সকাল সকাল ডেস্ক
আহওয়াজের শিশু ক্যানসার হাসপাতালের আশপাশে হামলার অভিযোগ ইরানের। একই রাতে বন্দর শহরগুলিতে একাধিক বিস্ফোরণ, সামরিক স্থাপনাতেই হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহওয়াজ শহরে অবস্থিত শহিদ বাঘাই শিশু ক্যানসার হাসপাতালের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। একই সময়ে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক-সহ দক্ষিণ উপকূলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। তবে হাসপাতালকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলার দাবি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন বাহিনীও এমন কোনও হামলার কথা স্বীকার করেনি।
ইরানের অভিযোগ, বিস্ফোরণের জেরে হাসপাতালের পরিবেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় চিকিৎসাধীন শিশু ও অন্যান্য ক্যানসার রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সামরিক অবকাঠামো।
আহওয়াজের হাসপাতালে আতঙ্ক, রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হল
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুধবার গভীর রাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আহওয়াজের শহিদ বাঘাই শিশু ক্যানসার হাসপাতাল। বিস্ফোরণের অভিঘাতে হাসপাতালের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীই শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত। আতঙ্কের কারণে বহু রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। সংকটজনক অবস্থায় থাকা কয়েকজন রোগীকে চিকিৎসার স্বার্থে ভেতরেই রাখা হয়।
প্রাথমিকভাবে কোনও শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ উপকূলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ
ইরানের দাবি অনুযায়ী, একই রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারক এবং আরও কয়েকটি উপকূলবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এসব ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এই হতাহতের সংখ্যা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে।

কী বলছে মার্কিন সেনাবাহিনী?
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন দফার অভিযানে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকেই লক্ষ্য করা হয়েছে।
তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক কমান্ড অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
তবে হাসপাতাল বা অন্য কোনও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার কথা মার্কিন বাহিনী উল্লেখ করেনি।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
তাদের দাবি, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
এই পাল্টা হুঁশিয়ারির জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।
ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে—
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
- অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
- বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
- সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেতে পারে।
হাসপাতালকে লক্ষ্য করেই হামলা হয়েছিল কি?
এই ঘটনাকে ঘিরে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
ইরানের দাবি, হাসপাতালের আশপাশে হামলার ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং রোগীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে। তবে হাসপাতালটি সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মার্কিন প্রশাসনও হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পৃথক কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে আসায় বিভ্রান্তি থেকেই গেছে।
পটভূমি
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ক্রমশ মুখোমুখি হয়ে উঠছে।
প্রভাব
- মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা
- বিশ্ব বাণিজ্যে সম্ভাব্য ব্যাঘাত
- হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি
- আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা
সরকারি বক্তব্য
ইরানের অভিযোগ, হাসপাতালের আশপাশে বিস্ফোরণের ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের অভিযান শুধুমাত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলার কথা তারা উল্লেখ করেনি।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
হাসপাতালকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যাও বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নভাবে জানানো হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
No Comment! Be the first one.