দিল্লিতে এখনও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু আছে : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দিল্লি পুলিশের কঠোর সমালোচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে এখনও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু আছে। সোমবার বঙ্গ ভবনে পৌঁছে মমতা বলেন, “দেখুন দিল্লি পুলিশ কী করছে। আমরা তাদের সমালোচনা করব না, কারণ এটি তাদের দোষ নয়। পুলিশ ভর্তি করে একটি বাস এখানে আনা হয়েছে। আমাদের নির্বাচন কমিশনে একটি বৈঠক আছে। আমরা এখানে একটি অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার পর এসেছি। ১৫০ জন মারা গেছে। অনেক পরিবারের সদস্য এখানে এসেছেন যাদের মৃত দেখানো হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য এবং তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য। যখন দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে, তখন দিল্লি পুলিশ কোথায় ছিল? আমরা যখন পৌঁছই, তখন দিল্লি ভয় পায়। আমরা চাইলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আনতে পারতাম। আমরা ৫০ জনকে এখানে এনেছি যাদের এসআইআর-এ মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ কাউকে রক্ষা করতে পারে না। দিল্লিতে এখনও একটি সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু আছে।”
রাষ্ট্রপতির ভাষণে রাহুলের ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিবৃতি; থামালেন রাজনাথ সিং, উত্তাল লোকসভা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোমবার লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিবৃতি দেন। ডোকলাম ইস্যুতে এদিন উত্তাল হয় সংসদ। রাহুল গান্ধীর ডোকলাম মন্তব্য নিয়ে পাল্টা সরব হন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। পাল্টা মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারভানের মন্তব্য তুলে ধরেছিলেন রাহুল গান্ধী। একটি ম্যাগাজিনের উদ্ধৃতি দেন রাহুল। রাজনাথ এদিন রাহুলকে থামিয়ে বলেন, আমি চাই লোকসভার বিরোধী দলনেতা যে ম্যাগাজিন থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন তা সংসদে উপস্থাপন করুন, কারণ তিনি যে ম্যাগাজিনের কথা বলছেন তা প্রকাশিত হয়নি।” তুমুল হইহট্টগোলের কারণে ৩টে পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভার অধিবেশন।
বিজেপি কথা বেশি বলে, কাজ করে কম, বাজেট নিয়ে মমতার প্রতিক্রিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : কেন্দ্রীয় বাজেটের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপি কথা বেশি বলে, কাজ করে কম। বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় মমতা বলেন, “তিনটি করিডোর সম্পর্কে তারা যা বলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। নির্লজ্জ মিথ্যা। এটি ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়াধীন এবং আমরা সেখানে কাজ শুরু করেছি।” মমতা বলেন, “পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল জঙ্গল সুন্দরী প্রকল্পে, এই অর্থনৈতিক করিডোরের জন্য, ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। তারা বাংলাকে এক পয়সাও দেয়নি। কেবল একটি কর আছে, জিএসটি। তারা আমাদের টাকা কেড়ে নিচ্ছে এবং বড় বড় কথা বলছে যে তারা আমাদের টাকা দিচ্ছে। এটা আমাদের টাকা। তাই, সরকার চালানোর এবং দেশকে এভাবে শেষ করার কোনও নৈতিক অধিকার তাদের নেই। তারা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, এই দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, স্বাধীন সংস্থাগুলিকে ধ্বংস করতে চায়…তারা বেশি কথা বলে কিন্তু কাজ কম করে।”
দুর্নীতিগ্রস্তদের বেছে বেছে জেলে ঢোকানো হবে, বার্তা অমিত শাহের
