তৃণমূলের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’র পাল্টা বিজেপির ‘চোরেদের পাঁচালি’ ট্যাবলো
সকাল সকাল ডেস্কপূর্ব মেদিনীপুর – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিগত বছরগুলির উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরতে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রকাশ করেন। কথা ও সুরের মাধ্যমে সাজানো সেই ট্যাবলো ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরছে। রবিবার তার পাল্টা হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে শুরু হল ‘চোরেদের পাঁচালি’ নামের ট্যাবলো প্রচার| যার সূচনা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে।রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূলকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ বিজেপি। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের কথিত দুর্নীতি ও অপকর্ম সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এই ‘চোরেদের পাঁচালি’। বিজেপির অভিযোগ, উন্নয়নের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। সেই ‘সত্য’ প্রকাশ করতেই এই উদ্যোগ।এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, নন্দীগ্রামের মানুষ এই পাঁচালি মানবে না। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিকভাবেই নন্দীগ্রামের মানুষ শুভেন্দু অধিকারীকে প্রত্যাখ্যান করবে। এই ট্যাবলো ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজা শুরু হওয়ায় নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
চা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রথমবারের উদ্যোগ তৃণমূলের
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : ভোটের আগে চা বাগান শ্রমিকদের সমস্যা ও দাবিদাওয়া সরাসরি শোনার লক্ষ্যে শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্টির উদ্যোগে এই প্রথমবার চা বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে এমন সরাসরি জনসংযোগমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।এই বৈঠকে শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে চা বাগানের শ্রমিকদের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা ও দাবির কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। শ্রমিকদের কথা আরও সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফর্মের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই ফর্মে শ্রমিকরা তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যা, মজুরি, স্বাস্থ্য, বাসস্থান-সহ নানা বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার সুযোগ পাবেন। সেই ফর্মের মাধ্যমেই তাঁদের বক্তব্য সরাসরি শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে যাবে।দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সীমিত সময়ের মধ্যে শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফর্মগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সমস্যাগুলি বেছে নিয়ে যতটা সম্ভব বেশি ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হবে।চা বাগান শ্রমিকদের কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষায় এই বৈঠককে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। ভোটের আগে এই উদ্যোগের মাধ্যমে চা বলয়ের মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তুলতে চাইছে শাসক দল।
সূর্যের সবচেয়ে কাছে পৃথিবী, শনিবার পূর্ণিমার চাঁদ দেখাবে সুপারমুনের মতো
