সকাল সকাল ডেস্ক
Hormuz Strait ঘিরে নতুন উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলার অভিযোগের পর ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে Hormuz Strait-কে কেন্দ্র করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও নৌ অভিযান চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার স্থানীয় সময় পরিচালিত এই অভিযানের কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। যদিও হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে Hormuz Strait-কে ঘিরে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কেশম ও সিরিক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েকটি সামরিক ও উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।
মার্কিন সামরিক অভিযানের দাবি
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগের পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, শনিবার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার Hormuz Strait অতিক্রম করার সময় ড্রোন হামলার শিকার হয়। এর আগেও একই অঞ্চলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
১০টি সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ভিডিওতে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ অভিযানে Hormuz Strait-এর নিকটবর্তী ইরানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র এবং সমুদ্রে মাইন পাতা–সংক্রান্ত সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইরানের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের কেশম ও সিরিক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আকাশ থেকে পরিচালিত হামলার দৃশ্য তুলে ধরে। ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণ এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দৃশ্য দেখা যায়। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ অভিযানে হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী ইরানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র এবং সমুদ্রে মাইন পাতা-সংক্রান্ত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই স্থাপনাগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, অভিযানের পরও হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
তেহরান এখনও সরাসরি মার্কিন দাবির জবাব না দিলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
পটভূমি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই Hormuz Strait আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে ওঠে। দুই দেশ সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসলেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে বারবার একে অপরকে দায়ী করেছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরকারি বক্তব্য
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, Hormuz Strait দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের মতে, অভিযানের পরও ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সরকারি অবস্থান এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও দেশটির সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, Hormuz Strait বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করে।
ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, জ্বালানির দাম, বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আক্রান্ত ট্যাংকারটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে Hormuz Strait-এর উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
No Comment! Be the first one.