সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: উৎসবের মরসুমে ঋণগ্রাহকদের জন্য অস্বস্তির খবর। রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। বুধবার ঘোষিত সিদ্ধান্তে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.৫০ শতাংশ। প্রায় চার বছর পর রেপো রেট বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে আরবিআই।
রেপো রেট বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের সুদে। বিশেষ করে পরিবর্তনশীল বা ফ্লোটিং রেটে ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগামী দিনে ইএমআই অথবা ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেপো রেট কী?
বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্প মেয়াদে যে সুদের হারে আরবিআই অর্থ ধার দেয়, তাকেই রেপো রেট বলা হয়। রেপো রেট বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির অর্থ সংগ্রহের খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ঋণের সুদের উপর পড়তে পারে।
তবে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে মানেই প্রত্যেক গ্রাহকের ঋণের সুদ ঠিক ০.২৫ শতাংশ বাড়বে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ঋণ কোন বেঞ্চমার্কের সঙ্গে যুক্ত, ব্যাঙ্কের নিজস্ব স্প্রেড এবং সুদ পুনর্নির্ধারণের নিয়মের উপর প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করবে।
কতটা বাড়তে পারে ইএমআই?
উদাহরণ হিসেবে, ৫০ লক্ষ টাকার ২০ বছরের গৃহঋণে সুদের হার ৮.৫০ শতাংশ হলে মাসিক ইএমআই প্রায় ৪৩,৩৯১ টাকা। সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৮.৭৫ শতাংশ হলে একই মেয়াদে ইএমআই বেড়ে প্রায় ৪৪,১৮৬ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ৭৯৫ টাকা এবং বছরে প্রায় ৯,৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
তবে ব্যাঙ্কভেদে এই হিসাব আলাদা হবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক ইএমআই বাড়ানোর পরিবর্তে ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাসিক খরচ একই থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাহককে বেশি সুদ দিতে হতে পারে।
গৃহঋণে প্রভাব বেশি
রেপো রেট বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে গৃহঋণের দিকে। কারণ গৃহঋণের অঙ্ক সাধারণত বেশি এবং পরিশোধের মেয়াদও দীর্ঘ। ফলে সুদের হারে সামান্য পরিবর্তন হলেও ১৫, ২০ বা ২৫ বছরের হিসাবে মোট সুদের খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে।
গাড়ি ঋণ ও ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও নতুন ঋণগ্রহীতাদের বেশি সুদ গুনতে হতে পারে। পুরনো ফ্লোটিং রেটের ঋণগ্রাহকদের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের রিসেট তারিখ অনুযায়ী নতুন সুদের হার কার্যকর হতে পারে।
কেন রেপো রেট বাড়াল আরবিআই?
মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ, অপরিশোধিত তেলের দাম, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং টাকার উপর চাপ অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অগস্টে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৪.৮২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আরবিআইয়ের ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার উপরে।
আমানতকারীদের জন্য মিলতে পারে সুবিধা
রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে ঋণগ্রাহকদের খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও আমানতকারীদের জন্য কিছুটা সুবিধা তৈরি হতে পারে। ব্যাঙ্কগুলি আগামী দিনে নতুন ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্যান্য আমানতে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে আগে থেকে করা স্থায়ী আমানতের সুদের হার সাধারণত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিবর্তিত হয় না।
এই পরিস্থিতিতে ফ্লোটিং রেটের ঋণগ্রাহকদের নিজেদের ঋণের বর্তমান সুদের হার, বেঞ্চমার্ক এবং পরবর্তী রিসেটের তারিখ খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি সংখ্যায় সামান্য মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মোট পরিশোধের অঙ্কে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
No Comment! Be the first one.