সকাল সকাল ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে কর বৃদ্ধি, পেট্রোল রপ্তানিতে কর কমাল কেন্দ্রীয় সরকার।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশীয় বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও বিমান চলাচলের জ্বালানির রপ্তানির উপর আরোপিত উইন্ডফল কর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল রপ্তানির উপর আরোপিত কর কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্র। নতুন করহার ১৬ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্কের আওতায় এই নতুন করহার কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত মুনাফার একটি অংশ রাজস্ব হিসেবে আদায় করা এবং দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত জ্বালানির মজুত বজায় রাখা।
ডিজেল রপ্তানিতে বড় কর বৃদ্ধি
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজেল রপ্তানির উপর উইন্ডফল কর প্রতি লিটারে ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৭ টাকা কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রাখতে রপ্তানি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
বিমান জ্বালানির রপ্তানিতেও বাড়ল কর
ডিজেলের পাশাপাশি বিমান চলাচলের জ্বালানির রপ্তানির উপরও কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
আগে প্রতি লিটারে ৭ টাকা ৫০ পয়সা কর থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ এবং সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে বিমান জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে। ফলে অতিরিক্ত রপ্তানি হলে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পেট্রোল রপ্তানিতে মিলল স্বস্তি
অন্যদিকে পেট্রোল রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
পেট্রোল রপ্তানির উপর আরোপিত কর প্রতি লিটারে ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ মে প্রথমবার পেট্রোল রপ্তানির উপর নতুন করে কর আরোপ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এবার সেই করের হার কমানো হয়েছে।

দেশীয় বাজারে কী প্রভাব পড়বে?
অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রপ্তানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা পেট্রোল ও ডিজেলের উপর বর্তমানে যে কর কাঠামো রয়েছে, তাতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দামের উপর এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।
কেন বাড়ানো হল উইন্ডফল কর?
উইন্ডফল কর এমন একটি কর, যা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোনও সংস্থা অতিরিক্ত বা অপ্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করলে আরোপ করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়লে রিফাইনারি সংস্থাগুলি রপ্তানির মাধ্যমে বেশি লাভ করে। সেই অতিরিক্ত লাভের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে আনা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই এই করের মূল উদ্দেশ্য।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব
সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে কোনও জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণমূলক কর বজায় রাখছে কেন্দ্র।
প্রতি পনেরো দিনে পর্যালোচনা করবে সরকার
কেন্দ্রীয় সরকার মার্চ মাসে প্রথম ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানির উপর এই কর চালু করেছিল।
এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং রিফাইনারিগুলির মুনাফার পরিমাণ বিবেচনা করে প্রতি পনেরো দিন অন্তর করের হার পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হলে অথবা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পরিবর্তন এলে ভবিষ্যতেও কর কাঠামোয় সংশোধন আনা হতে পারে।
পটভূমি
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি রপ্তানির উপর উইন্ডফল করের হার পুনর্বিবেচনা করেছে।
প্রভাব
- ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি
- দেশীয় বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখার উদ্যোগ
- রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত মুনাফায় কর বৃদ্ধি
- পেট্রোল রপ্তানিতে কিছুটা স্বস্তি
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের উপর নজর আরও বাড়ল
সরকারি বক্তব্য
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নতুন করহার কার্যকর করা হয়েছে। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের বর্তমান কর বা খুচরা দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অবিলম্বে জ্বালানির দামে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
No Comment! Be the first one.