শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে মহারণ।
সকাল সকাল ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। একসময় পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে লিওনেল মেসির দল জয় ছিনিয়ে নেয়। ফলে এবার বিশ্বকাপ ফাইনাল-এ স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।
সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই
আটলান্টার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রথমার্ধে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে শারীরিক লড়াইই বেশি চোখে পড়ে। মোট ১৯টি ফাউল হয়, যার মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে। উভয় দলের একজন করে ফুটবলার হলুদ কার্ডও দেখেন।

প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে না পারলেও আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। দুই দলের রক্ষণভাগও দৃঢ়তা দেখায়, ফলে বিরতির আগে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়া
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করে ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মর্গান রজার্সের বাড়ানো বল ধরে অ্যান্থনি গর্ডন নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও গোল রুখতে পারেননি।
গোল করার পর ইংল্যান্ড রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করে। ফলে দীর্ঘ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হচ্ছিল আর্জেন্টিনা।
শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে বক্সের বাইরে দুর্দান্ত শটে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোল ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরায়।
সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এরপর ইংল্যান্ড মরিয়া চেষ্টা করলেও আর সমতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপ ফাইনাল-এ ওঠার স্বপ্ন পূরণ করে আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার আধিপত্য
পুরো ম্যাচে বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। তারা প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। গোলের উদ্দেশে মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড পাঁচটি শট নিলেও মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণ, বলের দখল এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা অনেকটাই এগিয়ে ছিল। সেই ধারাবাহিক চাপই শেষ পর্যন্ত জয়ের পথ তৈরি করে দেয়।
ইংল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। ১৯৬৬ সালের পর আর শিরোপা জিততে পারেনি তারা। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পথে থাকা আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে খেলছে। এই জয়ের মাধ্যমে তারা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেছিল। খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ফলেই এই গুরুত্বপূর্ণ জয় এসেছে। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিও সতীর্থদের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন।
রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি বছরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। একইসঙ্গে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।
ফুটবলবিশ্ব এখন তাকিয়ে রয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল-এর দিকে। শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কি আর্জেন্টিনা, নাকি নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাস গড়বে স্পেন—তার উত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে। সেই লড়াই ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
No Comment! Be the first one.