সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ওই নির্বাচনের সময় চিন প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পরিকাঠামোতে এমন গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ভোটে কারচুপির সম্ভাবনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গোপন গোয়েন্দা নথি প্রকাশ (ডিক্লাসিফাই) করার ঘোষণাও করেছেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে খারিজ করে দিয়েছে বেজিং।
হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রচারিত প্রায় ২৪ মিনিটের এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় চিনের সরকার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী তথ্য চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং বিষয়টি আড়াল করতে মার্কিন প্রশাসনের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর কিছু সদস্যও ভূমিকা পালন করেন।
ট্রাম্পের কথায়, “এই তথ্য চুরি আমেরিকার নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার একটি নিরাপদ ও নির্ভুল ভোটব্যবস্থা পাওয়া, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপির কোনও সুযোগ থাকবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় এমন একাধিক নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা রয়েছে, যা এতদিন সাধারণ মানুষের অজানা ছিল। সেই কারণেই নির্বাচনী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এই নথি প্রকাশিত হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার সম্ভাব্য দুর্বলতা সম্পর্কে জনগণ বিস্তারিত জানতে পারবেন।
তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছেন। যদিও ওই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া ৬০টিরও বেশি মামলায় কোনও আদালত নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি। পুনর্গণনা, নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছিল।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’ (সেভ অ্যাক্ট) দ্রুত পাস করার আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। তবে ভোটাধিকার রক্ষাকারী একাধিক সংগঠনের আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে বহু বৈধ মার্কিন নাগরিকও ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। যদিও মার্কিন আইনে অ-নাগরিকদের ভোটদান আগেই নিষিদ্ধ এবং এমন ঘটনার নজির অত্যন্ত বিরল।
শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থাই নয়, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এবিসি ও এনবিসি-সহ কয়েকটি সম্প্রচারমাধ্যম তাঁর নির্বাচনী জালিয়াতি সংক্রান্ত বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করেনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার সংস্থাগুলির লাইসেন্স বাতিলের দাবিও জানান তিনি। তাঁর মতে, কিছু সংবাদমাধ্যম নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে চিন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং এক বিবৃতিতে বলেন, “চিন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয় এবং তার ফল নির্ধারণ করেন মার্কিন ভোটাররাই। চিন কখনও মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।”
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই অভিযোগকে ঘিরে ফের মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে তাঁর দাবির সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা বা সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়ে গেছে।
প্রয়োজনে এটিকে ৬০০ শব্দ, ৮০০ শব্দ বা প্রথম পাতার প্রিন্ট সংস্করণের আরও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও রূপান্তর করা যেতে পারে।
No Comment! Be the first one.