মুকুল রায়ের জীবনাবসান, হাসপাতালেই প্রয়াত প্রবীণ নেতা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নিউ টাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রবীন নেতা। রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরেই কিডনি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে অসুস্থ ছিলেন মুকুল। মাঝে মধ্যেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হত। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন রবিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল। মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন মুকুল। তৃণমূল দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। এক সময়ে রাজ্যসভার সদস্য পদের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পরে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন মুকুল।
আসানসোলে লিওনেল মেসির পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন : ফুটবল জ্বরে কাঁপছে শিল্পাঞ্চল
সকাল সকাল ডেস্ক আসানসোল : কলকাতার পর এবার শিল্পশহর আসানসোলে ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হলো। রবিবার সন্ধ্যায় আসানসোলের মহীশিলা এলাকায় আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলারের একটি অত্যন্ত জীবন্ত মোমের মূর্তি উন্মোচন করেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। আসানসোলের প্রখ্যাত ভাস্কর সুশান্ত রায় দীর্ঘ দু’মাসের কঠোর পরিশ্রমে মেসির এই মোমের প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছেন। মূর্তির সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং মুখের অভিব্যক্তির নিখুঁত শৈলী সাধারণ মানুষের নজর কাড়ছে। শহরবাসীর জন্য এটি একটি বিশেষ উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মেসির প্রতি উন্মাদনার শুরু হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলকাতার লেক টাউন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব একটি ৭০ ফুট উঁচু লোহার বিশালাকার মেসির মূর্তি স্থাপন করেছিল। ওই মূর্তিতে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে তুলে ধরা হয়েছিল। স্বয়ং লিওনেল মেসি তাঁর ‘গো অ্যাট ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫’ চলাকালীন ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার সেই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। কলকাতার মূর্তিটি বিশালাকার হলেও, আসানসোলের এই মোমের মূর্তিটি তার সজীবতার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে। ভাস্কর সুশান্ত রায় জানিয়েছেন, মাত্র দুই মাসে তিনি এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছেন। উন্মোচনের পর থেকেই ফুটবল প্রেমীদের ঢল নেমেছে মহীশিলায়। প্রিয় তারকার মূর্তির সঙ্গে সেলফি তুলতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরণের উদ্যোগের ফলে আসানসোলের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াপ্রেমী পরিচয় আরও দৃঢ় হবে। আয়োজকদের দাবি, এই মূর্তি উন্মোচনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কলকাতার রেশ ধরে আসানসোলের এই আয়োজন প্রমাণ করল যে, বাংলায় ফুটবল এবং মেসির প্রতি আবেগ আজও অমলিন।
পুরুলিয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির, এনআইএ তদন্তের দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : পুরুলিয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। এই ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সমাজ মাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে “বোমা শিল্পই একমাত্র উন্নতি করছে।” পুরুলিয়ার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুর বাগান এলাকায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার পরেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মালব্য দাবি করেছেন, ওই জায়গায় অবৈধভাবে বোমা তৈরির কাজ চলছিল। বিস্ফোরণে অন্তত তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য স্পষ্ট জানান, পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষের এই ঘটনার নেপথ্যের সত্য তথ্য জানার অধিকার আছে। বিজেপি নেতা জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ইতিমধ্যেই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মালব্য প্রশ্ন তুলেছেন যে, স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী কি এবারও “প্রযুক্তিগত কারণ” দেখিয়ে সত্য আড়াল করার চেষ্টা করবেন? তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা চলবে না এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পুরুলিয়ায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আমডাঙার যুবক খুনের কিনারা, মূল অভিযুক্ত মুম্বই থেকে গ্রেফতার: জানালেন পুলিশ সুপার
