ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভান্ডারে বাড়ছে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ, বড় চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন, ২৯ অগস্ট: ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল চুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুতের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শুক্রবার চুক্তির কথা ঘোষণা করে একে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই চুক্তির হাত ধরে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আসবে বলেও দাবি তাঁর।

বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কারাকাসের উপর ওয়াশিংটনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাদুরোর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদে আমেরিকার প্রভাব বাড়ানোর আগ্রহের কথা আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির ঘোষণা করে তিনি দাবি করেন, এর ফলে আমেরিকার হাতে থাকা তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন। তাঁর দাবি, এই সমঝোতা আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ক্রমশ উন্নত হতে থাকা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

চুক্তিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার কাছাকাছি অঞ্চলেই স্থিতিশীল তেলের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রুবিও দাবি করেন, চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। যদিও এই বিপুল বিনিয়োগ কী ভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছিল, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে প্রায় এক ডজন উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই তেলক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যা ভেনেজুয়েলার মোট প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

দুই মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত কয়েক দশকের মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিচু স্তরে থাকার সময়ে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি ওয়াশিংটনের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, চুক্তির প্রভাবে আমেরিকায় পেট্রলের দাম কমবে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম মার্কিন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তেলের সরবরাহে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপের মুখে রয়েছে প্রশাসন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও দীর্ঘদিনের অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো এবং অতীতে বিদেশি সংস্থার সম্পদ অধিগ্রহণের নজিরের কারণে অনেক মার্কিন সংস্থাই এখনও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অন্যতম বড় মার্কিন তেল সংস্থা শেভরন গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, তাদের দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ উৎপাদন আরও প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে মার্কিন সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশটির সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Read More News

Read More