সকাল সকাল ডেস্ক
প্যারিস/ওয়াশিংটন : ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দু’দিন আগে ফের অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি মার্কিন প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা থাকবে।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি কেবল একটি সমঝোতা কাঠামো। যদি আমার এটি গ্রহণযোগ্য না মনে হয় বা ইরান সঠিক আচরণ না করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই ট্রাম্প প্রশাসন চাপ সৃষ্টির কৌশল অব্যাহত রেখেছে। যদিও গত রবিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর অবস্থানের এই পরিবর্তন কূটনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে ওয়াশিংটন আরও সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের পথ খুলতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জি–৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের রসিকতা
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের তৃতীয় দিনের অধিবেশনে একটি হালকা মুহূর্তও তৈরি হয়। আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতিতে ট্রাম্প মজা করে বলেন, “আমিই বস।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। মাক্রোঁও বিষয়টিকে রসিকতা হিসেবেই গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, কানাডায় অনুষ্ঠিত আগের জি-৭ সম্মেলন মাঝপথে ছেড়ে চলে গেলেও এবার ট্রাম্প পুরো সম্মেলনে অংশ নেন এবং যৌথ ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করেন। সম্মেলন শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তিনি ভার্সাই প্রাসাদে একটি বিশেষ নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
No Comment! Be the first one.