সকাল সকাল ডেস্ক ভোপাল : জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য শনিবারটি বিশেষ। এদিন পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছের অবস্থানে পৌঁছচ্ছে, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘পেরিহেলিয়ন’ বলা হয়। শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়াবে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিলোমিটার। মধ্যপ্রদেশের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানপ্রচারক সারিকা ঘারু জানান, ডিম্বাকৃতি কক্ষপথে আবর্তনের ফলে গ্রহ-উপগ্রহগুলি বছরে একবার সবচেয়ে কাছের অবস্থানে আসে। নতুন বছরের শুরুতেই সেই বিরল মুহূর্ত দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, শনিবার পূর্ণিমার চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি থাকায় আকাশে তা সুপারমুনের মতো বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে। যদিও চাঁদ ১ জানুয়ারিই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে ছিল, ফলে একে পুরোপুরি সুপারমুন বলা যাবে না। পূর্ণিমার রাতে চাঁদ মিথুন রাশিতে অবস্থান করে সন্ধ্যায় উদিত হয়ে সারা রাত আকাশে দৃশ্যমান থাকবে।
বৃদ্ধার বাড়ি সাফ করে পুলিশের জালে বিশ্বস্ত গৃহকর্মী ও তার দাদা
সকাল সকাল ডেস্ক সোমনাথ গুপ্ত, দুর্গাপুরযে মানুষটাকে দুই দশক ধরে নিজের বাড়ির একজন বলে ভেবেছিলেন এক বৃদ্ধা। যার হাতে দিনের পর দিন সংসারের চাবি ছিল সেই বিশ্বস্ত গৃহকর্মীই সাফ করেছিল পুরো বাড়ি।দুর্গাপুরের ফরিদপুর ফাঁড়ি এলাকার ৫৪ ফুট এলাকায় এক বৃদ্ধার বাড়িতে চুরির ঘটনায় সামনে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতার ওই গৃহকর্মী এবং আরো এক ব্যক্তি। শুক্রবার বিকেলে দুর্গাপুর থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা। তিনি বলেন, বিগত বছরের ২৭ ডিসেম্বর একটি ঘটনা ঘটেছিল। বাড়ি থেকে গয়না ও নগদ টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন ওই বৃদ্ধা। অভিযোগ পেতেই আইসি ফরিদপুর ও ওসি দুর্গাপুরের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয় এই চুরি বাইরের কোনও দুষ্কৃতীর কাজ নয়, বরং ঘরের ভেতরেই গড়ে উঠেছিল পুরো ছক। পুলিশি তদন্তে গ্রেফতার করা হয়েছে সঞ্জয় ওঝা ও তার ভাই শিবনাথ ওঝাকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্জয় ওঝা প্রায় কুড়ি বছর ধরে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে বিশ্বস্ত গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। দীর্ঘদিনের সেই আস্থা, নির্ভরতা আর নিরাপত্তার অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েই চুরির পরিকল্পনা করে সে।তদন্তের পর পুলিশ উদ্ধার করেছে চুরি যাওয়া সমস্ত গয়না এবং নগদ ২৪ হাজার টাকা। সোনা রুপোর প্রায় লক্ষাধিক টাকার অলংকার ছিল। কিন্তু ঘটনায় নাটকীয় মোড় আসে তদন্ত চলাকালীন। শিবনাথ ওঝার কাছ থেকে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। যার জেরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেপৃথক মামলাও রুজু হয়েছে। ধৃত দু’জনেরই বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে। বর্তমানে তারা দুর্গাপুরে বসবাস করছিল বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই মুহূর্তে দু’জন অভিযুক্তই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কমিশনারের পাশাপাশি এসিপি দুর্গাপুর সুবীর রায়, সিআই রণবীর বাগ সহ পুলিশের আধিকারিকরা। পুলিশ মনে করছে, জেরায় এই চুরির পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত কারগিল যুদ্ধের সৈনিক তপন কুমার ঘোষ, গর্বে আবেগাপ্লুত বসিরহাট
