সুশাসনে সকলের অংশীদারিত্ব, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জোর মোদীর

সকাল সকাল ডেস্ক

নয়াদিল্লি : দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুশাসনে সকলের অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার ‘সেবা জ্যোতি’ কর্মসূচিতে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে এখন ভারতীয় পাইলটদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আগামী দিনে বিশ্বে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বিমান নিয়েও আলোচনা হবে। এই লক্ষ্য পূরণে দূরদর্শী নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, এখন বিশ্রাম নেওয়ার সময় নয়, উৎসাহ ও উদ্যমের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এবং দেশের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করার সময়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ তাঁর কাছে সুশাসনের ভিত্তি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে সমাজকে ভোটব্যাঙ্কের ভিত্তিতে ভাগ করার প্রবণতা দেশের সামনে বড় সমস্যা তৈরি করেছে। মাঠে জল না পৌঁছলে কি শুধু কোনও একটি জাতির কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন? বিদ্যুৎ না থাকলে কি শুধু কোনও একটি সম্প্রদায়ের ঘরেই অন্ধকার নামে?—এই প্রশ্ন তুলে মোদী বলেন, সমস্যার প্রভাব যখন সকলের ওপর পড়ে, তখন তার সমাধানও সকলের জন্য হতে হবে।

এই ভাবনা থেকেই সরকার সুশাসনের সঙ্গে ‘স্যাচুরেশন’ বা সর্বজনীন সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ধারণাকে যুক্ত করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর অর্থ হলো প্রতিটি যোগ্য সুবিধাভোগীকে সরকারি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা। কোনও যোগ্য ব্যক্তি যেন বাদ না পড়েন, অধিকারপ্রাপ্ত কেউ যেন বঞ্চিত না হন এবং একজনের অধিকার যেন অন্য কেউ দখল করতে না পারেন—এই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা বলে জানান তিনি।

দেশ এখন বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে চলেছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি একসময় দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখা হতো এবং এর প্রভাব থেকে দেশ বেরিয়ে আসতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে ৩৭০ অনুচ্ছেদের সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নকশালবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় এটিকে দেশের অভিশাপ বলে মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমানে তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদও ভারতের ভবিষ্যৎকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতারা কখনও থামবে না। কিন্তু ভারতের সংকল্পের জোরে তাদের নিজেদের ঘাঁটির ভিতরেই আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে সম্মিলিত প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্য পূরণে নীতি, পরিশ্রম, প্রযুক্তি এবং নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More