা দলের দক্ষতা ও ঐক্যের প্রতিফলন।
আরাবল্লী নিয়ে আগের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাব
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : আরাবল্লী পাহাড় ও পর্বতমালার অভিন্ন সংজ্ঞা গ্রহণ করে গত ২০ নভেম্বর যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নিজেই তা স্থগিত করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহর অবকাশকালীন বেঞ্চ বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সামগ্রিক পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে এ কথা জানানো হয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কিছু বিষয় আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আদালত এই মামলায় কেন্দ্র এবং অন্যান্যদের নোটিশ জারি করেছে। পরবর্তী শুনানির জন্য ২১ জানুয়ারি দিনটি ধার্য করা হয়েছে। গত ২০ নভেম্বর শীর্ষ আদালত আরাবল্লী পাহাড় এবং পর্বতশ্রেণীর একটি অভিন্ন সংজ্ঞা গ্রহণ করেছিল এবং বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং গুজরাট জুড়ে বিস্তৃত অঞ্চলে নতুন খনির ইজারা দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। একে স্বাগত জানিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানান, মোদী সরকারের আরাবল্লীর নতুন সংজ্ঞার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশকে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস স্বাগত জানায়। বিষয়টি এখন আরও বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এ কথা মনে রাখা দরকার, বন সর্বেক্ষণ, সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি এবং খোদ আদালতবন্ধুই এই নতুন সংজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন।
প্রাচীন ভারতে নগরবধূর এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস
সিদ্ধার্থ রায়, পাটনা বৈশালী জেলা প্রাচীন ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা বিশ্বের প্রথম প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিত, মহাবীরের জন্মস্থান, বুদ্ধের শেষ ধর্মোপদেশের স্থান, এবং বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের জন্য পবিত্র। এই জেলাটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি কলা ও লিচুর জন্যও বিখ্যাত। প্রাচীন ভারতের গণতান্ত্রিক শহর বৈশালী বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের অর্ন্তগত। সে সময়ের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী এবং নর্তকী আম্রপালী বাস করতেন এই বৈশালী শহরে। আম্রপালীর জন্ম হয় আজ থেকে ২,৫০০ বছর আগে। মাহানামন নামে এক ব্যক্তি শিশুকালে আম্রপালীকে আম গাছের নিচে খুঁজে পান। তাঁর আসল বাবা-মা কে ইতিহাস ঘেঁটেও তা জানা যায়নি । যেহেতু তাকে আম গাছের নিচে পাওয়া যায় তাই তার নাম রাখা হয় আম্রপালী। অর্থাৎ আমগাছের নবীন পাতা। মাহানমন পেশায় মালী ছিলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী আম্রপালীকে লালন পালন করেন। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিতেই আম্রপালীকে নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তাঁর রূপে চারপাশের মানুষ বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়ে যান । দেশ-বিদেশের রাজা, রাজপুত্র থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তাঁকে পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে ওঠে। নানা জায়গায় থেকে তাকে নিয়ে দ্বন্দ, ঝগড়া আর বিবাদের খবরও আসতে থাকে। সবাই তাকে একনজর দেখতে চান, বিয়ে করতে চান।