সকাল সকাল ডেস্ক
বর্ষাকাল এলেই জামাকাপড় শুকানো থেকে ঘরবাড়ি স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়া—একাধিক সমস্যায় পড়তে হয়। এর মধ্যে অন্যতম শোয়ার ঘরের তোষক বা ম্যাট্রেসে আর্দ্রতা জমে যাওয়া। সরাসরি বৃষ্টির জল না লাগলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং শরীরের ঘাম ধীরে ধীরে ম্যাট্রেসের ভিতরে জমতে পারে। বাইরে থেকে বিছানা শুকনো মনে হলেও ভিতরে জমে থাকা আর্দ্রতা থেকেই তৈরি হতে পারে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি থাকলে ছত্রাক বা মোল্ড জন্মানোর আশঙ্কাও বাড়ে।
তাই বর্ষার সময় ম্যাট্রেস যতটা সম্ভব শুকনো রাখা জরুরি। কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি মেনে চললেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ডিহিউমিডিফায়ার হতে পারে কার্যকর
বর্ষায় ঘরের বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকলে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। যন্ত্রটি বাতাসের অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে ঘরের আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করে।
ডিহিউমিডিফায়ার চালানোর সময় ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ রাখলে সেটি তুলনামূলক কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। ম্যাট্রেসের চাদর সরিয়ে রাখলে বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ে এবং তোষকের আর্দ্রতা কমাতেও সুবিধা হয়।
ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন ম্যাট্রেস
ম্যাট্রেসে হালকা স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকলে সাধারণ ফ্যানও কাজে আসতে পারে। প্রথমে বিছানার চাদর, কম্বল, বালিশ-সহ সমস্ত কিছু সরিয়ে দিন। এরপর এমনভাবে ফ্যান চালান, যাতে ম্যাট্রেসের যতটা সম্ভব অংশে বাতাস পৌঁছয়।
সম্ভব হলে কিছু সময় পর ম্যাট্রেস উল্টে অন্য দিকেও বাতাস লাগানো যেতে পারে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার আগে নতুন চাদর না পাতাই ভালো। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ঘরের জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
তরল পড়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
ম্যাট্রেসে জল, চা বা অন্য কোনও তরল পড়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব তা শুষে নেওয়া জরুরি। প্রথমে পরিষ্কার ও শুকনো তোয়ালে দিয়ে জায়গাটির উপর চাপ দিয়ে অতিরিক্ত তরল শুষে নেওয়া যেতে পারে। ঘষাঘষি করলে তরল আরও গভীরে ছড়িয়ে যেতে পারে।
বাড়িতে ‘ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই ভ্যাকিউম ক্লিনার’ থাকলে উপযুক্ত সংযুক্তি ব্যবহার করে ম্যাট্রেস থেকে তরল শুষে নেওয়া যেতে পারে। এরপর ফ্যান বা ডিহিউমিডিফায়ারের সাহায্যে অবশিষ্ট আর্দ্রতা সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ময়েশ্চার অ্যাবজর্বারও কাজে আসতে পারে
যে সমস্ত ঘরে বাতাস চলাচল কম বা দীর্ঘ সময় দরজা-জানালা বন্ধ থাকে, সেখানে ময়েশ্চার অ্যাবজর্বার ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যালশিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত ময়েশ্চার অ্যাবজর্বার বাতাস থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করতে সাহায্য করে।
এটি খাটের কাছাকাছি নিরাপদ কোনও জায়গায় রাখা যেতে পারে। তবে শিশু ও পোষ্য প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা জরুরি। পাত্রে জমে থাকা তরলও নির্দেশিকা মেনে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
নিয়মিত যত্নেই কমবে সমস্যা
বর্ষায় সুযোগ পেলেই ম্যাট্রেসের চাদর সরিয়ে কিছুক্ষণ বাতাস লাগানো ভালো। রোদ উঠলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী ম্যাট্রেসে রোদ বা খোলা বাতাস লাগানো যেতে পারে। বিছানার চাদরও নিয়মিত পরিবর্তন ও সম্পূর্ণ শুকিয়ে ব্যবহার করা উচিত।
ম্যাট্রেসে যদি ইতিমধ্যেই বড় অংশজুড়ে ছত্রাক জন্মায়, তীব্র দুর্গন্ধ থাকে অথবা বারবার স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়, শুধু ঘরোয়া উপায়ে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পেশাদার পরিষ্কারের সাহায্য নেওয়া বা প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাট্রেস পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
No Comment! Be the first one.