সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে বা পরেই এনসিপিআই–এর ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এমন কোনও পরিকল্পনার কথা জানা নেই বলে দাবি করেছে রাজ্য বিজেপি।
জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, দলত্যাগবিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতেই তাঁদের প্রথমে এনসিপিআই–তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দলের ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন একসঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও দাবি তাঁর। বসুনিয়ার যুক্তি, ২০ জনের মধ্যে ১৪ জন দুই–তৃতীয়াংশের সীমা পূরণ করেন। সেখানে ১৭ জন একসঙ্গে গেলে দলত্যাগবিরোধী আইনে তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না বলেই তাঁর মত।
তবে এনসিপিআই–এর তিন সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান এখনই সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন না বলে দাবি করেছেন বসুনিয়া। তাঁর বক্তব্য, ওই তিন সাংসদের নির্বাচনী কেন্দ্র সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে তাঁরা এনডিএ–র অংশ হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন এবং কেন্দ্রীয় স্তরে বিভিন্ন দায়িত্বও পেতে পারেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
বসুনিয়ার এই বক্তব্য অবশ্য কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে এমন কোনও ঘটনা ঘটছে বলে তাঁর জানা নেই। এনসিপিআই সাংসদ যে মন্তব্য করেছেন, তার দায় সংশ্লিষ্ট সাংসদেরই। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।
এই জল্পনার মধ্যেই দলত্যাগবিরোধী আইন সংক্রান্ত মামলায় কিছুটা সময় পেয়েছেন এনসিপিআই–এর ২০ সাংসদ। তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আরও তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই–এর হয়ে কাজ করা ওই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
লোকসভার নথিতে তাঁরা এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে থাকলেও প্রকাশ্যে এনসিপিআই–এর হয়ে কাজ করছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ–র বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পুজোর মুখে ১৭ সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের দাবি সত্যি হলে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
No Comment! Be the first one.