সকাল সকাল ডেস্ক
মেক্সিকো সিটি: মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলি মেক্সিকোর কিছু স্থানীয় শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
এর আগে রবিবার এক জনসভায় শেনবাউম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থগোষ্ঠীর কথিত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন। পরদিন তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মতাদর্শগত বিরোধের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চাইছে।
তবে তিনি এও জানান যে, এই কর্মকাণ্ড সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে শুল্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে মতবিরোধ বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সেই টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মেক্সিকোর ১০ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনে। অভিযুক্তদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল মোরেনার নেতা এবং সিনালোয়া রাজ্যের গভর্নর রুবেন রোচাও রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে শেনবাউম জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসেন। রবিবার সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মেক্সিকোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ, নাকি বিদেশি শক্তি?” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে তাঁর সরকার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনও আপস করবে না।
এদিকে গত সপ্তাহে মেক্সিকোর সংসদ একটি সাংবিধানিক সংশোধনী অনুমোদন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিললে নির্বাচন বাতিল করা যেতে পারে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই আইন ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহৃত হতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
যদিও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছেই, তবু দেশের অভ্যন্তরে শেনবাউমের জনপ্রিয়তা এখনও উল্লেখযোগ্য। একটি সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, তাঁর জনসমর্থন বেড়ে ৬৯ শতাংশে পৌঁছেছে। মার্চ মাসে কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার পর আবারও তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
No Comment! Be the first one.