Minab School Missile Attack: হামলার দায় নিয়ে ধোঁয়াশা, ‘হয়তো আমাদের ছিল, হয়তো নয়’— মন্তব্য ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক Minab School Missile Attack ঘিরে নতুন বিতর্ক, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রহস্য কাটছে না বলে ইঙ্গিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে সংঘটিত প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। Minab School Missile Attack-এর প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ঘটনার সময় চারদিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হচ্ছিল, ফলে হামলার উৎস নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের সূচনালগ্নে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ওই ঘটনায় বহু ছাত্রছাত্রী ও স্কুলকর্মী নিহত হন। হামলার পর থেকেই Minab School Missile Attack আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, কূটনৈতিক মহল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ হামলার পটভূমি মিনাব শহর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ওই এলাকায় একাধিক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। সেই সময় স্কুলে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। মার্চ মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন জল্পনা Minab School Missile Attack নিয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তদন্তকারীরা হয়তো কখনও পুরো সত্য উদঘাটন করতে পারবেন না। তাঁর মতে, সংঘাতের সময় একাধিক পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, ফলে দায় নির্ধারণ অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলছেন এটি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। আবার এমনও হতে পারে যে তা নয়। আমি এখনও এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ দেখিনি যা আমাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে।” জি-৭ সম্মেলনের সময়ও ট্রাম্প ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তখন তিনি এটিকে একটি সম্ভাব্য ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে উল্লেখ করলেও সরাসরি দায় স্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া হামলার পরপরই ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে দায়ী করে। তেহরানের দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত হামলা। যদিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের জরুরি বৈঠকে Minab School Missile Attack-কে ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, স্কুলের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধনীতি লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ। ভিডিও ফুটেজ নিয়ে বিতর্ক গত মার্চে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে দ্রুতগতিতে এসে স্কুল ভবনে আঘাত হানতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ফুটেজে বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখানো হয়। তবে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলো এখনও ভিডিওগুলোর সত্যতা ও উৎস যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফুটেজ প্রকাশ পেলেও Minab School Missile Attack-এর দায় নির্ধারণে তা এখনও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। আন্তর্জাতিক প্রভাব ও কূটনৈতিক সংকট বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখন এই হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আব্বাস আরাগচির অভিযোগ, হামলার ফলে আলোচনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশও মনে করছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। সরকারি অবস্থান ও জনসাধারণের জন্য তথ্য এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর হামলা সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দেবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হয়নি। Minab School Missile Attack-এর প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে। চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন, জল্পনা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বহাল থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Commercial LPG Supply Restart: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে বড় স্বস্তি
সকাল সকাল ডেস্ক Commercial LPG Supply Restart-এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও শিল্পক্ষেত্রে ফিরছে স্বাভাবিকতা, কমতে পারে উৎপাদন ব্যয় দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর দিল কেন্দ্র সরকার। Commercial LPG Supply Restart-এর ঘোষণা করে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের উপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং সংস্থা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে আবার স্বাভাবিকভাবে এলপিজি পৌঁছাতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়িক মহল অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কারণ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহে ঘাটতির কারণে বহু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং কাঁচামাল ব্যবস্থাপনায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। Commercial LPG Supply Restart-এর ফলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন তুলে নেওয়া হল নিষেধাজ্ঞা? পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে যাওয়ায় বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে আর বড় কোনও বাধা নেই। এর ফলে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। এই কারণেই সরকার Commercial LPG Supply Restart-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মন্ত্রকের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে যে পরিমাণ বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হত, সেই মাত্রায় সরবরাহ ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ হোটেল ও শিল্পক্ষেত্রে মিলবে বড় স্বস্তি এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, ক্যাটারিং পরিষেবা এবং বিভিন্ন উৎপাদনশীল শিল্প প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক সপ্তাহে বাণিজ্যিক এলপিজির সরবরাহ সীমিত হওয়ায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে, যার ফলে খরচ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়ে আনতেও বাধ্য হয়েছে সংস্থাগুলি। Commercial LPG Supply Restart কার্যকর হওয়ার ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিষেবা খাতের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ইতিবাচক প্রভাব খাদ্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে কিছু পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাল্ক এলপিজি সরবরাহেও শিথিলতা শুধু বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নয়, বাল্ক এলপিজি সরবরাহ ক্ষেত্রেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে যে পরিমাণ বাল্ক এলপিজি সরবরাহ করা হত, তার প্রায় ৫০ শতাংশ পুনরায় চালু করা হচ্ছে। এর ফলে বড় শিল্প ইউনিট এবং বৃহৎ বাণিজ্যিক গ্রাহকরাও কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়া পিএনজি বা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসের ক্ষেত্রে এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের জন্য পূর্ববর্তী কিছু বিধিনিষেধ এখনও বহাল রয়েছে। Background: কেন জারি হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞা? ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার অত্যাবশ্যক পণ্য আইন প্রয়োগ করে। তখন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে সি-৩ এবং সি-৪ হাইড্রোকার্বন স্ট্রিম মূলত এলপিজি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। ফলে এই কাঁচামাল পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছিল একাধিক বড় শিল্প সংস্থার ওপর। বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন খাতে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। Official Statement: সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সি-৩ এবং সি-৪ স্ট্রিমের উপর আরোপিত বিধিনিষেধও শিথিল করা হচ্ছে। ফলে এই উপাদানগুলি আবার পেট্রোকেমিক্যাল এবং অন্যান্য শিল্পে ব্যবহার করা যাবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। দেশে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ হাজার টন এলপিজি উৎপাদন বজায় রাখতে হবে। সরকারের মতে, এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে গৃহস্থালি এবং শিল্প—উভয় ক্ষেত্রের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। Impact: অর্থনীতি ও বাজারে কী প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, Commercial LPG Supply Restart শুধু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করবে না, বরং শিল্পোৎপাদন এবং পরিষেবা খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উৎপাদন ব্যয় কমলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে খাদ্য ও পরিষেবা খাতের মূল্যবৃদ্ধির চাপও কিছুটা কমতে পারে। Public Information সরকার স্পষ্ট করেছে যে গৃহস্থালি এলপিজি সরবরাহে কোনও ঘাটতি তৈরি হবে না। বাণিজ্যিক সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদাও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। ফলে আগামী দিনে জ্বালানি বাজার আরও স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
Kim Keon Hee Bribery Case: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন ফার্স্ট লেডিকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, ঘুষ কাণ্ডে বড় রায়
সকাল সকাল ডেস্ক Kim Keon Hee Bribery Case-এ আদালতের কড়া অবস্থান, সরকারি নিয়োগে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি দক্ষিণ কোরিয়ার বহুল আলোচিত Kim Keon Hee Bribery Case-এ বড় রায় দিল সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। সরকারি নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণের অভিযোগে দেশটির প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত এই রায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কিম কিয়ন হি হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের স্ত্রী। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি বিরোধী রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। Kim Keon Hee Bribery Case এখন শুধু একটি আইনি মামলা নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। Kim Keon Hee Bribery Case-এ কী অভিযোগ ছিল? দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে একটি নির্মাণ সংস্থার চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ১০ কোটি ওয়নেরও বেশি মূল্যের উপহার গ্রহণ করেন কিম কিয়ন হি। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৬১ লক্ষ টাকার বেশি। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব উপহারের মধ্যে ছিল বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের একটি দামি নেকলেস। এর বিনিময়ে সরকারি নিয়োগ সংক্রান্ত সুপারিশ এবং প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। আদালত এই ঘটনাকে প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ গ্রহণের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। ফলে Kim Keon Hee Bribery Case-এ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বেশ কয়েকটি ধারা প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে আরও একাধিক উপহারের তথ্য বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে কিম একটি সরকারি পদে নিয়োগের সুপারিশের বিনিময়ে সোনার কচ্ছপ আকৃতির একটি অলঙ্কার গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া সেপ্টেম্বর ২০২২-এ এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিখ্যাত সুইস ব্র্যান্ড ভ্যাশেরন কনস্টান্টিনের একটি দামী ঘড়ি এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক প্রাক্তন প্রসিকিউটরের কাছ থেকে শিল্পী লি উফানের একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম গ্রহণের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। এই সব ঘটনাই Kim Keon Hee Bribery Case-এর তদন্তকে আরও জোরালো করে তোলে এবং আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। ডিওর হ্যান্ডব্যাগ বিতর্কে রাজনৈতিক ঝড় মামলার অন্যতম আলোচিত অংশ ছিল একটি ডিওর ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ গ্রহণের অভিযোগ। বিশেষ তদন্তকারী দলের দাবি, ২০২২ সালে এক পাদরির কাছ থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ ওয়ন মূল্যের এই ব্যাগ গ্রহণ করেছিলেন কিম। