সকাল সকাল ডেস্ক
ভুবনেশ্বর: প্রবল বর্ষণও থামাতে পারেনি ভক্তদের উচ্ছ্বাস। অটুট বিশ্বাস ও ভক্তিভাবকে সঙ্গী করে বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পুরীর শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা। ওডিশা-সহ দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রথযাত্রায় অংশ নেন।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে পুরী ও উপকূলীয় ওডিশার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে যায়। তবুও ভক্তদের ঢল থামেনি। ভোর থেকেই পুরীর বড়দাণ্ডে ভিড় জমাতে শুরু করেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। ‘জয় জগন্নাথ’ এবং ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
রথযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ছিল নজরকাড়া। বৃষ্টিভেজা পথেই বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী ঐতিহ্যবাহী ও শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষ করে ওডিশি নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা ভক্তদের মন জয় করে নেয়।
প্রাচীন রীতি ও আচার মেনেই জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রার সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সকালে ভোগমণ্ডপে ধূপ নিবেদন দিয়ে দিনের সূচনা হয়। এরপর দেবদেবীদের রথে আরোহনের বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করা হয়।
‘পাহান্ডি বিজে’ অনুষ্ঠানে ঘণ্টা, কাহালি ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনির মধ্যে শোভাযাত্রা করে গর্ভগৃহ থেকে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে রথে আনা হয়। ভগবান জগন্নাথের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং দেবী সুভদ্রার দর্পদলন রথে দেবদেবীদের প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এদিন পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব ঐতিহ্যবাহী ‘ছেরা পাহাঁড়া’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সাদা পোশাক পরে রূপোর পালকিতে এসে তিনি সোনার ঝাড়ু দিয়ে তিনটি রথ পরিষ্কার করেন। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং সুগন্ধি জল ছিটিয়ে সম্পন্ন হয় এই আচার। এই অনুষ্ঠান সমাজে সমতা ও বিনয়ের বার্তা বহন করে বলে মনে করা হয়।
সমস্ত আচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় রথ টানা। প্রথমে বলভদ্রের তালধ্বজ, পরে সুভদ্রার দর্পদলন এবং সবশেষে মহাপ্রভু জগন্নাথের নন্দীঘোষ রথ টানতে শুরু করেন ভক্তরা। তবে দীর্ঘ আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার তিনটি রথই নির্ধারিত গন্তব্য মৌসিমা মন্দিরে পৌঁছতে পারেনি। শুক্রবার সকালে আবার রথ টানা হবে বলে মন্দির প্রশাসন জানিয়েছে।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৩ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে ছিল রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জল জমার সমস্যা মোকাবিলাতেও প্রশাসনের তরফে বাড়তি প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল, যার ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় উৎসব।
No Comment! Be the first one.