সকাল সকাল ডেস্ক বারাসাত, উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা এলাকায় যুবক খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার ১৮ দিন পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে খুনের কিনারা করেছে তদন্তকারীরা। এই নিয়ে মোট দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।গত ৩০ জানুয়ারি আমডাঙার রামপুর বাজার এলাকায় একটি ঘরের ভিতর থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে আমডাঙা থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয়। একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্তের খোঁজ পায় এবং তাকে মুম্বই থেকে গ্রেফতার করে আনে।শুক্রবার বারাসাত-এ আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পিতভাবেই ওই যুবককে খুন করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও বারাসাত এবং আমডাঙা থানার অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। ধৃতদের আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কমিশনের ‘নির্দেশিকা’ জারির প্রমাণ পেশ অভিষেকের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : নির্বাচন কমিশনকে তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এক্স পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করা যেতে পারে? দেশের সর্বোচ্চ আদালত বারবার স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সরকারি যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে। অথচ আমরা দেখছি, আনুষ্ঠানিক, অনুসরণযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ জারি করা হচ্ছে।’ অভিষেক একাধিক প্রমাণ উত্থাপন করে এক্স মাধ্যমে অভিযোগ করেন, “আরও বেশি উদ্বেগজনক হল, স্পেশাল রোল অবজারভার সি. মুরুগান, একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সরাসরি মাইক্রো অবজারভারদের কাছে জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেন, যাতে সংখ্যা মুছে ফেলার সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। আমি কি নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকাটি মনে করিয়ে দিতে পারি যে, মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকা কঠোরভাবে সহায়ক হতে হবে? তাহলে কেন আইনগত পদ্ধতি উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং কার নির্দেশে?
শিলিগুড়ি ‘চিকেন নেক’ করিডোরে বিএসএফ-এর ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নিরিখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ির ‘চিকেন নেক’ করিডোরে নজরদারি বাড়াল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্তকারী এই সংবেদনশীল এলাকায় বুধবার সকালে এক ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। শহরের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল মহানন্দা ব্রিজ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ানরা এদিন তল্লাশি চালান। এই বিশেষ অভিযান চলাকালীন প্রতিটি যানবাহনকে থামিয়ে নথি পরীক্ষা করা হয় এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হয়। এমনকি ব্রিজের নিচে এবং সংলগ্ন জনবসতি এলাকাগুলোতেও চিরুনি তল্লাশি চালায় বাহিনী। নিরাপত্তা সূত্রের খবর, কৌশলগত দিক থেকে শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটিই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই প্রেক্ষাপটে কোনও প্রকার অনুপ্রবেশ, পাচার বা জঙ্গি কার্যকলাপের আশঙ্কা রুখতে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই নজরদারি ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তার পরিস্থিতির নিরিখে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে এই ধরনের অভিযান সময়ে সময়ে চালানো হয়ে থাকে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই; সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