সকাল সকাল ডেস্ক বসিরহাট : দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা এক বাঙালি সৈনিকের অসামান্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি মিলল রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ার বাসিন্দা, কারগিল যুদ্ধের সৈনিক তপন কুমার ঘোষ রাষ্ট্রপতি বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন।তপন কুমার ঘোষের বাবা সন্তোষ ঘোষ ছিলেন এক ক্ষুদ্র কাঠের দোকানের মালিক। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও ছোটবেলা থেকেই দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তপনবাবু। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৮৫ সালে তিনি বিএসএফে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ৩৯ বছরের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন। কাশ্মীরের এলওসি, পাঞ্জাব সহ দেশের একাধিক সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামনে থেকে কারগিল যুদ্ধে অংশ নিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন।নতুন প্রজন্মের বিএসএফ জওয়ানদের প্রশিক্ষণ দিয়েও তিনি দেশরক্ষার আদর্শ তুলে ধরেছেন। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসর নিলেও তখন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার সেই সম্মান হাতে পেয়ে গোটা ঘোষ পরিবার ও গ্রামবাসীরা গর্বিত। তপনবাবু জানান, সততা ও দেশপ্রেম নিয়েই সবাইকে দেশের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।
হিঙ্গলগঞ্জে জলের দাবিতে রাস্তা অবরোধ গ্রামবাসীদের
সকাল সকাল ডেস্ক উত্তর ২৪ পরগনা – পানীয় জলের দাবিতে বালতি ও কলসি হাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের স্কুলপাড়া এলাকায় শুক্রবার এই ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন এলাকার মহিলারা হাসনাবাদ–হিঙ্গলগঞ্জ রোড অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ করেন।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে স্কুলপাড়া এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর উদ্দেশ্যে একটি হাই ওয়াটার ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই ট্যাঙ্কের সঙ্গে এলাকার জলের পাইপলাইনের কোনও সংযোগ করা হয়নি। ফলে ট্যাঙ্ক তৈরি হয়ে পড়ে থাকলেও এলাকার মানুষ একফোঁটা জলও পাচ্ছেন না। বারবার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর ধরেই এই এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকট চলছে। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারকে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা—সব ঋতুতেই কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে মাথায় করে জল বয়ে আনতে হয়। হাই ওয়াটার ট্যাঙ্ক তৈরি হওয়ায় মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল, এবার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।এদিন বিক্ষোভকারীরা ট্যাঙ্ক নির্মাণকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে হাই ওয়াটার ট্যাঙ্ক চালু করে এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিস্মৃতির অতলে এক মহাজীবন ‘সরস্বতী রাজমণি’
সকাল সকাল ডেস্ক সিদ্ধার্থ রায়, পাটনা সময়টা ছিল ১৯৪২ সাল। রেঙ্গুন (বর্তমান মিয়ানমার) শহরের সবচেয়ে ধনী এলাকায় বিশাল প্রাসাদে বাস করতেন এক ভারতীয় পরিবার। বাবা ছিলেন সোনার খনির মালিক। জন্ম থেকেই মেয়েটি দেখেছে অঢেল সম্পদ। দামি গাড়ি, রেশমি পোশাক আর হীরা-জহরত—এটাই ছিল তার শৈশব। তার নাম সরস্বতী রাজামণি। সরস্বতী রাজামণির জন্ম ১৯২৭ সালে বার্মায়, তাঁর বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন কট্টর সমর্থক ছিলেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বার্মায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। রাজমণির বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর।কিন্তু নিয়তি তার জন্য রাজপ্রাসাদ নয়, লিখে রেখেছিল জঙ্গল আর বারুদের গন্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তুঙ্গে থাকাকালীন রেঙ্গুনে এসেছেন ভারতের স্বাধীনতার শেষ আশা—নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। হাজার হাজার মানুষের সামনে তিনি বজ্রকন্ঠ ঘোষণা করলেন— “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব”। সেদিন ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী রাজামণির শরীরের রক্তে যেন আগুন ধরে গেল। তিনি সেই মুহূর্তেই নিজের গলার হার, হাতের বালা, কানের দুল—সব খুলে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’–এর তহবিলে জমা দিয়ে দিলেন। এই উদার পদক্ষেপটি নেতাজির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়নি, যিনি জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন যে রাজামণি রেঙ্গুনের অন্যতম ধনী ভারতীয়ের মেয়ে। পরের দিনই, তিনি সমস্ত গয়না ফেরত দেওয়ার জন্য রাজামণের বাড়িতে পৌঁছান। পরদিন সকালে সেই বিশাল প্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়াল এক সেনা জিপ। জিপ থেকে নামলেন স্বয়ং নেতাজি। তিনি এসেছিলেন সেই গয়নাগুলো ফেরত দিতে। তিনি ভেবেছিলেন, আবেগের বশে ছোট মেয়েটি ভুল করেছে, এত দামি গয়না দান করার বয়স তার নয়। কিন্তু নেতাজির চোখের দিকে তাকিয়ে রাজামণি যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা ইতিহাস হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন— “নেতাজি, ওটা ভুল করে দিইনি। ওটা আমার দেশের জন্য দান। আর দান করা জিনিস আমি ফিরিয়ে নিই না।” রাজামণি একটি উদার পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন যেখানে মেয়েদের জন্য খুব একটা বিধিনিষেধ ছিল না। গভীর দেশপ্রেমিক এই মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ১০ বছর তখন থেকেই সে শ্যুটিং এ দক্ষতা অর্জন করেছিল। নেতাজি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তিনি মেয়েটির চোখে কোনো ভয় দেখলেন না, দেখলেন ইস্পাতের মতো জেদ। তিনি হাসলেন। নাম দিলেন—‘সরস্বতী’। আর বললেন, ‘তোমাকে আমার দলে চাই। কিন্তু বন্দুক হাতে নয়, তোমার কাজ হবে আরও কঠিন’। ‘রাজামণি’র মৃত্যু ও ‘মণি’র জন্ম হল। নেতাজির নির্দেশে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। মেয়েদের লম্বা চুল কেটে ফেলা হলো। পরানো হলো ঢিলেঢালা শার্ট আর প্যান্ট। সরস্বতী রাজামণি হয়ে গেলেন—‘মণি’। তার সঙ্গী হলেন আরেক সাহসী মেয়ে—দুর্গা। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলো গুপ্তচরবৃত্তির। সেসময়ে আজাদ হিন্দ ফৌজের গুপ্তচর বিভাগে নীরা আর্য, সরস্বতী রাজমণি, মনবতী আর্য এবং দুর্গা মল্লা-র মত নির্ভীক মেয়েরা জীবনকে বাজী রেখে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, রাজমণিকে একজন কর্মীর ছদ্মবেশে কলকাতার ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে গুপ্তচর হিসেবে পাঠানো হয়েছিল যাতে তিনি ব্রিটিশদের গোপন তথ্য পেতে পারেন এবং আই এন এ-এর সাথে তা ভাগ করে নিতে পারেন। ১৯৪৩ সালে ভারতীয় সীমান্তে নেতাজির গোপন সফরের সময় নেতাজিকে হত্যার ব্রিটিশ পরিকল্পনা উন্মোচনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভাবা যায়? ১৫ বছরের এক কিশোরী, যে কয়েকদিন আগেও পালঙ্কে ঘুমাতো, সে এখন ব্রিটিশ মিলিটারির মেস-এ কাজ করছে ‘বয়’ হিসেবে! তাদের কাজ ছিল ব্রিটিশ অফিসারদের জুতো পালিশ করা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া আর চা পরিবেশন করা। ব্রিটিশ জেনারেলরা ভাবত, এরা তো সাধারণ স্থানীয় বাচ্চা ছেলে, এরা ইংরেজির কী বুঝবে? তাই তাদের সামনেই চলত যুদ্ধের গোপন মিটিং। ম্যাপ খুলে তারা দেখাত—কোথায় আইএনএ-র ওপর বোমা ফেলা হবে, কোন রাস্তা দিয়ে রসদ যাবে। প্রায় দুই বছর ধরে সরস্বতী রাজামণি এবং তার মহিলা