সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা, ১২ আগস্ট: একের পর এক মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নতুন চারটি মামলায় গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাগুলির জরুরি শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছিল। তবে বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সেই আর্জিতে সায় দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, মামলাগুলিকে তালিকার শীর্ষে এনে এখনই শুনানি করা সম্ভব নয়।
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সিআইডি একাধিক মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। সেই সুরক্ষার ভিত্তিতে ভবানী ভবনে হাজির হয়ে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছেন। তবে ওই দুটি মামলার বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও চারটি নতুন এফআইআর দায়ের হওয়ায় ফের গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীদের।
বুধবার সুমিতের আইনজীবী নতুন মামলাগুলিতে রক্ষাকবচের আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য তালিকার একেবারে উপরে তোলার আর্জি জানান। যুক্তি দেওয়া হয়, গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকায় জরুরি ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কিন্তু বিচারপতি জানান, এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিয়ে মামলাটি শোনা সম্ভব নয়। ফলে আপাতত নতুন চারটি মামলায় তাৎক্ষণিক আইনি সুরাহা পেলেন না সুমিত।
তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক হওয়ার কারণেই সুমিতকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই একের পর এক এফআইআর করা হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করেছেন তাঁরা। বিষ্ণুপুর থানা এবং কালীতলা আসুতি থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে অভিষেকের পাশাপাশি সুমিতের নামও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু রক্ষাকবচ নয়, নতুন চারটি এফআইআর বাতিলের দাবিতেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে পৃথক আবেদন করেছেন সুমিত। ফলে একদিকে সম্ভাব্য গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মামলাগুলির বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
এদিকে শালবনির সরকারি জমি বিক্রি সংক্রান্ত মামলায় বুধবারও সুমিতকে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই মামলায় অবশ্য তাঁর রক্ষাকবচ রয়েছে। ফলে তদন্তে সহযোগিতা করলেও সেই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু নতুন চারটি মামলায় একই ধরনের সুরক্ষা না থাকায় তাঁর আইনজীবীরা গ্রেফতারির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
হাইকোর্ট জরুরি শুনানিতে সায় না দেওয়ায় আপাতত নতুন মামলাগুলিতে সুমিতের আইনি সুরক্ষার প্রশ্ন ঝুলেই রইল। পরবর্তী শুনানিতে রক্ষাকবচ এবং এফআইআর বাতিলের আবেদন নিয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর।
No Comment! Be the first one.