ইতিহাস বলে বৈশালির রাজা মনুদেব যখন আম্রপালিকে প্রথম দেখেন তখন থেকেই তিনি তাকে “নিজের” অধিকারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করতে শুরু করেন। তিনি আম্রপালির বিয়ের দিন আম্রপালির শৈশব প্রেম এবং হবু বর পুষ্পকুমারকে হত্যা করেন এবং এরপর রাজার নির্দেশে বৈশালীর সকল ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তি মিলে আম্রপালিকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। নানা আলোচনার পর তৎকালীন বৈশালীর ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা যে সিদ্ধান্ত নেন তা হল, আম্রপালীকে কেউ বিয়ে করতে পারবেন না। কারণ তার রুপ। সে একা কারো হতে পারে না। আম্রপালী হবে সবার। সে হবে একজন নগরবধু, মানে পতিতা। এটা ছিল একটা বিস্ময়কর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত । ইতিহাসে এভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কাউকে পতিতা বানানো হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল ! একটি সরকারী ঘোষণায় আম্রপালিকে বৈশালীর নগরবধূ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাঁকে সাত বছরের জন্য রাজ্যের সবচেয়ে সুন্দরী ও মেধাবী মেয়েদের জন্য নির্ধারিত বৈশালী জনপদ কল্যায়নী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। আম্রপালী তার প্রেমিকদের নির্বাচন করতে পারতেন কিন্তু পূর্বোক্ত রীতি অনুসারে তিনি কোনও একজনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারতেন না। আম্রপালীকে নগরবধূ করার জন্য সে সভায় পাঁচটি শর্ত রাখা হয়েছিল :- (১) নগরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় তার ঘর হবে ।(২) তার মুল্য হবে প্রতি রাত্রির জন্য পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা । (৩) একবারে মাত্র একজন তাঁর গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। (৪ ) শক্র বা কোন অপরাধীর সন্ধানে প্রয়োজনে সপ্তাহে সর্বোচ্চ একবার তাঁর গৃহে প্রবেশ করা যাবে। (৫) তাঁর গৃহে কে এলেন আর কে গেলেন- এ নিয়ে কোন অনুসন্ধান করা যাবে না। সবাই এসব শর্ত মেনে নেন। এভাবে দিনে দিনে আম্রপালী বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। তার রুপের কথাও দেশ-বিদেশে আরও বেশী করে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার। কথিত রয়েছে যে রাজার স্ত্রীর সংখ্যাও নাকি অনেক ছিল ! নর্তকীদের নাচের এক অনুষ্ঠানে তিনি এক নর্তকীর নাচ দেখে বলেছিলেন, এ নর্তকী বিশ্বসেরা ।তখন তার একজন সভাসদ বলেন- মহারাজ, এই নর্তকী আম্রপালীর নখের যোগ্য নয় ! বিম্বিসারের এই কথাটি নজর এড়ায়নি । তিনি তার সেই সভাসদের থেকে আম্রপালী সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে তাকে কাছে পাবার বাসনা করেন। কিন্তু তার সভাসদ বলেন, সেটা সম্ভব নয় । কারণ, তাহলে আমাদের যুদ্ধ করে বৈশালী রাজ্য জয় করতে হবে আর আম্রপালীর দেখা পাওয়াও এত সহজ নয়। দেশ-বিদেশের বহু রাজাসহ রাজপুত্ররা আম্রপালীর প্রাসাদের সামনে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। কিন্তু মন না চাইলে তিনি কাউকে দেখা দেন না। একথা শুনে বিম্বিসারের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ছদ্মবেশে বৈশালী রাজ্যে গিয়ে আম্রপালীকে দেখে আসবেন। কি এমন আছে সেই নারীর মাঝে, যার জন্য পুরো পৃথিবী পাগল হয়ে আছে ! তারপর বহু চড়াই উৎরাই শেষে রাজার আম্রপালীর সাথে দেখা করার সুযোগ হয়। আম্রপালীর প্রাসাদ আম্রকুঞ্জে। কিন্তু দেখা করতে গিয়ে রাজা চমকে উঠেন, এত কোন নারী নয় ; যেন সাক্ষাৎ পরী ! এ কোনভাবেই মানুষ হতে পারেন না। এত রুপ মানুষের কিভাবে হতে পারে ! কিন্তু অবাক রাজার জন্য আরও অবাক কিছু অপেক্ষা করছিল। কারণ, আম্রপালী প্রথম দেখাতেই তাঁকে মগধ রাজ্যের রাজা বলে চিনে ফেলেন এবং জানান- তিনি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন বহু আগে থেকেই। এই কথা শুনে রাজার বিস্ময়ের সীমা থাকে না। রাজা সাথে সাথে তাঁকে তাঁর রাজ্যের রাজরাণী বানানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু আম্রপালী জানান, তাঁর রাজ্যের মানুষ এটা কখনোই মেনে নেবেন না। উল্টো বহু মানুষের জীবন যাবে এবং রক্তপাত ঘটবে ! তাই