সকাল সকাল ডেস্ক ব্যারাকপুর : দুর্নীতিগ্রস্তদের বেছে বেছে জেলে ঢোকানো হবে, বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার ব্যারাকপুরের কর্মী সম্মেলনে অমিত শাহ বলেন, “মমতার শাসন দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠান করে ফেলেছে। এসএসসি, পুরসভা নিয়োগ, গরু, একশো দিনের কাজ, পিএম আবাসের দুর্নীতি হয়েছে। হাজার কোটির দুর্নীতি হয়েছে। মমতাজি, আপনার চোখে পড়ে না।” অমিত শাহ বলেন, “সব সীমা অতিক্রম করেছে দুর্নীতি। এখানকার মানুষ সিন্ডিকেট নিয়ে বিরক্ত। গুণ্ডাদের হাতে যায় টাকা। এই সরকার কি চলা উচিত? পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মদন মিত্র, পরেশ পাল, মানিক ভট্টাচার্য, অজিত মাইতি, চন্দ্রনাথ, কুন্তল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অনুব্রত মণ্ডল— সকলে জেলে গেছেন। আমাদের সরকার গড়তে দিন, বাকিদেরও ভরে দেব। মমতাজি, সাহস থাকলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইলে, এঁদের টিকিট দেবেন না।” অমিত শাহ বলেন, “ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির তদন্ত করব। এক এক জন দুর্নীতিগ্রস্তকে বেছে বেছে জেলে ঢোকাব। ১০ লক্ষ কোটির বেশি টাকা বাংলার সরকারকে দিয়েছি। আপনাদের গ্রামে এসেছে? কোথায় গেল? সব টাকা, যা মোদীজি পাঠান, তা তৃণমূল সিন্ডিকেটের হাতে যায়। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিজেপির সরকার গড়ুন, মোদীজি যা টাকা দেবেন, সব গ্রামে গ্রামে পৌঁছোবে। কোনও কাটমানি হবে না।’’
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০২৬ : মেলবোর্নে মহিলাদের ডাবলসের মুকুট জিতেছেন মার্টেনস, ঝাং
সকাল সকাল ডেস্ক মেলবোর্ন : শনিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতে চীনের ঝাং শুয়াইয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে মহিলা ডাবলস র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ফিরে আসেন এলিস মার্টেনস। প্রথম সেটে মার্টেনস এবং ঝাং দুবার পিছিয়ে ছিলেন – ০-৩ এবং ১-৪ – কিন্তু তারা কাজাখস্তানের আনা ড্যানিলিনা এবং সার্বিয়ার আলেকজান্দ্রা ক্রুনিককে ৭-৬ (৪), ৬-৪ গেমে পরাজিত করতে সক্ষম হন। মার্টেনস এবং ঝাং শেষ সেটে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন এবং ড্যানিলিনা এবং ক্রুনিক টানা চারটি গেম জিতেছিলেন। বর্তমানে ডাবলসে ৬ষ্ঠ স্থানে থাকা মার্টেনস, যিনি গত বছর ভেরোনিকা কুদেরমেতোভার সাথে উইম্বলডন ডাবলস শিরোপা জিতেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর আবারও ১ম স্থানে ফিরে আসবেন। মার্টেনস এবং ঝাং ২০২২ সালের উইম্বলডনের ফাইনালিস্ট ছিলেন, যেখানে ড্যানিলিনা এবং ক্রুনিক গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনে রানার্সআপ ছিলেন। শনিবারের এই জয়টি ছিল মের্টেন্সের ষষ্ঠ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ডাবলস শিরোপা, যার মধ্যে মেলবোর্ন পার্কে ২০২১ এবং ২০২৪ সালের শিরোপাও অন্তর্ভুক্ত।
ভদোদরার জাতীয় সড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ,মৃত দুই ও আহত একাধিক
সকাল সকাল ডেস্ক ভদোদরা : গুজরাটের ভদোদরা জেলার করজান এলাকায় জাতীয় সড়ক-৪৮-এ শুক্রবার একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় দুই যাত্রী প্রাণ হারায়, আহত প্রায় ১০-এর বেশি যাত্রী । আহতদের মধ্যে একাধিক যাত্রীকে সায়াজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসের কন্ডাক্টরও গুরুতর আহত, তাকে এসএসজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ভোর ৫–৫:৩০ টার মধ্যে ঘটে। ঔরঙ্গাবাদ থেকে আহমেদাবাদগামী যাওয়ার পথে ‘জয় খোদিয়ার ট্রাভেলস’-এর লাক্সারি বাস করজান ধাওয়াত চৌকির কাছে ব্রিজের পাশে দাঁড়ানো ট্রকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। খবর পেয়ে দমদম বাহিনীর দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে দমকল বাহিনীর কর্মীরা বাসের ভেতরে ঢুকে স্ট্রেচারের মাধ্যমে মৃতদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার সময় বাসে ৬৫–৭০ যাত্রী ছিলেন। অনেক যাত্রী রক্তমাখা অবস্থায় রাস্তার পাশে বসে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে হিম্মতভাই সুখাভাই দেবীপুজাক (৫০, লীলাপুর গ্রাম, রাজকোট) এবং মহম্মদ রফিক শেখ (৩৯, রোনাক পার্ক ডুপ্লেক্স, শাহআলম, আহমেদাবাদ)। আহত এক যাত্রী জানান, তারা মহারাষ্ট্রের পুণে শহরের খাড়কি সীমান্ত থেকে বাসে চড়ে আহমেদাবাদের আত্মীয়ের বিয়েতে যাচ্ছিলেন, তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসে থাকা অন্য আরেক যাত্রী জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন। আহত অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরে কিছু যাত্রী উপরের জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচেন, আবার কিছু যাত্রীকে জানালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়।
