সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি : ভারত ও সুইজারল্যান্ড উভয় দেশই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন, সংলাপ এবং কূটনীতিতে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার নতুন দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি গাই পারমেলিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত ও সুইজারল্যান্ড একসঙ্গে কাজ করে যাবে। ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া—বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি ইতিবাচক উদ্যোগকে ভারত সমর্থন জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়েও দুই দেশ একমত বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ভারতে আসায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, আগামী ৭ অক্টোবর ‘ভারত-ইএফটিএ বিজনেস লিডারস প্রসপারিটি সামিট’ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগই ভারত-সুইজারল্যান্ড অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান শক্তি। ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ এবং ‘ইয়াং প্রফেশনালস এগ্রিমেন্ট’-এর ফলে সুইজারল্যান্ডে ভারতীয় পড়ুয়া, গবেষক, পেশাজীবী এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
রাষ্ট্রপতি গাই পারমেলিনের ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের প্রতি অঙ্গীকারেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবরে তাঁর সহযোগিতায় ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সমিতির মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ইউরোপের কোনও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে এটিই ভারতের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই চুক্তি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে আগামী ১৫ বছরে ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং প্রায় ১০ লক্ষ প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানান।
দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারত ও সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনেতা নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
No Comment! Be the first one.