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বিষয়টি জনসমক্ষে আসতেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে। সেই বিতর্কও পরবর্তীতে Kim Keon Hee Bribery Case-এর আলোচনাকে আরও তীব্র করে তোলে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ আদালত ও প্রসিকিউশনের সরকারি বক্তব্য Official Statement বিশেষ প্রসিকিউটর মিন জুং-কির নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল আদালতের কাছে কিম কিয়ন হির জন্য সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। প্রসিকিউশন আদালতে জানায়, কিম তাঁর ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রাপ্ত প্রভাব এবং সামাজিক অবস্থানকে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রভাব খাটানোর বিনিময়ে একাধিকবার মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন, যা দুর্নীতি দমন আইনের পরিপন্থী। আদালতও এই যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। Background: আগের দুর্নীতি মামলাতেও দোষী সাব্যস্ত এটি কিম কিয়ন হির বিরুদ্ধে প্রথম রায় নয়। গত মাসেই দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি পৃথক মামলায় একটি আপিল আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। ফলে ধারাবাহিকভাবে একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। Impact: দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, Kim Keon Hee Bribery Case-এর রায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় বার্তা দিয়েছে। ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব—এই বার্তাই সামনে এসেছে। এছাড়া সরকারি নিয়োগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও এই মামলার দিকে গভীর নজর রাখছেন। Public Information বর্তমানে কিম কিয়ন হির আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মামলাটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফারস উপসাগরে নির্ধারিত নৌপথ মেনে চলার নির্দেশ, সতর্কবার্তা পিজিএসএ-র
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান : ইরানের পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অ্যাফেয়ার্স অথরিটি (পিজিএসএ) হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে নির্ধারিত ট্রানজিট রুট বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচল করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা, বীমা সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দায়বদ্ধতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পিজিএসএ জানায়, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ট্রানজিট রুট অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো জাহাজ যদি নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে অন্য কোনো পথ ব্যবহার করে, তবে সেটিকে সরকারি নিরাপত্তা ও নিরাপদ পারাপারের আওতার বাইরে বলে গণ্য করা হবে। পিজিএসএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অনুমোদনহীন রুটে চলাচলের ফলে কোনো দুর্ঘটনা, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী সংস্থা এবং ক্যাপ্টেনের ওপর বর্তাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ইরানি প্রশাসন কোনো ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষরের পর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য বিভিন্ন ট্রানজিট প্রক্রিয়া ও নির্দেশিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিজিএসএ জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ট্রানজিটের আবেদন জমা দেওয়া জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পারাপারের সুবিধা দেওয়া হবে। এর জন্য জাহাজকে প্রণালীর নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে পিজিএসএ-র সরকারি মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে বৈধ যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানও বাধ্যতামূলক। সংস্থাটি আরও ঘোষণা করেছে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ৬০ দিন কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না। এই সময়ে নিরাপত্তা, নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশগত পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি বীমা কভারেজের সমস্ত ব্যয় সরকার নিজেই বহন করবে।
China-Bangladesh Relations: সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত লি ছিয়াং ও তারেক রহমান
সকাল সকাল ডেস্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে একমত চীন ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। China-Bangladesh Relations নিয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে কৌশলগত আস্থা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। China-Bangladesh Relations নতুন উচ্চতায় বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, China-Bangladesh Relations আরও গভীর করতে উভয় দেশকে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান। লি ছিয়াং বলেন, দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও সুসংহত হবে এবং এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তাঁর মতে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চীন বাংলাদেশের আরও বেশি মানসম্পন্ন পণ্য আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে শিল্প, অবকাঠামো এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার কথাও জানানো হয়েছে। China-Bangladesh Relations শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং উভয় দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে নতুন গতি দিতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে। প্রযুক্তি ও উদীয়মান খাতে সহযোগিতা চীন নতুন যুগের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং স্মার্ট অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। লি ছিয়াং বলেন, China-Bangladesh Relations-এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হবে প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব। উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করলে ডিজিটাল রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের অবস্থান ও সরকারি বক্তব্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান পররাষ্ট্রনৈতিক অগ্রাধিকার। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে ‘এক-চীন নীতি’ অনুসরণ করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে চীনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন কৌশল, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহী। তারেক রহমান চীনের প্রস্তাবিত বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে China-Bangladesh Relations আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় চলমান প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের যোগাযোগ, জ্বালানি এবং শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই অংশীদারিত্ব একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। জনসাধারণের জন্য কী বার্তা দুই দেশের এই সমঝোতা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। China-Bangladesh Relations নিয়ে এই বৈঠক প্রমাণ করেছে যে উভয় দেশ ভবিষ্যতের উন্নয়ন ও সহযোগিতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফলে আগামী দিনে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
ইরান আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক কুয়েত সিটি,। ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কোনও আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে রয়েছেন রুবিও। সফরকালে তিনি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কুয়েত সিটিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রতিটি ধাপে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও সমন্বয় বজায় রাখা হবে। রুবিও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণভাবে একজোট থাকব। আলোচনার বিষয়ে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।” সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগের স্পষ্ট সমাধান এখনও উঠে আসেনি। তবে মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যা তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা বা স্বার্থের পরিপন্থী হয়। এদিকে, হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যদিও আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আজ বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হতে চলা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মার্কো রুবিওর। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে বামপন্থী শিবিরের উত্থান, মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য
সকাল সকাল ডেস্ক নিউইয়র্ক। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন বামঘেঁষা রাজনৈতিক ধারার প্রার্থীরা। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থিত একাধিক প্রার্থী নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হওয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত লড়াইটি হয় নিউইয়র্কের টেনথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে। সেখানে বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেছেন প্রগতিশীল নেতা ব্র্যাড ল্যান্ডার। চূড়ান্ত ফলাফলে ল্যান্ডার প্রায় ৬৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। গোল্ডম্যান পান ৩৪.১ শতাংশ ভোট। ইসরায়েল-গাজা সংঘাতকে ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, এই নির্বাচন তারও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ব্র্যাড ল্যান্ডার দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ড্যান গোল্ডম্যান ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনের পর ল্যান্ডার বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা এমন নেতৃত্বকে বেছে নিয়েছেন, যারা অন্যায় ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে প্রস্তুত। এদিকে, নিউইয়র্কের সেভেনথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজ বিজয়ী হয়েছেন। একইভাবে থার্টিনথ ডিস্ট্রিক্টে ডক্টরাল শিক্ষার্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কর্মী দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়েরও জয় লাভ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে পরাজিত করেন। এসপাইলাত টানা পাঁচ মেয়াদ ধরে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন এবং কংগ্রেসনাল হিস্পানিক ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর পরাজয়কে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জোহরান মামদানি বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি ভোটারদের সমর্থনকে স্বাগত জানান। মার্কিন বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম মুখ বার্নি স্যান্ডার্সও ব্র্যাড ল্যান্ডারের প্রচারে সমর্থন দিয়েছিলেন। অন্যদিকে পরাজয় স্বীকার করে ড্যান গোল্ডম্যান বলেন, ভোটাররা তাঁদের রায় দিয়েছেন এবং তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে ফোন করে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি সামাজিক মাধ্যমে গোল্ডম্যানকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল ও মূলধারার শিবিরের শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা দিল এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে জল ডুবে মৃত্যু ৪০; ব্যাহত শিক্ষা ও পরিবহন ব্যবস্থা
