সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন/তেহরান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দাবি ও আলোচনার মধ্যেও ইরান এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত নয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশ একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে।
তবে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সম্ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। ইরানের মাশহাদ শহরে সম্ভাব্য এই চুক্তির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও হয়েছে।
গালফ নিউজ, শিনহুয়া, আল জাজিরা এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, শনিবার মাশহাদে বিদেশ মন্ত্রকের দফতরের বাইরে কয়েক ডজন মানুষ বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এক ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরিহিত কয়েকজন নারী লাল ও কালো পতাকা নাড়িয়ে “অপমানজনক আরাগচি, আগ্রাসীর মৃত্যু হোক” ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন।
ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্বও এই প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাঁদের দাবি, এই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, “চুক্তিতে কাল স্বাক্ষর হবে এবং স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী সবার জন্য খুলে যাবে।”
তবে এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “রবিবার এটি হচ্ছে না,” যদিও ভবিষ্যতে সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করা হয়নি।
অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।” পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রবিবারই স্বাক্ষর হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
তেহরান জানিয়েছে, আপাতত হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। উল্লেখ্য, সেখানে টোল আদায়ের জন্য ইরান একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরান সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়, যা মার্কিন সেনা প্রতিহত করেছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন নৌ-অবরোধ শিথিল হতে পারে, তবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আগের মতো থাকবে না।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হবে না এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই ঘোষণাটি রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হতে পারে।
No Comment! Be the first one.