সকাল সকাল ডেস্ক
আম্মান/তেহরান/ওয়াশিংটন,। হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণের জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রায় এক মাস পর ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় আমেরিকা। এর পরই পাল্টা জবাব দেয় ইরানের সেনাবাহিনী। হামলায় রকেট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার লারাক দ্বীপে হামলা চালায় আমেরিকা। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানের কিং হুসেন এবং আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষের পর এই প্রথম দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত এতটা তীব্র আকার নিল।
আইআরজিসির দাবি, এই হামলায় প্রযুক্তিগত ও মেরামত সংক্রান্ত পরিকাঠামোর পাশাপাশি শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলিও ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসি হামলার কথা ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই জর্ডন জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
জর্ডনের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এই ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি।
এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, লারাক দ্বীপে এমন কয়েকটি লঞ্চারকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলি হরমুজ প্রণালীর দিকে সামুদ্রিক মাইন থাকা এলাকায় রকেট ছোড়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। আমেরিকার দাবি, তেহরানের অবরোধ সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক নিরাপত্তার অধীনে এই জলপথ দিয়ে কয়েক লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, জলপথটি বন্ধ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে এই জলপথের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ সম্পূর্ণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, এখন কোনও জাহাজ বা নৌযান নতুন করে সামুদ্রিক মাইন বসানোর চেষ্টা করলে সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে।
এক মার্কিন আধিকারিকের বক্তব্য, মার্কিন সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যখন ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে ফের স্বাভাবিক সামুদ্রিক যাতায়াত চালু করার জন্য একটি প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। কাতার-সহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা এই আলোচনাকে সমর্থন করেছে। ইরানের আধিকারিকরা বারবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
রবিবারের এই হামলা ২৯ জুলাইয়ের পর ইরানের ভূখণ্ডে প্রথম মার্কিন হামলা।
এদিকে, রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় পর আমেরিকা ইরানে প্রথম হামলা চালিয়েছে—এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ক্রুডের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫.৬৪ ডলারে পৌঁছেছে।
No Comment! Be the first one.