সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান, ২ সেপ্টেম্বর: ইরানের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘লাভান দ্বীপে’ একদিন আগে চালানো মার্কিন হামলায় আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। রাতভর চলা মার্কিন বিমান হামলায় সামরিক সদস্য ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে এক ইরানি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, কোহেস্তকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন এবং খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কেরমানশাহে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির চার সদস্য এবং লাভান দ্বীপে বাসিজের তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। সাধারণ নাগরিকদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুমান করা হয়, বাসিজে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার যোদ্ধা রয়েছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রায়ই এই বাহিনীকে সামনের সারিতে মোতায়েন করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিদ্রোহ দমনে বাসিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইজরায়েল এই সংগঠনের প্রধান কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যা করেছিল।
বাসিজ আইআরজিসির পাঁচটি শাখার অন্যতম। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেইনি এই বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন দমনে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ও সহিংস ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি পোশাকবিধি, বিশেষ করে হিজাব সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতেও বাসিজকে ব্যবহার করা হয়। নৈতিক পুলিশিংয়ের পাশাপাশি ইরানের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় কট্টর ইসলামি মতাদর্শের প্রচার এবং দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পক্ষে জনমত তৈরির ক্ষেত্রেও এই বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
No Comment! Be the first one.