নিয়োগের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিকাশ ভবন অভিযান, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত করুণাময়ী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : ভোটমুখী বাংলায় নিয়োগের দাবিতে ফের পথে নামলেন চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন ২০১৪ ও ২০১৭ সালের টেট উত্তীর্ণ এনআইওএস ডি.এল.এড চাকরিপ্রার্থীরা। তবে মিছিল শুরু হতেই পুলিশি বাধায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। এর প্রতিবাদে করুণাময়ীতেই রাস্তায় থালা বাজিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনও সুরাহা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালের পদত্যাগের দাবিতে এদিন বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীদের এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই সতর্ক ছিল বিধাননগর কমিশনারেট। করুণাময়ী, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং বিকাশ ভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। মিছিলটি করুণাময়ী পৌঁছানো মাত্রই পুলিশ তা আটকে দেয়। শুরু হয় ধরপাকড়, যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র বাদানুবাদ হয়। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে তাঁদের বিকাশ ভবনে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
পানাপুকুরে উল্টে গেল পুলকার, স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্ষা পেল ১৪ জন পড়ুয়া
সকাল সকাল ডেস্ক মহিষাদল : সাতসকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল ১৪ জন স্কুল পড়ুয়া। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল থানার চাঁপি গ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি স্কুলের পুলকার পানা ভর্তি পুকুরে উল্টে যায়। জানা গিয়েছে, মহিষাদল রবীন্দ্র শিশু বিদ্যালয়ের একটি পুলকার ঝাউপাথরা এলাকা থেকে শিশুদের নিয়ে স্কুলের দিকে রওনা দিয়েছিল। চাঁপি গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে সটান উল্টে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি জলে ডুবে যেতে শুরু করলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। গ্রামবাসীরাই জানলার কাচ ভেঙে এবং দরজা খুলে একে একে ১৪ জন শিশু পড়ুয়াকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব শিশুই বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে। ঘটনায় পুলকার চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
‘পেট পূজা’র থালা: বন্দে ভারত স্লিপার যাত্রীদের জন্য খাঁটি বাঙালি আমিষ খাবারের সূচনা করল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা ভারতের রেল বিপ্লবে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় যোগ করে, দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এই বিশ্বমানের ট্রেনটি শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক নয়, বরং একটি বড় সাফল্যও, যা তার প্রথম যাত্রার পর থেকে 100% এরও বেশি আসন পূর্ণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে আন্তরিক ধন্যবাদ, যাদের দূরদৃষ্টি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকে বদলে দিয়েছে। এই ট্রেনটিকে “পশ্চিমবঙ্গের জন্য আশীর্বাদ” বলা হচ্ছে, যা আরাম এবং গতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্মান করে। বাংলার স্বাদ: যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ খবর হল সম্প্রতি চালু হওয়া আমিষ খাবারের বিকল্পগুলি। এটি উপলব্ধি করে যে খাবার বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, ভারতীয় রেলওয়ে এমন একটি মেনু তৈরি করেছে যা ঘরে তৈরি খাবারের মতো অভিজ্ঞতা দেয়। ট্রেনে উচ্চ মানের নিরামিষ খাবার তো উপলব্ধ আছেই, তার সাথে নতুন আমিষ বিকল্পগুলিও যাত্রীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জাহাজে প্রাপ্ত রন্ধন অভিজ্ঞতা: * প্রধান কোর্স: সুগন্ধি মটর পোলাও, মুচমুচে ভাজি, এবং ঐতিহ্যবাহী ভাজা মুগ ডাল। * বিশেষ পছন্দ: নরম পরোটা যা হয় সুস্বাদু ছোলার ডালনা (নিরামিষাশীদের জন্য) অথবা মশলাদার চিকেন কড়াইয়ের সাথে পরিবেশন করা হয়। * মিষ্টি সমাপ্তি: ক্ষীর কদম ছাড়া কোনো বাঙালি খাবার অসম্পূর্ণ, যা বিশ্বমানের যাত্রার মিষ্টি সমাপ্তি প্রদান করে। এই উদ্যোগটি দেখায় যে ভারতীয় রেলওয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের খাদ্যাভ্যাসকে কতটা গুরুত্ব দেয়। যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে, এবং তারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন যে এই ট্রেনটি ইতিমধ্যেই আরাম এবং সুরক্ষার দিক থেকে দেশে অগ্রণী, এবং এটি একটি অতিরিক্ত অর্জন। “সোনার বাংলা” এর জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রগতি এখানেই থেমে থাকে না। “সোনার বাংলা” এর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে, 2026 সালের কেন্দ্রীয় বাজেট রাজ্যকে আরও একটি দুর্দান্ত উপহার দিয়েছে। রেলমন্ত্রী শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডোরের ঘোষণা করেছেন। এই আসন্ন করিডোরটি বিপ্লবী প্রমাণিত হবে, যার ফলে ভ্রমণের সময় 3 ঘন্টারও কম হয়ে যাবে। উত্তরবঙ্গকে ভারতের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের সাথে বিদ্যুতের গতিতে সংযুক্ত করে, সরকার এটি নিশ্চিত করছে যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অর্থনৈতিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের তিথিপূজা এবং স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা প্রকল্পের সূচনা