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন/প্যারিস। তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের একাধিক দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পৌঁছেছে। চরম গরমের প্রভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফ্রান্সে গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও সমুদ্রে নামতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে মৃতদের অধিকাংশই তরুণ। লাইফগার্ডবিহীন জলাশয়ে নামার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে এসব মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিসো এলাকায় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর জুন মাসে এটি অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহ। যুক্তরাজ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দক্ষিণ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর জেরে শত শত স্কুলে আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মেট অফিস ও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বিশেষ সতর্কতা জারি করে জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে রেললাইনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি রুটে ট্রেনের গতি সীমিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে নদী ও হ্রদে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিট এক্সহস্টশন, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন স্কুলে ইউনিফর্ম নীতিতে শিথিলতা, অতিরিক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং খেলাধুলা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে প্রবাহিত উষ্ণ বায়ু এবং ‘হিট ডোম’ পরিস্থিতির কারণে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও ঘনত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপ দ্বিগুণেরও বেশি হারে উষ্ণ হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে ৭০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। একই বছর যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, যা দেশটির আবহাওয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইরান আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের
সকাল সকাল ডেস্ক কুয়েত সিটি,। ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কোনও আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে রয়েছেন রুবিও। সফরকালে তিনি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর কুয়েত সিটিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রতিটি ধাপে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও সমন্বয় বজায় রাখা হবে। রুবিও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণভাবে একজোট থাকব। আলোচনার বিষয়ে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।” সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগের স্পষ্ট সমাধান এখনও উঠে আসেনি। তবে মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যা তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা বা স্বার্থের পরিপন্থী হয়। এদিকে, হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যদিও আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আজ বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হতে চলা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মার্কো রুবিওর। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
আসিম মুনিরকে হত্যার ছক নিয়ে চাঞ্চল্য, প্রমাণ ছাড়াই মোসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ/জেনেভা। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ব্রাজিলীয় সাংবাদিক ও ভূ-কৌশল বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। তবে এই দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তানের একাধিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষকও অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একটি আন্তর্জাতিক পডকাস্টে অংশ নিয়ে এসকোবার দাবি করেন, জেনেভায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা শান্তি-আলোচনার সময় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা নাকি এমন একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য পেয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল, এমনকি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকেও নিশানা করতে পারে। এসকোবারের দাবি, এই তথ্য পাওয়ার পর পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইজরায়েলকে সতর্কবার্তা পাঠায় এবং জানিয়ে দেয় যে, কোনও ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। তবে তিনি তাঁর দাবির পক্ষে কোনও নথি, গোয়েন্দা রিপোর্ট বা স্বাধীন সূত্রের তথ্য প্রকাশ করেননি। সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেনেভায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়, যেখানে পাকিস্তান ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, এসকোবারের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের সাংবাদিক মহলের একাংশ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ তালাত হুসেন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এই দাবির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।” তাঁর মতে, পাকিস্তানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাও অভিযোগটিকে ‘বিকৃত প্রচার’ বলে অভিহিত করেছেন। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার, সেনাবাহিনী কিংবা ইজরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে মোসাদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ আপাতত যাচাই-বাছাইহীন দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাবে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সরকারি বা স্বাধীন কোনও সূত্র থেকেও এখনও পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।