সকাল সকাল ডেস্ক
Pakistan Airstrike ঘিরে পাকতিকা, পাকতিয়া ও কুনারে নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ; পাল্টা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের দাবি ইসলামাবাদের।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ফের চরমে উঠেছে। রবিবার গভীর রাতে Pakistan Airstrike-এর অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। কাবুলের দাবি, পাকতিকা, পাকতিয়া এবং কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একাধিক হামলায় নারী, শিশু-সহ বহু সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। যদিও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অভিযানটি শুধুমাত্র সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। Pakistan Airstrike-কে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনটি প্রদেশে বিমান হামলার অভিযোগ
তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, ২৮ জুন গভীর রাতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের পাকতিকা, পাকতিয়া এবং কুনার প্রদেশে হামলা চালায়।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, পাকতিকা প্রদেশের গায়ান জেলা, পাকতিয়া প্রদেশের সামকানি জেলা এবং কুনার প্রদেশের মানোগাই জেলায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এসব এলাকা জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় নারী, শিশু ও সাধারণ বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিযোগ করেছে তালিবান প্রশাসন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলি হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তান বারবার আফগান ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং মানবিক সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
এই পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের জেরে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান, গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার ঘটনাও বেড়েছে।
Background: সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে গত কয়েক বছরে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলি সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তান বারবার আফগান ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। সীমান্তে গোলাবর্ষণ, নিরাপত্তা অভিযান এবং বিমান হামলার অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে নিন্দা তালিবানের
তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই Pakistan Airstrike-কে “কাপুরুষোচিত আগ্রাসন” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং সাধারণ মানুষের বসবাসের এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। নিরীহ মানুষের প্রাণহানি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Official Statement: আগের হামলার অভিযোগও তুলল কাবুল
তালিবান প্রশাসনের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। চলতি মাসের ৮ জুনও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী কুনার, খোস্ত এবং পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় ১১ জন শিশুসহ মোট ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হন। কাবুলের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বারবার এ ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে এই হতাহতের তথ্য এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেনি।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
পাকিস্তানের পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, অভিযানের লক্ষ্য ছিল সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানকারী সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি এবং পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিষ্ক্রিয় করা। সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ পাকিস্তান অস্বীকার করেছে।
Impact: আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, Pakistan Airstrike-কে ঘিরে দুই দেশের পারস্পরিক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লে শুধু আফগানিস্তান ও পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা এবং মানবিক সংকটের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
Public Information: এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি হতাহতের তথ্য
বর্তমানে তালিবান প্রশাসন এবং পাকিস্তান সরকার পরস্পরবিরোধী দাবি করছে। এখনও পর্যন্ত কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা বা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা বা হামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।
তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিষয়টির ওপর নজর রাখছে।
No Comment! Be the first one.