সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
কলকাতার অন্যতম পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো আয়োজক নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘকে ঘিরে এবার সামনে এল জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি দাবি করেছে, তাদের মালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখল করে ক্লাবঘর এবং পুজোর বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জমি আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়ে ক্লাবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
শনিবার এলআইসি-র প্রতিনিধিরা সুরুচি সংঘের ক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিস টাঙিয়ে দেন। সংস্থার আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমি খালি না করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ আলিপুরের অত্যন্ত মূল্যবান ৪৯৮, ৪৯৯, ৫০০ এবং ৫০১ নম্বর চারটি বাণিজ্যিক প্লট দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। এই জমিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণকাজও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের তির এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন ওই জমি ব্যবহার করা হয়েছে।
এলআইসি সূত্রে দাবি, জমি দখল নিয়ে এর আগেও একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সংস্থাটি নিজেদের মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধারে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ফলে ১৮ জুলাইয়ের সময়সীমাকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এদিকে স্বরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, মেসিকে কলকাতায় আনার উদ্যোগকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসও তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস বিশ্বাস পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
এখন নজর ১৮ জুলাইয়ের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি খালি করা হয় কি না এবং এলআইসি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
No Comment! Be the first one.