সকাল সকাল ডেস্ক
বিশকেক: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের আবহে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সি চিন পিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার মুখোমুখি বৈঠক করেন পুতিন ও সি। গত মে মাসের পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি বৈঠক হল।
বৈঠকের শুরুতেই রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফের সাক্ষাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন সি চিন পিং। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে বেজিং ও মস্কোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বর্তমান গতি বজায় রাখার উপরও জোর দেন তিনি।
সি-র বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। অর্থনীতি থেকে কৌশলগত সহযোগিতা—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন ও সি-র আলোচনায় মূল গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠলেও তা আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল না।
এসসিও-র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশকেকে দু’দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। জবাবে পুতিন জানান, মস্কোও চলমান সংকটের সমাধানের পথ খুঁজছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পুতিনের পৃথক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মস্কো ও তেহরানের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের প্রশ্নে রাশিয়া ও চীনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এসসিও সম্মেলনে মস্কো ও বেজিংয়ের ঘনিষ্ঠতার বার্তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এসসিও-র পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, নরেন্দ্র মোদি, মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং শাহবাজ শরিফ-সহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ।
বর্তমানে এসসিও-র ১০টি পূর্ণ সদস্যদেশ রয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি অংশীদার দেশের মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এবারের সম্মেলন এবং বিশেষ করে রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতার বার্তা ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
No Comment! Be the first one.