সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান : ইরানের পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অ্যাফেয়ার্স অথরিটি (পিজিএসএ) হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে নির্ধারিত ট্রানজিট রুট বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচল করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা, বীমা সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দায়বদ্ধতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পিজিএসএ জানায়, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ট্রানজিট রুট অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো জাহাজ যদি নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে অন্য কোনো পথ ব্যবহার করে, তবে সেটিকে সরকারি নিরাপত্তা ও নিরাপদ পারাপারের আওতার বাইরে বলে গণ্য করা হবে।
পিজিএসএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অনুমোদনহীন রুটে চলাচলের ফলে কোনো দুর্ঘটনা, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী সংস্থা এবং ক্যাপ্টেনের ওপর বর্তাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ইরানি প্রশাসন কোনো ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষরের পর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য বিভিন্ন ট্রানজিট প্রক্রিয়া ও নির্দেশিকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিজিএসএ জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ট্রানজিটের আবেদন জমা দেওয়া জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পারাপারের সুবিধা দেওয়া হবে। এর জন্য জাহাজকে প্রণালীর নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে পিজিএসএ-র সরকারি মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে বৈধ যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানও বাধ্যতামূলক।
সংস্থাটি আরও ঘোষণা করেছে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ৬০ দিন কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না। এই সময়ে নিরাপত্তা, নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশগত পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট ইরানি বীমা কভারেজের সমস্ত ব্যয় সরকার নিজেই বহন করবে।
No Comment! Be the first one.