ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে ইরানের দিকে আঙুল ট্রাম্পের, ভিন্ন সুর ভ্যান্সের

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের উপর ছুরি হামলার ঘটনায় এ বার সরাসরি ইরানের দিকে আঙুল তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বিশ্বাস, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার নেপথ্যে তেহরানের ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও একই প্রশ্নে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে ইরানকে সরাসরি দায়ী করা যায়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফ জেড ১০৭৩ বিমান। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই ইজরায়েলের নাগরিক। মাঝ আকাশে আচমকাই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল হাম্মামির বিরুদ্ধে।

হামলায় গুরুতর আহত হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন স্মিত। তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলট পরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।

ঘটনার পর থেকেই হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবের কয়েক জন আধিকারিক ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে অভিযুক্ত একাই ওই পরিকল্পনা করেছিল, নাকি তার পিছনে কোনও সংগঠন বা গোষ্ঠী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে হামাম্মামি বিমানটি তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। চলতি বছরেও একই ধরনের আরও একটি হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল কি না, তাও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।

এর মধ্যেই সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর বিশ্বাস এই ঘটনার নেপথ্যে ইরানের ভূমিকা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ফলে তেহরানের সম্ভাব্য যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর এই বক্তব্য এখনও তদন্তকারীদের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নেন ভ্যান্স। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তদন্ত করছে। কিন্তু এখনও তাঁর সামনে এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ আসেনি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিত ভাবে তেহরানকে দায়ী করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিকেরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান তিনি।

ফলে একই ঘটনায় ওয়াশিংটনের দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য সামনে এসেছে। ট্রাম্প যেখানে প্রকাশ্যেই ইরানের দিকে সন্দেহের আঙুল তুলেছেন, সেখানে ভ্যান্স তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ।

এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন—হামাম্মামি কি একাই এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল, নাকি তার সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বা অন্য কোনও দেশের যোগ ছিল? একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগের পক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।

তবে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের তৎপরতা এবং যাত্রী ও বিমানকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে হামলার নেপথ্যে প্রকৃত পরিকল্পনা কী ছিল এবং তাতে অন্য কোনও শক্তির ভূমিকা ছিল কি না।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More