ফুচকার জলেই জীবাণুর আঁতুড়ঘর! স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উদ্বেগজনক রিপোর্ট, সতর্ক প্রশাসন
মুখরোচক ফুচকা—রাস্তার ধারের এই জনপ্রিয় খাবারটি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং মহিলারা নিশ্চিন্তে খেয়ে থাকেন। কিন্তু সেই ফুচকার জলই যদি অদৃশ্য জীবাণুর আঁতুড়ঘর হয়ে ওঠে? সাম্প্রতিক এক পরীক্ষার রিপোর্ট সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক মাসের রক্ষাকবচ, রাজ্যকে নোটিস হাইকোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী এক মাস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করে আদালত তাদের অবস্থান জানাতে বলেছে। মামলার সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের একটি চিঠিকে ঘিরে। অভিযোগ, স্পিকারের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন সিআইডি একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁকে নোটিসও পাঠায়। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তখন আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল। এবার তিনি মূল এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনের শুনানিতেই বিচারপতি কৌশিক চন্দ আগামী এক মাসের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ দেন। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় তৃণমূলের দুই জয়ী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের পর। তাঁদের দাবি ছিল, স্পিকারের কাছে জমা পড়া চিঠিতে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনার পর বিধানসভার পক্ষ থেকেই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জয়ী বিধায়কদের নতুন একটি চিঠির ভিত্তিতে স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তবে সেই সিদ্ধান্তও বর্তমানে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পৃথকভাবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন। ফলে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং সই জালিয়াতি—এই দুই বিষয়কে ঘিরে একাধিক মামলা বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
জেলের পরিকাঠামো ও বন্দিদের অধিকার নিয়ে কড়া হাইকোর্ট, রাজ্যকে একগুচ্ছ নির্দেশ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে বন্দিদের নিরাপত্তা, হেফাজতে মৃত্যু, কর্মীসংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং এইচআইভি আক্রান্ত বন্দিদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে রাজ্য ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হেফাজতে মৃত্যুর তথ্য জমা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় আদালত। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমস্ত হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও পরবর্তী রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলাভিত্তিক হেফাজতে মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তালিকা, মৃতদের নাম ও ঠিকানাসহ, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সদস্য-সচিবের কাছে জমা দিতে হবে। মৃত বন্দিদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা নিতে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রয়োজনে উত্তরাধিকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। সংশোধনাগারগুলিতে কর্মীসংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ৪ হাজার ৭৮৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩২২ জন। অর্থাৎ ১ হাজার ৪৬৭টি পদ শূন্য। এই শূন্যপদ পূরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি বা রোডম্যাপ পরবর্তী রিপোর্টে জানাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জেলগুলিতে অতিরিক্ত বন্দির চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। ৬১টি সংশোধনাগারের ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৯২৯ জন হলেও বর্তমানে সেখানে রয়েছেন ২৩ হাজার ৮৮৬ জন বন্দি। নতুন সংশোধনাগার নির্মাণ এবং ভবিষ্যতের বন্দি সংখ্যা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে আদালত। মহিলা বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরুষ ও মহিলা বন্দিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, সিসিটিভি নজরদারি এবং মহিলা বন্দিদের তল্লাশির জন্য পৃথক গোপন কক্ষ রয়েছে কি না, তা জানাতে হবে। পাশাপাশি হেফাজতে থাকা এইচআইভি আক্রান্ত বন্দিদের সংখ্যা, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং তাঁদের জন্য গৃহীত স্বাস্থ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
মুর্শিদাবাদে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা, ‘কোনও গাফিলতি সহ্য করা হবে না’— কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে রেলগেট পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একটি পুলকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার শিশু-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরই দায়িত্বে থাকা রেল গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধারকাজ ও তদন্তের তদারকি করছেন। স্বাস্থ্য দফতরও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, রেল কর্তৃপক্ষও মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। দুর্ঘটনায় মৃত তিনজনের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাজ করতেন এবং সময়মতো রেলগেট বন্ধ করেননি। পূর্ব রেলের প্রাথমিক তদন্তেও জানা গিয়েছে, ট্রেনটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেলগেট খোলা ছিল। তবে সিগন্যাল ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না বলে রেল জানিয়েছে। ফলে তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এখন গেটম্যানের ভূমিকা।
