সকাল সকাল ডেস্ক
মেদিনীপুর, ১১ আগস্ট : স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর ১১৮–তম আত্মবলিদান দিবসে বীর বিপ্লবীকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনিতে বিপ্লবী ক্ষুদিরামের জন্মভিটেতে পৌঁছে শ্রদ্ধা জানান তিনি। সকালে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হলেও, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে দুপুরেই তিনি মোহবনিতে হাজির হন।
রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম এত বিপুল সমারোহে ১১ আগস্ট শহিদ ক্ষুদিরামের মৃত্যুদিবস পালিত হলো। এদিনের স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মহান শহিদের স্মৃতিরক্ষার উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটেকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা (মিউজিয়াম) ও আর্ট গ্যালারি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি থাকবে অত্যাধুনিক লেজার শো-র আয়োজন। ক্ষুদিরাম বসু তথা অবিভক্ত মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে চান, তাঁদের জন্য সেখানে আধুনিক আবাসন ও গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মোহবনি উন্নয়ন বোর্ড’-কে ৫ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুরো কাজ দ্রুত শেষ করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, ‘শুভেন্দুজি, ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন আসছে। তাঁর আত্মবলিদান থেকে আমাদের সকলেরই শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। আপনি কি তাঁকে নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবছেন?’ আমি তাঁকে জানাই যে ১১ আগস্ট আমি নিজে কেশপুরে ক্ষুদিরামের বাসভবনে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করব। তিনি আমার এই উদ্যোগকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেন।”
আজকের তরুণ সমাজকে বিপ্লবীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী খেদ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান পাঠ্যক্রমে মাত্র চার লাইনে আটকে রাখা হয়েছে বিপ্লবী ক্ষুদিরামের অবদানকে। এটা হতে দেওয়া যায় না। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সর্বস্তরে তাঁর মহান ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য আমি শিক্ষাদফতরের কাছে বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি।”
অবিভক্ত মেদিনীপুরের বৈপ্লবিক ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে ক্ষুদিরাম বসু— একের পর এক বীর বিপ্লবীর জন্ম দিয়েছে মেদিনীপুরের মাটি। ঘরে ঘরে তাঁদের পুজো করা উচিত। আজ যাঁরা দেশকে অসম্মান করছেন এবং চার পাশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁদের অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে ক্ষুদিরামের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও দৃঢ় মানসিকতা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
No Comment! Be the first one.