সকাল সকাল ডেস্ক
২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনও ইংরেজ ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। দীর্ঘ ২৫ বছরের সেই অপেক্ষা কি এবার শেষ হতে চলেছে? ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেনকে ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। তাঁর সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে এবং বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলগত সাফল্য—দুই ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত একটি বছর কাটিয়েছেন কেন। গত ১২ মাসে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করার পাশাপাশি ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। অর্থাৎ সরাসরি ৮১টি গোলে অবদান রয়েছে ইংরেজ স্ট্রাইকারের।
বায়ার্নের জার্সিতেও একের পর এক সাফল্য এসেছে তাঁর ঝুলিতে। জার্মান লিগ, ডিএফবি পোকাল এবং জার্মান সুপার কাপ জিতে ঘরোয়া ট্রেবল সম্পূর্ণ করেছে বায়ার্ন। বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয়বার সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান পেয়েছেন কেন। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু-ও তাঁর দখলে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক মরসুমে ১৪টি গোল করে ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে নজির গড়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়েও কেনের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর পা থেকে এসেছে ৬টি গোল। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে ইংল্যান্ড। ডিএফবি পোকালের ফাইনালে স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে বায়ার্নের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে কেনের হ্যাটট্রিকও তাঁর মরসুমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত।
তবে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কেনকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২টি গোল করেছেন ফরাসি তারকা। লা লিগায় তাঁর গোলসংখ্যা ২৫ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতেছেন এমবাপে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের তুলনায় দলগত ট্রফির সংখ্যা তাঁর ক্ষেত্রে কম।
অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের শক্তি মূলত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সঙ্গে দলের একাধিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা। লা লিগায় ১৬টি গোলের পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ২৪টি গোল এবং ২০টির বেশি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা, কোপা দেল রে ও সুপার কাপ জয়ের সাফল্যও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
ফলে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তিন তারকার দাবির ভিত্তি তিন রকম। এমবাপের শক্তি তাঁর বিপুল গোলসংখ্যা, ইয়ামালের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে দলগত সাফল্য। আর কেনের পক্ষে রয়েছে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি একাধিক ট্রফি জয়ের রেকর্ড। একসময় ‘ট্রফিহীন স্ট্রাইকার’ তকমা পাওয়া কেনের কেরিয়ারে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা অবশ্য নির্ধারণ করবেন ভোটদাতারাই। কেন, এমবাপে ও ইয়ামালের পারফরম্যান্স এবং দলগত সাফল্যকে ঘিরে তাই পুরস্কার ঘোষণার আগে আলোচনা আরও বাড়বে।
ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর অনুষ্ঠান ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতীয় সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের কথা রয়েছে। টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারের চূড়ান্ত সূচি সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকারী ও আয়োজকদের ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
No Comment! Be the first one.