রাজাকে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু বিম্বিসার বৈশালী আক্রমন করে আম্রপালীকে পেতে চান। ওদিকে আম্রপালী তাঁর নিজের রাজ্যের কোন ক্ষতি চান না। তাই তিনি কিছুদিন অবস্থানের পর রাজাকে তাঁর নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠান এবং বৈশালীতে কোন আক্রমণ হলে তিনি তা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে ইতিহাস জানান দেয় যে বিম্বিসারের পুত্র অজাতশত্রুও আম্রপালীর প্রেমে মগ্ন ছিলেন । তিনি বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসেন এবং আম্রপালীকে পাওয়ার জন্য বৈশালী রাজ্য আক্রমণ করে বসেন। কিন্তু দখল করতে সক্ষম হননি এবং খুব বাজেভাবে আহত হন। যুদ্ধের পর দেশের এহেন অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়েছিলেন বৈশালীর নগরবধূকিন্তু তবু তিনি মগধ রাজ অজাতশত্রুর কুক্ষিগত হননি কভূ। পরবর্তীতে আম্রপালীর সেবায় সুস্থ হয়ে গোপনে তার নিজের রাজ্যে ফেরত যান। সেদিনও আম্রপালী অজাতশত্রুর বিয়ের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন। অজাতশত্রুর সাথে যুদ্ধে ধ্বংসলীলার পর ফের মাথা তুলে দাঁড়ায় বৈশালী। ধীরে ধীরে আবার স্বস্থির জীবন কাটাতে থাকেন আম্রপালী। আম্রপালীর জীবনে একের পর এক বৈচিত্রতা ও নাটকীয়তার পর শেষের দিকে এক প্রগাঢ় শান্তি ও উপাসনায় মগ্ন জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তখন গৌতম বুদ্ধর সময়কাল। গৌতম বুদ্ধ তার কয়েকশ সঙ্গী নিয়ে বৈশালী রাজ্যে এলেন। একদিন নিজের মহলের বারান্দা থেকে এক বৌদ্ধ তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আম্রপালীর মনে ধরে গেল । তিনি ভাবলেন, দেশ-বিদেশের রাজারা আমার পায়ের কাছে এসে বসে থাকেন আর এত সামান্য একজন মানুষ। তিনি সেই সন্ন্যাসীকে চার মাস তার কাছে রাখার জন্য গৌতম বুদ্ধকে অনুরোধ করলেন। সবাই ভাবলেন, বুদ্ধ কখনই রাজি হবেন না। কারণ, একজন সন্ন্যাসী এমন একজন পতিতার কাছে থাকবেন ; এটা হতেই পারে না। কিন্তু গৌতম বুদ্ধ তাকে রাখতে রাজি হলেন এবং এটাও বললেন, আমি ‘শ্রমণ’ এর (তরুণ সে সন্ন্যাসীর নাম ছিল) চোখে কোন কামনা-বাসনা দেখছি না । সে চার মাস থাকলেও নিষ্পাপ হয়েই ফিরে আসবে- এটা আমি নিশ্চিত ! চার মাস শেষ হল। গৌতম বুদ্ধ তার সঙ্গীদের নিয়ে চলে যাবেন। তরুণ শ্রমণের কোন খবর নেই । তবে কি আম্রপালীর রুপের কাছেই হেরে গেলেন শ্রমণ ? সেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তরুণ শ্রমণ ফিরে আসেন। তার পিছনে পিছনে আসেন একজন নারী । সেই নারীই ছিলেন আম্রপালী। আম্রপালী তখন বুদ্ধকে বলেন, তরুণ
১২৯-তম ‘মন কি বাত’–এ মণিপুরের নারী উদ্যোক্তাদের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
সকাল সকাল ডেস্ক ইমফল : আজ রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ১২৯-তম ‘মন কি বাত’-এ মণিপুরের অনুপ্রেরণাদায়ক নারী উদ্যোক্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদী বলেন, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে যুক্ত করা গেলে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘মন কি বাত’ এমন এক মঞ্চ, যেখানে নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়িতকারীদের তুলে ধরা হয়। এই প্রেক্ষাপটে তিনি চূড়াচাঁদপুর জেলার মার্গারেট রামথারসিয়েমের উদ্যোগকে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রদানমন্ত্রী বলেন, রামথারসিয়েম তাঁর যাত্রা শুরু করেছিলেন একজন হস্তশিল্প শিল্পী হিসেবে। কিন্তু তিনি মণিপুরের ঐতিহ্যবাহী পণ্য-হস্তশিল্প সহ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি সামগ্রী নিয়ে আরও বৃহত্তর ভূমিকার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিস্তৃত এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়েই তিনি তাঁর সমাজে পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। আজ তাঁর হস্তশিল্প ইউনিটে ৫০ জনেরও বেশি স্থানীয় কারিগর কাজ করছে। