সকাল সকাল ডেস্ক
আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান আলেকজান্ডার জেরেভের। ফাইনালে বেন শেলটনকে চার সেটের লড়াইয়ে হারিয়ে কেরিয়ারের প্রথম ইউএস ওপেন খেতাব জিতলেন জার্মান তারকা। ম্যাচের ফল ৬-৩, ৭-৬(২), ৫-৭, ৬-২। চলতি মরসুমে এটি তাঁর দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব। এর আগে ফরাসি ওপেনও জিতেছিলেন তিনি।
তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফি জয়ের আনন্দের মধ্যেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জেরেভ। ফিরে যান শৈশবের কঠিন দিনগুলিতে। টাইপ ১ ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে পাশে থাকা মা ইরিনার অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মাত্র চার বছর বয়সে টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল জেরেভের। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, এই রোগ তাঁর স্বাভাবিক জীবন এবং খেলাধুলার সুযোগ সীমিত করে দিতে পারে। কিন্তু সেই সময় ছেলের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইরিনা। জেরেভের কথায়, চিকিৎসকদের আশঙ্কার কথা শোনার পরও তাঁর মা বিশ্বাস করেছিলেন, অসুস্থতা কখনও ছেলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।
ট্রফি হাতে জেরেভ বলেন, তাঁর টেনিস জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ তাঁর মা। ছোটবেলায় চিকিৎসকদের কাছ থেকে কঠিন বার্তা পাওয়ার পরও ইরিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ছেলে ভবিষ্যতে যা হতে চাইবে, সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তাকে দেওয়া হবে।
জেরেভ জানান, তাঁর মা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ডায়াবেটিস কখনও তাঁর পরিচয় হয়ে উঠবে না। টেনিস খেলোয়াড় হতে চাইলে তিনি টেনিসই খেলবেন, অন্য কিছু করতে চাইলে সেই পথেই এগোবেন। অসুস্থতা তাঁর জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে দেবে না। মাকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মহিলা’ বলেও উল্লেখ করেন জার্মান তারকা।
দীর্ঘদিন নিজের ডায়াবেটিসের কথা প্রকাশ্যে আনেননি জেরেভ। ২০২২ সালে প্রথমবার বিষয়টি প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে শুরু করেন ‘আলেকজান্ডার জেরেভ ফাউন্ডেশন’। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ইনসুলিন ও ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ইউএস ওপেন জয় জেরেভের কাছে আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালে এই নিউ ইয়র্কেই প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে ডমিনিক থিমের বিরুদ্ধে প্রথম দুই সেট জেতার পরও শেষ পর্যন্ত খেতাব হাতছাড়া হয়েছিল। ছ’বছর পর সেই আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামেই মিটল পুরনো আক্ষেপ।
এবার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিলেন ঘরের ছেলে বেন শেলটন। প্রথম দুই সেট জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন জেরেভ। তৃতীয় সেটে শেলটন ঘুরে দাঁড়ালেও চতুর্থ সেটে আর সুযোগ দেননি জার্মান তারকা। ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে নিশ্চিত করেন বহু প্রতীক্ষিত ইউএস ওপেন খেতাব।
কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্যের রাতেও তাই জেরেভের কথায় বারবার ফিরে এসেছেন তাঁর মা। যে বিশ্বাস নিয়ে শৈশবে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ইরিনা, নিউ ইয়র্কে ইউএস ওপেনের ট্রফি হাতে সেই লড়াইকেই সম্মান জানালেন জেরেভ।
No Comment! Be the first one.