সকাল সকাল ডেস্ক
লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দৃঢ় আস্থাশীল একটি দেশ হিসেবেও আন্তর্জাতিক পরিসরে আত্মপ্রকাশ করেছে। শনিবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের দরবারে ভারতের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ভারত যখন কোনও বিষয়ে মতামত জানায়, আন্তর্জাতিক মহল তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তাঁর কথায়, ‘নতুন ভারত’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, দেশ আর কেবল বৈশ্বিক নিয়ম অনুসরণকারী নয়; বরং আন্তর্জাতিক নীতি ও মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

রাজনাথ সিংয়ের মতে, একটি দেশের ভাষা, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার প্রতি নাগরিকদের গর্ববোধ সেই দেশকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ভারত বর্তমানে এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানসিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলা। তাঁর মতে, শিক্ষাঙ্গন থেকে এমন তরুণ প্রজন্ম উঠে আসা প্রয়োজন, যাদের মধ্যে দেশগঠনের মানসিকতা থাকবে এবং যারা ন্যায়, সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্বের সাংবিধানিক আদর্শে বিশ্বাসী হবে।
তিনি আরও জানান, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশে শিক্ষার গুণগত মান, সহজলভ্যতা এবং সাশ্রয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের খাতে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে এবং প্রায় ৩৪ বছর পর কার্যকর হয়েছে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি, যা শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য, এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলেই দেশের তরুণ সমাজ আজ স্টার্টআপ, ইউনিকর্ন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রে নতুন উদ্যমে এগিয়ে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ভারতের যুবশক্তিই দেশকে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে।
No Comment! Be the first one.