দুর্গাপূজাকে পরিবেশ রক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণের সাথে যুক্ত করার আহ্বান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ধমান : বার্নপুরের মসজিদ রোড এলাকার বিখ্যাত নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের আগামী দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী খুঁটি পুজাের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পূজা-অৰ্চনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দুর্গাপূজাকে পরিবেশ সুরক্ষা, সমাজসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, দুর্গাপূজা কেবল চার-পাঁচ দিনের একটি উৎসব নয়, এটি সমাজকে একসূত্রে বাঁধার এবং মানুষের মধ্যে সেবামূলক মনোভাব গড়ে তোলার এক বড় সুযোগ। তিনি পরামর্শ দেন, পূজা কমিটিগুলির কেবল উৎসবের দিনগুলিতেই নয়, বরং সারা বছর ধরে সমাজের কল্যাণে কাজ করা উচিত। গরিব ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন, পাঠাগার স্থাপন এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ড ক্লাবগুলির অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, এই বছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ-বান্ধব দুর্গাপূজাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পূজা মণ্ডপগুলিতে যাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার না করা হয়, প্রতিমা নির্মাণে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ বর্জন করা হয় এবং জলের অপচয় বন্ধ করার পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এর পাশাপাশি মণ্ডপগুলিতে প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের (দিব্যাঙ্গজন) জন্য পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেন, যে সমস্ত পূজা কমিটি পরিবেশ সুরক্ষার সমস্ত নিয়ম মেনে সবচেয়ে সুন্দর ও দায়িত্বশীলভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করবে, তাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে। তিনি ক্লাবগুলির কাছে আবেদন জানান, তারা যেন সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে এবং মানুষের সুখে-দুঃখে সর্বদা পাশে দাঁড়ায়। এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই ক্লাবগুলির রাজনীতিকরণের তীব্র বিরোধিতা করেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ক্লাবগুলি যেন কোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কেবল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর কাজ। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, অতীতে বহু জায়গায় ক্লাবগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার ক্লাবগুলিকে রাজনীতি থেকে ঊর্ধ্বে উঠে সমাজসেবা, যুবসমাজের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, দুর্গাপূজা সবার উৎসব এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। ক্লাবগুলির উচিত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সেবার মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করা। নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে আসন্ন দুর্গাপূজার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি। এদিনের খুঁটি পূজা কর্মসূচিতে ক্লাবের কর্মকর্তা অমিত সিং, শম্ভু আগরওয়াল, দীপক তোদি, সুরজিৎ সিংহ মক্কড়, প্রদীপ মাজি, বিজেপি নেতা পবন কুমার সিং সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বহুসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মেডিক্যাল ছাত্রীর বেশে মধ্যরাতে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, অব্যবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ
সকাল সকাল ডেস্ক কল্যাণী : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বুধবার গভীর রাতে মেডিক্যাল ছাত্রীর ছদ্মবেশে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে আচমকা হানা দিলেন। মুখে মাস্ক থাকায় প্রথমদিকে হাসপাতালের কোনো কর্মীই তাঁকে চিনতে পারেননি। এই সুযোগে তিনি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং হস্টেলের (ছাত্রাবাস) পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেখানে একাধিক অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থা দেখে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বুধবার রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে কোনো রকম নিরাপত্তা কনভয় ছাড়াই সাধারণ চটি ও পোশাকে হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সাধারণ পোশাকে ছিলেন কেবল একজন মহিলা নিরাপত্তাকর্মী। মুখে মাস্ক থাকায় কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে সাধারণ ছাত্রী বলেই মনে করেছিলেন। এই সুযোগেই তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দেখতে পান, জরুরি বিভাগে কোনো বরিষ্ঠ চিকিৎসক উপস্থিত নেই। এই ঘটনায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর যখন তিনি মুখ থেকে মাস্ক সরান, তখন সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোগীদের পরিজনদের অভাব-অভিযোগের বিষয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক নোংরা-আবর্জনা ও অব্যবস্থা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাসপাতাল চত্বরে কুকুর-বেড়ালের অবাধ ঘোরাফেরা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এই সমস্ত বিষয়ের রিপোর্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হবে। সুমনা সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কাছে অভিযোগ আসছিল যে রাত ১০টার পর হাসপাতালে অধিকাংশ সময় কোনো সিনিয়র ডাক্তার থাকেন না। সেই কারণেই তিনি এই আকস্মিক পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রায় সমস্ত বিভাগেই নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজ্য সরকারের এই মন্ত্রী আরও বলেন, জেএনএম হাসপাতাল ও তার হস্টেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল। অতীতে রাজ্যে ঘটে যাওয়া আর জি কর হাসপাতালের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতেই রাজ্যজুড়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, এই আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়ে আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীই তাঁকে একজন মহিলা নিরাপত্তাকর্মী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি পুরোপুরি ছাত্রীর বেশে রাত সাড়ে বারোটার পর হাসপাতালে ঢুকেছিলাম। জরুরি বিভাগে কোনো সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন না, পুরো কাজটাই কেবল জুনিয়র ডাক্তারদের ভরসায় চলছিল।’’ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের হস্টেলেও যান। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব দেখেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি বলেন, হস্টেলের অবস্থা খুবই খারাপ, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই এবং চারপাশ সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সুমনা সরকার বলেন, হস্টেলগুলিতে নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে। তিনি চাইলে সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি তা করেননি। তবে হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের তিনি সতর্ক করার পাশাপাশি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। হস্টেল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে কারা যাতায়াত করছেন, তার সম্পূর্ণ নথি (রেকর্ড) রাখতে হবে। সেই সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্ররা কীভাবে হস্টেলের বাইরে থাকেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে রাজ্য সরকার শীঘ্রই হাসপাতাল ও হস্টেলের এই বর্তমান অব্যবস্থা দূর করতে প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
Calcutta High Court-এর স্বস্তি, Abhishek Banerjee-এর পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আপাতত কড়া পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা
সকাল সকাল ডেস্ক গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে সুমিত রায়ের আবেদন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার মৌখিক নির্দেশ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। Calcutta High Court-এ ফের সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ Abhishek Banerjee-এর ব্যক্তিগত সহায়ক সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৌখিক নির্দেশে জানান, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে না। ফলে আপাতত গ্রেফতার-সহ কোনও জোরদার ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। এই নির্দেশের ফলে চলতি মামলায় সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। শুনানি পিছোল, বহাল থাকল আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বৃহস্পতিবার Calcutta High Court-এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্যের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে আগামী সোমবার। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আদালতের এই মৌখিক নির্দেশ কার্যত তাঁকে সাময়িক আইনি রক্ষাকবচ দিয়েছে। কী এই মামলা? শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। সেই পরোয়ানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই Calcutta High Court-এর দ্বারস্থ হন তিনি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান বিশ্লেষণ করে সুমিত রায়ের শেষ অবস্থান হিসেবে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনের আশপাশের এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই শালবনি থানার পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালায়। রাজনৈতিক বিতর্কে সরব দুই পক্ষ পুলিশের ওই তল্লাশি অভিযানের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। Abhishek Banerjee-এর শিবির অভিযোগ তোলে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং তদন্তের নামে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তদন্তের স্বার্থে সিআইডি সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিসও জারি করেছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background সাম্প্রতিক সময়ে শালবনি থানার মামলাকে কেন্দ্র করে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে পুলিশ ও সিআইডি। তদন্ত চলাকালীন সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। এর আগেও Calcutta High Court তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দিয়েছিল। এবারও সেই আইনি রক্ষাকবচ কিছুদিনের জন্য বহাল রাখল আদালত। Impact হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে আপাতত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতার-সহ কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ স্থগিত থাকছে। একই সঙ্গে মামলাটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে ঘিরে। আগামী শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ তদন্তের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। Official Statement বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৌখিক নির্দেশে জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে রাজ্যের পক্ষের আবেদন মেনে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। Public Information মামলার পরবর্তী শুনানিতে গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা, তদন্তের অগ্রগতি, সিআইডির পদক্ষেপ এবং সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আদালত বিস্তারিত শুনানি করতে পারে। সেই শুনানির রায়ই নির্ধারণ করবে তদন্তের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
