ইরানের হামলার আশঙ্কা! তুরস্ক ফেরত ট্রাম্পকে ঘিরে নজিরবিহীন গোপন অভিযান

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক থেকে ফেরার সময় নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রকাশ্যে যে বিমানে তাঁকে উঠতে দেখা গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই বিমানে তিনি যাত্রাই করেননি বলে দাবি একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের। হামলাকারীদের নজর এড়াতে খাবার পরিবহণের গাড়িতে গোপনে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে তাঁকে অন্য একটি সামরিক বিমানে তোলা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছিলেন, তাঁকে হত্যার চেষ্টা হতে পারে এবং ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। সেই আবহেই তুরস্ক সফর থেকে ফেরার সময় আচমকা তাঁর বিমান পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এবার সেই ঘটনার নেপথ্যে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাওয়ার সময় কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে সফর করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ফেরার সময় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রকাশ্যে জানানো হয়েছিল, তিনি প্রায় তিন দশকের পুরনো রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমানে ফিরবেন। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেও তাঁকে সেই বিমানে উঠতে দেখা যায়।

কিন্তু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেটি ছিল নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা একটি ছদ্ম ব্যবস্থা। সম্ভাব্য হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই ওই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্পকে খাবার পরিবহণে ব্যবহৃত একটি বিশেষ গাড়ির মাধ্যমে গোপনে বিমানটির কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে অন্য একটি গাড়িতে করে তাঁকে তৃতীয় একটি বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই বিমানেই গোপনে ব্রিটেনের উদ্দেশে রওনা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পকে বহনকারী ওই বিমানটি ছিল সি-৩২এ। এটি বোয়িং ৭৫৭ বিমানের সামরিক সংস্করণ। পুরো অভিযান এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, ট্রাম্পের সঙ্গে সফরকারী সাংবাদিকদের একাংশও বিষয়টি জানতে পারেননি।

অন্যদিকে, পুরনো রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমানটিকে কার্যত টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই বিমানে সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে তোলা হয়। বিমান চলাকালীন সাংবাদিকদের বসার অংশের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ওই বিমানে থাকা সাংবাদিকদের অনেকেই জানতেন না যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁদের সঙ্গে নেই। ট্রাম্পকে বহনকারী গোপন বিমানটি ব্রিটেনে পৌঁছনোর কয়েক মিনিট পরে টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটিও সেখানে অবতরণ করে।

পরে এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাঁরা অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি বিমানযাত্রার মধ্যে ছিলেন। নিজের সমাজমাধ্যমে তিনি অবশ্য পুরনো বিমান ব্যবহারের অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বিমানটি দেখানোর জন্য সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আসল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য হামলাকারীদের নজর ঘুরিয়ে দেওয়া।

তুরস্ক থেকে ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার এই পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ইরানের হুমকির গুরুত্ব নিয়েও। মার্কিন প্রশাসনের আধিকারিকরা সেই হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলেই এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে অন্য একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ট্রাম্প যে বিমানে যাত্রা করবেন, সেটিই সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। ফলে তাঁর প্রকৃত যাত্রাপথ এবং বিমান সম্পর্কে তথ্য গোপন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রা নিয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক স্টিভ চেউং জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একাধিক হুমকি রয়েছে। সেই সমস্ত হুমকি মোকাবিলায় প্রশাসনের হাতে থাকা সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

কাতারের দেওয়া বিমান ঘিরেও আলোচনা

দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী পুরনো দুটি বোয়িং ৭৪৭ বিমানের অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন ট্রাম্প। ১৯৯০ সাল থেকে এই বিমানগুলি মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

পরবর্তী সময়ে কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে পাওয়া একটি বিলাসবহুল বিমান সংস্কার করে রাষ্ট্রপতির সফরের জন্য ব্যবহার শুরু করা হয়। গত ১ জুলাই প্রথমবার সেই বিমান ট্রাম্পকে নিয়ে নর্থ ডাকোটায় যায়। কয়েক দিন পরেই ওই বিমানে প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে যান তিনি।

হোয়াইট হাউসের দাবি, নতুন বিমানটিতে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইরানের সম্ভাব্য হুমকির আবহে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পের যাত্রাপথ গোপন রাখতে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সামনে এসেছে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের গভীরতাই তুলে ধরছে।

Read More News

সফল উৎক্ষেপণে আরও শক্তিশালী ভারতের প্রতিরক্ষা, ডিআরডিও-র অগ্নি-৪ পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন...

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরানোয় ক্ষমা চাইল মেটা, অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে দুঃখপ্রকাশ

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক থেকে সরিয়ে...

কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও মশাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে, ২০৩০-এ আহমেদাবাদে শতবর্ষের আসর

সকাল সকাল ডেস্ক গ্লাসগো : গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের...

Read More