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে প্রশাসনিক গাফিলতির ইঙ্গিত, কড়া অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থার বার্তা রাজ্যপালের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : শুক্রবার মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে নিজের মতামত জানান। রাজ্যপাল বলেন, কোনও দুর্ঘটনাই নিছক ঘটনা নয়। প্রশাসনকে আরও সতর্ক হতে হবে এবং সর্বজনিক স্থানে নিয়মিত ‘ফায়ার অডিট’ করা অনিবার্য। এই ধরনের দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, সে বিষয়ে সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এখন পাল্টা অভিযোগের সময় নয়, বরং উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন তিনি। আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, এটি অত্যন্ত ভয়ংকর দৃশ্য এবং এতে মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে। আগুন লাগার সময় ও পরে যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, তা নেওয়া হয়নি বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। প্রশাসন ও গোডাউন মালিকপক্ষের সমান দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, মানুষের ভুল বলেও কড়া ভাষায় জানান রাজ্যপাল। খুব দ্রুত একটি অ্যাডভাইজারি জারি করা হবে বলেও তিনি জানান। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস।
বিমানে বোমা হামলার হুমকি, দিল্লিগামী বিমান ঘোরানো হলো আহমেদাবাদে
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ফের বিমানে বোমা হামলার হুমকি। কুয়েত থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগোর একটি বিমান শুক্রবার সকালে বোমা হামলার হুমকি পায়। এই ঘটনার পরেই বিমানটিকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ না করিয়ে দ্রুত আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, একটি টিস্যু পেপারে লেখা ছিল বিমানটি ছিনতাই করে উড়িয়ে দেওয়া হবে। বিমানটিতে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন| তাঁদের প্রত্যেকের জিনিসপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা শুরু হয়| পাশাপাশি, প্রত্যেক যাত্রীর পরিচয় যাচাই করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, তল্লাশি চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহজনক বস্তু মেলেনি ওই বিমানে। মোট ১৮০ জন যাত্রীর সকলকেই নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানানো হয়েছে।
রাজস্থানের ভরতপুরে স্লিপার বাস ও ট্রেলারের সংঘর্ষে মৃত ৪, আহত ৫ জন
সকাল সকাল ডেস্ক ভরতপুর : রাজস্থানের ভরতপুরে স্লিপার বাস ও ট্রেলারের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এছাড়াও আহত হয়েছেন ৫ জন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে লুধাওয়াইতে একটি স্লিপার বাস ও একটি ট্রেলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ৪ জন মারা গেছেন এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে আর্থার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জ থেকে আসা বাসটি জয়পুর যাচ্ছিল, তখন সেওয়ার ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলার সাতোভা গ্রামের বাসিন্দা গীতা (৩৮), তাঁরা ছেলে কানহা (৮), আলওয়ার জেলার কাঠুমারের বাসিন্দা বাস চালক মুখন সিং (২৮) এবং কাসগঞ্জের বাসিন্দা মুসলিম (৪০)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ঘন কুয়াশা ছিল।