Koel Mallick রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা, BJP-তে যোগদানের জল্পনায় সরগরম বঙ্গ রাজনীতি
সকাল সকাল ডেস্ক রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক, রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ Koel Mallick-এর ইস্তফাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল। রথযাত্রার দিনই আচমকা রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়েন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁর উপস্থিতির খবর সামনে আসতেই Koel Mallick-এর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা, বাড়ল রাজনৈতিক জল্পনা বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার সদস্য তালিকায় আর দেখা যায়নি Koel Mallick-এর নাম। সংবাদ সংস্থা এএনআই-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার সাংসদদের তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হল। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। বিদেশ সফর থেকে ফিরে তিনি সাংসদ পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে এই দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি। ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জোর চর্চা ইস্তফার পরপরই Koel Mallick-কে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দেখা যাওয়ার খবর সামনে আসে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে তিনি শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপি কিংবা কোয়েল মল্লিক—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা করেনি। ফলে বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলবদল হয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পরে তাঁদের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থীও করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে Koel Mallick-এর ইস্তফা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। Impact বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ Koel Mallick। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু রাজনীতিতেই নয়, সাংস্কৃতিক ও জনমতের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। যদিও সবটাই নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপর। Official Statement বর্তমান পরিস্থিতিতে Koel Mallick শুধুমাত্র রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। বিজেপি কিংবা কোয়েল মল্লিক—কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। Public Information রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে তা আরও একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সরকারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাবনা বা জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
Lionel Messi-এর জোড়া অ্যাসিস্টে England-কে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ Argentina
সকাল সকাল ডেস্ক মেসির দুরন্ত দুই অ্যাসিস্টে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল নিশ্চিত করল আর্জেন্তিনা। আর্জেন্তিনার ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন Lionel Messi। গোল না করেও ম্যাচের সেরা নায়ক হয়ে উঠলেন তিনি। তাঁর জোড়া অ্যাসিস্টে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ জায়গা করে নিল আর্জেন্তিনা। এখন বিশ্ব ফুটবলের নজর ২০ জুলাইয়ের মহারণে, যেখানে Lionel Messi-র নেতৃত্বাধীন আর্জেন্তিনার সামনে প্রতিপক্ষ স্পেন। England-এর দাপটে শুরু, Gordon-এর গোলে এগিয়ে যায় ইংরেজরা ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা মেলেনি। মাঝমাঠের লড়াই, একের পর এক ফাউল এবং হলুদ কার্ডে জমে ওঠে সেমিফাইনাল। এলিয়ট অ্যান্ডারসন, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোসহ একাধিক ফুটবলার সতর্ক হন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করে ইংল্যান্ড। মর্গান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশ করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোলের পর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল দলকে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। Lionel Messi-র জাদুতে বদলে যায় ম্যাচ এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্তিনা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে নিকোলাস ওতামেন্দি ও রদ্রিগো দে পলকে মাঠে নামান। এরপরই নিজের অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ ভিশনের পরিচয় দেন Lionel Messi। ৬৬ মিনিটে তাঁর ভাসানো বল থেকে নিকো গনসালেসের হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন জর্ডন পিকফোর্ড। যদিও সেটিই ছিল আর্জেন্তিনার আক্রমণের পূর্বাভাস। Enzo Fernandez-এর সমতা, Lautaro Martinez-এর জয়সূচক গোল ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আসে সমতার গোল। কর্নার থেকে ছোট পাস পেয়ে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন Lionel Messi। চেলসির মিডফিল্ডার শক্তিশালী শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির জাদু। মাঝমাঠ থেকে তাঁর নিখুঁত থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্তিনা সমর্থকরা। টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ Argentina এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ জায়গা করে নিল আর্জেন্তিনা। ১৯৮৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল লা আলবিসেলেস্তে। গোলদাতাদের তালিকায় নাম না থাকলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন Lionel Messi। বয়স বাড়লেও তাঁর খেলার মান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা যে এখনও বিশ্বসেরা, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background বর্তমান বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্তিনা। নকআউট পর্বে ধারাবাহিক সাফল্যের পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল স্কালোনির দল। অন্যদিকে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ফর্মে ছিল। তাই এই ম্যাচকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছিল। Impact এই জয় আর্জেন্তিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের আরও কাছে নিয়ে গেল। