সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
আজ ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দিনভর নানা বার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তায় উঠে আসে ইতিহাস, মতাদর্শ এবং পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারের নানা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০ জুনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনেই নিশ্চিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে। তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে স্মরণ করে জানান, তাঁর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যের অগ্রগতির জন্য শুভকামনা জানান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও নবজাগরণের পীঠস্থান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভক্তি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে তার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তিনি মা দুর্গার কাছে রাজ্যের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ সুগম করেছিল এবং তাঁর অবদান স্মরণীয়।
সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার একটি “রাষ্ট্রবাদী সরকার” পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনাক্রমকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল এবং ২০ জুনের তাৎপর্যকে আড়াল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সেই সময় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও তোষণের সংস্কৃতি ইতিহাসের সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
শুভেন্দু আরও বলেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হত না। তিনি ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছিলেন।
তিনি আরও স্মরণ করেন স্বামী প্রণবানন্দ এবং তৎকালীন আইনসভার সদস্যদের অবদান, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া মানে বাঙালির আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করা।
সবশেষে শুভেন্দু রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানান, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ অনুসরণ করে একটি নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার জন্য একত্রিত হতে।
এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শুভেচ্ছা ও ঐতিহ্য স্মরণের বার্তা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক ইতিহাস ও মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তীব্র হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
No Comment! Be the first one.