সকাল সকাল ডেস্ক শেফালী মাহাত, পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার থানার ধেলাতবামু গ্রাম। এই গ্রামে ” স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা”নামে এক প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে। শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজির আদর্শে পরিচালিত ” স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা ট্রাস্ট ” নামক এক সংগঠন এই প্রকল্প ধেলাতবামু ও গোঁসাইডি এই দুটি গ্রামে গ্রহণ করেছেন। এই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে আছে ” প্রাণকৃষ্ণ পাণ্ডে মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ” নামে একটি এন জি ও।স্বামী বিবেকানন্দের আবির্ভাব দিবস ১২ জানুয়ারি ২০২৬ এই প্রকল্পের ঘোষণা হয় ধেলাতবামু গ্রামের কালীমন্দির প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে । ঐদিন ঠাকুর মা স্বামীজিকে স্মরণ করে এই প্রকল্প ঘোষণা করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক এবং রামকৃষ্ণ ভাবানুরাগী ও শ্রীমৎ স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজের ভারতীয় প্রতিনিধি শ্রী অনুপ পান। ঐদিন শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজির বিশেষ পূজা , কীর্তন সহযোগে গ্রাম পরিক্রমা এবং মহিলা ও যুব সমাবেশ আয়োজিত হয়। শ্রী অনুপ পান মহাশয়ের সঙ্গে আরো কয়েকজন শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্ত ও অনুরাগী ঐদিন গ্রামে আসেন। ঐ গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে একটি করে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরাবাজার ব্লকের বি ডি ও শ্রী সমিত রঞ্জন মণ্ডল,বরাবাজার ব্লকের প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন আধিকারিক , পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডি এস পি শ্রী অসিত কুমার পাণ্ডে , সমাজসেবী ও সাংবাদিক শ্রী বংশীধর সিংহ সহ আরো অনেক।ঐদিন “সারদাবাহিনী ” ও ” বিবেকবাহিনী” র যুবক যুবতীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শ্রী অনুপ পান সহ অন্যান্যরা। তাঁদের কাছ থেকে তাঁদের চাহিদা , সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। গ্রামবাসীদের সঙ্গে ও আলোচনা করা হয়। যুবক যুবতী সহ গ্রামবাসীদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে।আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে ,১) এলাকায় সেচ ব্যবস্থার জন্য গভীর নলকূপ২) পশুপালন ( ছাগল )।৩) হাঁস পালন ।৪) সেলাই প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন এবং বিপনন।৫) মাশরুম চাষ ( উৎপাদন ও বিপন্ন)।৬) ধূপবাতি ( উৎপাদন ও বিপনন)।৭) অর্গানিক সাবান ( উৎপাদন ও বিপনন)।৮) হ্যান্ড কার্ফ্ট ( উৎপাদন ও বিপনন) সেই সঙ্গে যুবক যুবতীদের জন্য – ১) ক্রিকেট ,২) ফুটবল ,৩) ভলিবল ,৪) তীরন্দাজী ইত্যাদি উপকরণ সরবরাহ সহ প্রশিক্ষণ এবং খেলার ব্যবস্থা।পুলিশ ও মিলিটারি পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। অন্যান্য পরীক্ষায় প্রস্তুতি র জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদি গ্রহণ করা হবে।ঐ আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কার্যকরী করার জন্য আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ধেলাতবামু কালীমন্দির প্রাঙ্গনে ” শ্রী রামকৃষ্ণদেবের তিথি পূজা র,” মধ্যদিয়ে ঐ দিন সমস্ত যুবক যুবতীদের হাতে খেলার সরঞ্জাম তুলে দেওয়া এবং উল্লিখিত প্রশিক্ষণগুলির শুভারম্ভ হবে।রূপায়ণকারী সংস্থা ” প্রাণকৃষ্ণ পাণ্ডে মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ” এর সভাপতি শ্রী রবীন পাণ্ডে জানালেন ঐদিন শ্রী রামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পূজাপাঠ হোম এবং ” স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা প্রকল্পের ” সূচনা করা হবে। ঐদিন ও শ্রী অনুপ পান সহ ” স্বামী বিবেকানন্দে ত্রিশূল সেবা ট্রাস্ট ” এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।ঐদিন গ্রামের মানুষজনের জন্য ” নরনারায়ণ সেবা ” আয়োজন থাকবে । রবীন পাণ্ডে বলেন যে , গোঁসাইডি এবং ধেলাতবামু গ্রামের মানুষের শিক্ষা , স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তাঁদের লক্ষ্য । তিনি বলেন , শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজির কৃপায় এই গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।