সকাল সকাল ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা। কফি, ইস্পাত, কৃষিপণ্য-সহ একাধিক রপ্তানি খাতে বড় প্রভাবের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য বাজার, ধাতু শিল্প এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি। সেই কারণেই আমদানি শুল্ক বাড়ানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিকে ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রুবিওর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিকবার আলোচনার সুযোগ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্য সমঝোতার পথে এগোয়নি। বরং রাজনৈতিক অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, লুলা সরকারের অর্থনৈতিক নীতি শুধু মার্কিন শিল্প ও ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর নয়, তা ব্রাজিলের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের পক্ষেও অনুকূল নয়।

কোন কোন পণ্যে পড়তে পারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব?
যদিও এখনও পর্যন্ত শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ব্রাজিলের প্রধান রপ্তানি খাতগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাবিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে—
- কফি
- গরুর মাংস
- কমলার রস
- চিনি
- সয়াবিনজাত পণ্য
- ইস্পাত
- অ্যালুমিনিয়াম
- বিভিন্ন কৃষিজ ও শিল্পজাত পণ্য
অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে মার্কিন আমদানিকারকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও কমে যেতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কৃষি ও শিল্পবাজারে নতুন মূল্যচাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে কী প্রভাব পড়বে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক এবং ব্রাজিল অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে—
- কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধি
- খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা
- ধাতু শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
- বহুজাতিক সংস্থার সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন
- বিকল্প আমদানি উৎসের প্রয়োজন
এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নতুন সরবরাহকারী খুঁজতে হতে পারে।
ব্রাজিলের প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে নয়
এখনও পর্যন্ত ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা কিংবা দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিল প্রথমে কূটনৈতিক আলোচনার পথেই এগোতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক আরোপ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির আওতায় বিদেশি আমদানির উপর কঠোর অবস্থান নিয়ে এসেছে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপ সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আগামী দিনে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল পাল্টা শুল্ক আরোপ, কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি অথবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আইনি প্রক্রিয়ার পথেও হাঁটতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই নতুন শুল্ক সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; লাতিন আমেরিকার অর্থনীতি, বিশ্ব রপ্তানি বাজার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পটভূমি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবে অতীতেও একাধিক দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার বার্তা দিয়েছে।
প্রভাব
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা
- কৃষিপণ্য ও ধাতু শিল্পে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা
- ব্রাজিলের রপ্তানি খাতে চাপ
- মার্কিন আমদানিকারকদের ব্যয় বৃদ্ধি
- বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তন
সরকারি বক্তব্য
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্রাজিল থেকে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ব্রাজিল সরকার দীর্ঘদিন ধরে গঠনমূলক বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
বর্তমানে শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাজিল সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বিনিয়োগকারীরা।
No Comment! Be the first one.