ইউজিসি-র নতুন নির্দেশিকার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি সুপ্রিম কোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ইউজিসি-র নতুন কিছু নিয়মকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত ওই বিতর্কিত নির্দেশিকার উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। শুনানি চলাকালীন আদালত বলে, “আমরা কি ক্রমশ একটি পশ্চাৎপদ বা রক্ষণশীল সমাজের দিকে যাচ্ছি?” মামলাকারীর তরফে এ দিন সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। বিতর্ক ইউজিসি প্রমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬ ঘিরে। গত ১৩ জানুয়ারি এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। আদালত জানিয়েছে, ইউজিসি-র এই নির্দেশিকা উচ্চশিক্ষার প্রগতিশীল কাঠামোর ওপর আঘাত আনছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সরকারকে এই নিয়মগুলো ফের খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনে নতুন করে খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন নিয়মগুলি স্থগিত ও ২০১২ সালের পুরনো নিয়মগুলিই কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য, এই নতুন নিয়ম ইউজিসি এনেছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই। ২০১২ সালের ইউজিসি অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন রেগুলেশন কার্যকরভাবে রূপায়ণ হচ্ছে না— এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন রাধিকা ভেমুলা এবং আবেদা সালিম তাদভি। রাধিকা ভেমুলা হলেন গবেষক রোহিত ভেমুলার মা। আর আবেদা তাদভি হলেন মুম্বইয়ের চিকিৎসক পড়ুয়া পায়েল তাদভির মা। রোহিত ও পায়েল দু’জনেই জাতিভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ইউজিসিকে নতুন, শক্তিশালী নিয়ম তৈরির নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই ইউজিসি ২০২৬ সালের নতুন ইক্যুইটি রেগুলেশন জারি করে। ইউজিসি ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ‘ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন (প্রোমোশন অব ইক্যুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৬’। এর মাধ্যমে ২০১২ সালের জাতিভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী নিয়ম সংশোধন করা হয়। নতুন নিয়মে ‘কাস্ট-বেসড ডিসক্রিমিনেশন’ বা জাতিভিত্তিক বৈষম্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এমন বৈষম্য হিসেবে, যা শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সদস্যদের বিরুদ্ধে করা হয়। অর্থাৎ সংজ্ঞার মধ্যেই সাধারণ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকরা কার্যত বাদ পড়ছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈষম্য রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে হেল্পলাইন চালু করা, মনিটরিং ব্যবস্থা গঠন, নিয়মিত রিপোর্ট ইউজিসির কাছে পাঠানো ইত্যাদি। এই ব্যবস্থার দায়িত্ব সরাসরি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উপর চাপানো হয়েছে। উপাচার্য, অধ্যক্ষদের ব্যক্তিগতভাবে নিয়ম মানার নিশ্চয়তা দিতে হবে। যদি কোনও প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশিকা না মানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যেমন, নতুন কোর্স অনুমোদন বন্ধ করা, ইউজিসির বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া বা এমনকী প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি প্রত্যাহার পর্যন্ত করা হতে পারে। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে মূল আপত্তি এসেছে সংজ্ঞা নিয়েই। সমালোচকদের বক্তব্য, ইউজিসি যেভাবে ‘কাস্ট-বেসড ডিসক্রিমিনেশন’ সংজ্ঞায়িত করেছে, তাতে সাধারণ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা পুরোপুরি সুরক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, বৈষম্য যে কোনও দিক থেকেই হতে পারে। কিন্তু নতুন নিয়মে শুধু সংরক্ষিত শ্রেণির মানুষদেরই ‘ভিকটিম’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে সাধারণ শ্রেণির কেউ যদি বৈষম্যের শিকার হন, তাহলে তাঁদের জন্য কোনও কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তির পথ থাকছে না। আরও অভিযোগ, এই নিয়মে ‘ভুল অভিযোগ’ বা মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে কোনও সুরক্ষা নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুরু থেকেই অপরাধী ধরে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে, যা ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করবে।