সহকর্মীরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ছেলেদের ছদ্মবেশে নিজেদেরকে ধারণ করেছিলেন। আর ঘরের কোণে জুতো পালিশ করতে করতে ‘মণি’র কান খাড়া থাকত। তাঁর মস্তিষ্ক দ্রুত রেকর্ড করে নিত প্রতিটি তারিখ, প্রতিটি কোড। কাজ শেষ করে বাথরুমে গিয়ে চিরকুটে সব লিখে, রুটির ভেতর বা জুতোয় লুকিয়ে সেই খবর পৌঁছে দেওয়া হতো নেতাজির ক্যাম্পে। দিনের পর দিন, মৃত্যুর সাথে এই লুকোচুরি চলতে লাগল। এল সেই কালরাত্রি: এক অসীম সাহসের রোমাঞ্চকর কাহিনী। গুপ্তচরের জীবন মানেই প্রতি মুহূর্তে ধরা পড়ার ভয়। একদিন সত্যি হলো সেই দুঃস্বপ্ন। রাজামণির সঙ্গী দুর্গা ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়ে গেলেন। খবর এল, তাঁকে মিলিটারি জেলে আটকে রাখা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তার ওপর অমানুষিক অত্যাচার শুরু হবে কথা বের করার জন্য। আইএনএ-র নিয়ম ছিল কঠোর—ধরা পড়লে নিজেকে শেষ করে দাও, কিন্তু ধরা দিও না। সবাই রাজমণিকে বলল, “পালিয়ে এসো, ওখানে গেলে তুমিও মরবে।” কিন্তু রাজমণি সেদিন বলেছিলেন— “আমার বন্ধু ধরা পড়েছে, আর আমি পালিয়ে আসব ? এটা আমি হতে দেব না।” রাতের অন্ধকারে, ছেলেদের ছদ্মবেশে রাজমণি ঢুকে পড়লেন ব্রিটিশদের সেই কঠোর নিরাপত্তার দুর্গে। তিনি জানতেন প্রহরীদের দুর্বলতা। তিনি প্রহরীদের খাবারে ও চায়ে মিশিয়ে দিলেন শক্তিশালী আফিম। প্রহরীরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন চাবি চুরি করে তিনি খুললেন দুর্গার সেলের দরজা।দুর্গাকে নিয়ে যখন তিনি জেলের পাঁচিল টপকাচ্ছেন, ঠিক তখনই বেজে উঠল সাইরেন। শুরু হলো সার্চলাইটের আলো আর এলোপাথাড়ি গুলি। অন্ধকারে দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ মনে হলো আগুনের একটা গোলা এসে লাগল তার ডান পায়ে। একটা বুলেট রাজমণির পা ভেদ করে চলে গেছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মাটি। যন্ত্রণায় শরীর দুমড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি থামলেন না। কারণ থামলেই মৃত্যু—শুধু নিজের নয়, তার বন্ধুরও। আহত পায়ে, রক্তক্ষরণ হতে থাকা অবস্থায়, তিনি আর দুর্গা পাশের গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়লেন। ব্রিটিশ সৈন্যরা কুকুর নিয়ে তাদের খুঁজছে। বাঁচার জন্য রাজমণি আর দুর্গা একটি বিশাল গাছের ওপর চড়ে বসলেন। বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে— টানা তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) সেই গাছের ওপর বসে ছিলেন তাঁরা। পায়ে গুলি, শরীর জ্বরে পুড়ছে, জল নেই, খাবার নেই। নিচে ব্রিটিশ পেট্রল ঘুরছে। একটু শব্দ হলেই সব শেষ। তিন দিন পর যখন ব্রিটিশরা হাল ছেড়ে চলে গেল, তখন তারা গাছ থেকে নেমে খোঁড়াতে খোঁড়াতে পৌঁছালেন আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাম্পে। আজাদ হিন্দ ক্যাম্পে ফিরে তিনি যন্ত্রণায় প্রায় অজ্ঞান, তখন তাঁকে দেখতে এলেন নেতাজি। ডাক্তাররা যখন তার পা থেকে বুলেট বের করলেন, নেতাজি সেই লড়াকু মেয়েটিকে স্যালুট করে বলেছিলেন— “আমি জানতাম না আমাদের বাহিনীতে এত বড় বারুদ লুকিয়ে আছে। তুমি ভারতের বীরাঙ্গনা, তুমি আমার ঝাঁসির রানি।” নেতাজি তাঁকে জাপানের সম্রাটের দেওয়া নিজের পিস্তল উপহার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাজমণি চেয়েছিলেন শুধু দেশের স্বাধীনতা। রাজমণির সাহসিকতার জন্য, তাঁকে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয় এবং রেজিমেন্টে লেফটেন্যান্ট পদে প্রোন্নতি করা হয়। বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তী নারীর নাম সরস্বতী রাজমণি। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু যে মেয়েটি দেশের জন্য নিজের যৌবন, রক্ত আর বাবার সম্পত্তি সব দিয়েছিলেন—দেশ কি তাকে মনে রেখেছিল ? না। ইতিহাসের বইয়ে তাঁর নাম জায়গা পায়নি। যে রাজমণি একসময় সোনার পালঙ্কে ঘুমাতেন, জীবনের শেষ কয়েকটা দশক তিনি কাটিয়েছেন চেন্নাইয়ের রায়পেট্টায়—এক কামরার এক জরাজীর্ণ ভাড়া বাড়িতে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধার পেনশন দিতে অনেক দেরি করেছিল। তবুও তার কোনো অভিযোগ ছিল না। ২০০৪