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি তাঁর হস্তশিল্পের পণ্য সামগ্ৰী এখন দিল্লি সহ একাধিক রাজ্যে তাঁ সফল বাজার পেয়েছে। মোদী সেনাপতি জেলার চোকোনে ক্রিচেনার গল্পও শুনিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজে গভীরভাবে যুক্ত একটি পরিবার থেকে ওঠে এসে ক্রিচেনা ফুলচাষে বৈচিত্র্য এনেছেন। তিনি তাঁর আগ্রহকে একটি টেকসই জীবিকাভিত্তিক উদ্যোগে রূপান্তরিত করেছেন, যা স্থানীয় উৎপাদনকে বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করছে এবং অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়িত করছে। এই উদাহরণগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সহায়তায় ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা ও জ্ঞান শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত হতে পারে। তিনি নাগরিকদের তাঁদের আশপাশের এমন আরও সাফল্যের গল্প ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্বীকৃতি ও ব্যাপক প্রচারের যোগ্য।
দিগ্বিজয় সংগঠনের শক্তির কথা উল্লেখ করলেন, দিলেন দলের নেতৃত্বকে বার্তা
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং লালকৃষ্ণ আদভানি এবং নরেন্দ্র মোদীর একটি পুরনো ছবি পোস্ট করে যেভাবে লিখেছেন যে আরএসএস-এর একজন স্বয়ংসেবক এবং বিজেপির একজন তৃণমূল কর্মী মাটিতে বসে মুখ্যমন্ত্রী এবং তারপর প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। এর কারণ আরও বেশি, কারণ তিনি এই ছবির সাথে তার মনের কথা সেই সময় শেয়ার করেছেন, যখন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলছিল। তিনি উক্ত ছবিটিকে প্রভাবশালী বলে বর্ণনা করে এটিকে সংগঠনের শক্তির প্রতীকও বলেছেন। উল্লেখযোগ্য শুধু এটিই নয় যে তাকে সংগঠনের শক্তি বোঝানোর জন্য এই ছবিটিই উপযুক্ত মনে হয়েছে, বরং এটিও যে তিনি তার পোস্টে মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও ট্যাগ করেছেন। যদিও এই পোস্ট নিয়ে আলোচনার বাজার গরম হওয়ার পর তিনি সাফাই দিয়েছেন যে আমি কেবল সংগঠনের প্রশংসা করেছি এবং আমি তো আরএসএস এবং মোদীজির ঘোর বিরোধী, কিন্তু তার কথা থেকে এটি তো স্পষ্ট হয়েই গেছে যে তিনি কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে চিন্তিত এবং তিনি চান যে দলের নেতৃত্ব সংগঠনের দিকে মনোযোগ দিক। এটি কয়েক দিন আগে তার সেই পোস্ট থেকে আরও ভালোভাবে বোঝা যায়, যেখানে তিনি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন যে কংগ্রেসের সংস্কার এবং বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজন। এই পোস্টে তিনি এই প্রত্যাশা তো ব্যক্ত করেছিলেন যে রাহুল এমনটা করবেন, কিন্তু এর সাথে এটিও বলেছিলেন যে সমস্যা হল তাকে রাজি করানো কঠিন। এটি প্রথমবার নয়, যখন কংগ্রেসের কোনো নেতা দলের দুর্বলতাগুলো তুলে ধরেছেন, কিন্তু কোথাও কোনো মৌলিক পরিবর্তন হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। এটি এই কারণে হচ্ছে না, কারণ গান্ধী পরিবার চাটুকার নেতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত। কংগ্রেসে তারই কদর আছে, যে পরিবারের গুণগান করে। এক সময় গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের শক্তি ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইন্দিরা গান্ধীর সময় তো তখনও ভালো ছিল, কিন্তু তার মৃত্যুর পর যখন রাজীব গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করা হল তখন চাটুকার নেতাদের গুরুত্ব বেড়ে গেল এবং কংগ্রেস দুর্বল হতে থাকল। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা থেকে উদ্ভূত সহানুভূতির কারণে ১৯৮৪ সালে তো কংগ্রেস বিপুল জয় পেয়েছিল, কিন্তু তারপর থেকে সে কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আজ সোনিয়া এবং রাহুলের কংগ্রেস সেই আঞ্চলিক দলগুলোর উপর নির্ভরশীল, যারা তার থেকেই ভেঙে তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের লাগাম যদিও খাড়গের হাতে, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা গান্ধী পরিবারের কাছেই আছে এবং তারা সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে নিজেদের ব্যর্থতার দোষ মোদী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের উপর চাপাতে ব্যস্ত।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের চারজনকে এসআইআরের শুনানিতে ডাক
