সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি : হিন্দি দিবস উপলক্ষে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও অভিভাবকদের বিশেষ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিজের মাতৃভাষাকে কখনও অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের যত বেশি সম্ভব ভাষা শেখা উচিত, কিন্তু নিজের ভাষাকে কখনও পরিত্যাগ করা উচিত নয়। নিজের ভাষায় কথা বললে নিজেকে ছোট মনে করার মানসিকতাকে ‘বড় পাপ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার হিন্দি দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ভারত ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির এক অনন্য দেশ। দেশের বিভিন্ন ভাষার ভিন্নতাকে অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হলেও, এই বৈচিত্র্যই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রতিটি ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনদর্শন, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর মতে, এই ভাষাগত বহুত্বই ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে।

হিন্দি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হিন্দি কোনও ভারতীয় ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ ও জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে হিন্দি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ভূমিকা পালন করে। দেশের ইতিহাসেও তার বহু উদাহরণ রয়েছে।
অমিত শাহ উল্লেখ করেন, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মাতৃভাষা গুজরাটি হলেও তিনি হিন্দিতে ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ রচনা করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী ১৯১৮ সালে মাদ্রাজে ‘দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আবার বাংলাভাষী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর যোগাযোগের ভাষা হিসেবে হিন্দিকে বেছে নিয়েছিলেন এবং দেশবাসীকে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান উপহার দিয়েছিলেন। হিন্দিভাষী না হয়েও বহু মহান ব্যক্তিত্বের হিন্দির প্রসারে অবদান দেশের ভাষাগত ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, তাঁর মাতৃভাষা গুজরাটি। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে হিন্দি তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করে। স্বাধীনতার পর ভারতীয় ভাষাগুলি দেশ গঠন, প্রশাসন পরিচালনা এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি।
১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গণপরিষদ হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল বলে উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পরও নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মমর্যাদার বিষয়গুলি দীর্ঘদিন প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘রাজপথ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কর্তব্য পথ’ করা কিংবা ঔপনিবেশিক আমলের আইন পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপকে তিনি আত্মগৌরব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেন।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে অমিত শাহের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘বিশ্বের যত বেশি সম্ভব ভাষা তোমরা শেখো, কিন্তু নিজের ভাষাকে কখনও পরিত্যাগ করো না।’’ একইসঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, নিজের ভাষায় কথা বললে নিজেকে ছোট মনে করার হীনম্মন্যতার চেয়ে বড় পাপ নেই। কারণ, মাতৃভাষাই মানুষকে তার মা, মাটি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে।
No Comment! Be the first one.