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হলো। মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল, বড় ম্যাচে তিনিই এখনও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। Official Statement ম্যাচ শেষে আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড শিবির স্বীকার করেছে, দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলই তাদের বিপদ ডেকে এনেছে। Public Information আগামী ২০ জুলাই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে World Cup Final। ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা ও স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের নজর থাকবে এই মহারণে, যেখানে Lionel Messi-র সামনে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি।
লেকটাউন ছাত্রমৃত্যু মামলায় ৭ বড় দাবি! ‘দেখব, ভাবব না, কাজ করব’- জনতার দরবারে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক লেকটাউনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগের পর জনতার দরবারে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত, বিচার এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন তিনি। কলকাতা: লেকটাউনের বহুল আলোচিত ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিজেপির জনতার দরবারে হাজির হন তাঁর বাবা যদু দে। অভিযোগ শোনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি শুধু আশ্বাসে নয়, কাজে বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “দেখব, ভাবব না, কাজ করব।” ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল লেকটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সৃঞ্জয় দে-র নিথর দেহ। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সৃঞ্জয়ের বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ জনতার দরবারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন সৃঞ্জয়ের বাবা যদু দে। তাঁর দাবি, ছেলে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে বক্তব্য রাখত। সেই কারণেই রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তিনি তৎকালীন মন্ত্রী সুজিত বসুর দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। যদু দে-র অভিযোগ, প্রথম থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তাই তিনি নতুন করে তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ‘দেখব, ভাবব না, কাজ করব’—মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা লেকটাউন ছাত্রমৃত্যুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জনতার দরবার শুধুমাত্র অভিযোগ শোনার কর্মসূচি নয়। এখানে আসা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, “আমি যা বলি, তা কাজে পরিণত হয়। মানুষ এখানে বুকভরা আশা নিয়ে আসেন। আমরা শুধু দেখব বা ভাবব বলি না, আমরা কাজ করি।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত পাঁচ থেকে ছয়টি জনতার দরবারে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন দলীয় নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আশি শতাংশ সমস্যার সমাধানের দাবি মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জনতার দরবারে আসা প্রায় আশি শতাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি নিজে প্রতিটি অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান। তাঁর মতে, মানুষের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ হল দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাতেও আশ্বাস বুধবারের জনতার দরবারে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত একটি পরিবারও উপস্থিত ছিল। তারা জানায়, অতীতেও বিজেপির পক্ষ থেকে সহায়তা পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই স্থানীয় পুলিশ তড়িঘড়ি চার্জশিট জমা দিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। তিনি আরও জানান, সুবিচারের স্বার্থে নতুন আবেদন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যাকগ্রাউন্ড ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে লেকটাউনের একটি আবাসন থেকে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্ব সামনে আনলেও পরিবারের দাবি ছিল, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে পরিবার। অন্যদিকে, বিজেপির জনতার দরবার কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ নানা অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছে। প্রভাব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেকটাউন ছাত্রমৃত্যু মামলাটি আবারও আলোচনায় উঠে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। পরিবারের অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা শুধু দেখব বা ভাবব—এই নীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা কাজ করি। জনতার দরবারে আসা অধিকাংশ অভিযোগের সমাধান হয়েছে এবং প্রতিটি বিষয় আমি নিজে পর্যবেক্ষণ করছি।” পাবলিক ইনফরমেশন জনতার দরবারে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনে অভিযোগকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানানো হয়।