গঙ্গাসাগরে মেলায় ভিড় সামলাতে ড্রপ গেটে ট্রাফিক লাইট, আলোর ব্যবস্থা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত। আগামীদিনে ভিড় সামলাতে ড্রপ গেটে ট্রাফিক লাইট বসানোর ভাবনা চিন্তা একরকম প্রায় পাকা। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ড্রপ গেট বসানো হলে রাতের দিকেই বিশেষ সুবিধা হবে। এর ফলে দূর থেকেই মানুষের যাতায়াত তথা পূণ্যার্থীদের আনাগোনা করতে বরং সুবিধাও হবে। একসঙ্গে যাতে অনেকেই এক জায়গা দিয়ে ঢুকে পড়তে না পারে তার জন্যে অস্থায়ীভাবেই বাঁশ দিয়ে তৈরি ব্যারিকেড গড়ে তুলতে হয় এবং আটকে রাখা হয়ে থাকে। এদিকে, বিক্ষিপ্তভাবে মেলায় আগতদের ঘোরাঘুরি করা থেকে বিরত থাকতে যদিও নির্দেশ রয়েছে সরকারের তরফেও। তবে, কপিল মুনির মূল আশ্রমে পৌঁছাতে হলে বরাবরের মতো হুড়োহুড়ি থাকে। এইসব এড়িয়ে চলতে ওই ব্যবস্থা। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি মন্ত্রী পুলক রায় প্রমুখের উপস্থিতিতেই এ নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বিভাগীয় আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন।
খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি ও ঢাকা : বুধবার সকালেই খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে অংশ নিতে বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ঢাকায় পৌঁছে বিএনপি-র শীর্ষ নেতা তথা খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন জয়শঙ্কর। সেই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে একটি পত্রও তারেকের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, এ দিন দুপুরে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০। অশীতিপর বিএনপি নেত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্কটজনক ছিল। হাসপাতালে সিসিইউ-তে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
চামোলিতে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৬০ জন
সকাল সকাল ডেস্ক চামোলি : ফের ট্রেন দুর্ঘটনা। এ বার দু’টি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে। আধিকারিক এবং কর্মীদের নিয়ে যাওয়া একটি লোকো ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় একটি পণ্যবাহী ট্রেনের। ৬০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের পিপলকোটি টানেলের ভেতরে ওই ঘটনা ঘটে। জানা যাচ্ছে, ওই দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় ৬০ জন। চামোলির জেলাশাসক গৌরব কুমার জানিয়েছেন, শ্রমিক ও আধিকারিকদের নিয়ে যাওয়া একটি লোকো ট্রেনের সঙ্গে একটি পণ্যবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে ১০৯ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। চামোলির মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ১০ জনকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে গোপেশ্বরের জেলা হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, ওই টানেলে বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ-এর কাজ হচ্ছিল। এই কাজের জন্য একটি ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন আধিকারিক ও শ্রমিকরা। সেখানে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিল ট্রেনটি। চামোলি জেলার হেলাং এবং পিপালকোটির মধ্যে অলকানন্দা নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।