কলকাতা : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে ডাক পেলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবার। চার সদস্যকে নথি নিয়ে শুনানিতে হাজির থাকার নোটিস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘হেনস্তা’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। জানা গিয়েছে, শুনানি পর্বে ডাকা হয়েছে বারাসতের তৃণমূল সাংসদের বৃদ্ধা মা, দুই পুত্র ও তাঁর বোনকে। সাংসদের মা ও বোন বারাসতের মধ্যমগ্রামের ভোটার। কাকলির দুই ছেলে বিশ্বনাথ ও বৈদ্যনাথ পেশায় চিকিৎসক। তাঁরা কলকাতার ভোটার। উল্লেখ্য, শনিবার থেকে এসআইআরের শুনানি পর্ব শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় যাঁদের ‘ম্যাপিং’ হয়নি তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। অর্থাৎ ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, যাঁরা নিজের বা আত্মীয়ের কোনও বিবরণ দিতে পারেননি, সেই সব ভোটারকে ডাকা হচ্ছে।
ছাপড়ায় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু
সকাল সকাল ডেস্ক সারান : বিহারের ছাপড়া শহরের ভগবান বাজার থানা এলাকার অম্বিকা কলোনিতে শুক্রবার রাতে আগুনের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনটি শিশু ও তাদের ঠাকুমা রয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার জানা গেছে, তীব্র শীতের কারণে পরিবারের সদস্যরা একটি বন্ধ ঘরে আগুন জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ঘর বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সকালে পরিবারের এক সদস্য জেগে ওঠার পর বিষয়টি নজরে আসে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন তেজশ (৩), আধ্যায় (৪), সাত মাসের গুড়িয়া এবং কমলাবতী দেবী (৭০)। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন অমিত কুমার, আমিশা ও আরও একজন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছয়। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
মুম্বই বনাম উত্তরাখণ্ড বিজয় হাজারে ট্রফির খেলায় রোহিত শর্মা প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট
সকাল সকাল ডেস্ক জয়পুর : শুক্রবার জয়পুরে উত্তরাখণ্ডের বিপক্ষে মুম্বইয়ের এলিট পর্বের ম্যাচে রোহিত শর্মা প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হন। ৩৮ বছর বয়সী এই ওপেনার প্রথম ওভারের শেষ ডেলিভারিতে ডানহাতি মিডিয়াম পেসার আকাশ মাধওয়াল বোরার বলে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দেন, জগমোহন নাগরকোটি তার প্রাথমিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ক্যাচটি ধরেন। সিকিমের বিপক্ষে ৯৪ বলে ১৫৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ফিরে আসার মাত্র কয়েকদিন পরই এই আউট হলেন রোহিত। এই ইনিংসে তিনি লিস্ট এ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১৫০-এর বেশি রানের রেকর্ড ডেভিড ওয়ার্নারের সাথে সমান হয়ে যান। বিরাট কোহলির মতো, রোহিতও ভারতের সেরা ঘরোয়া ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতায় ফিরে এসেছেন। কোহলি শেষবার ২০০৯-১০ সালে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে রোহিতের আগের উপস্থিতি ছিল ২০১৭-১৮ মরসুমে। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া উভয়েই ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দৌড়ে রয়েছেন।