সকাল সকাল ডেস্ক
লর্ডসে প্রথম টেস্ট জয়, ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে হারিয়ে বিলেতের মাটিতে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আরও উজ্জ্বল করল হরমনপ্রীত কৌরের দল
লর্ডসে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা দল
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও একটি সোনালি অধ্যায় যুক্ত হল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ জিতে নতুন নজির গড়ল ভারত। হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুধু ঐতিহাসিক জয়ই নয়, ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও অক্ষুণ্ণ রাখল ভারতীয় মহিলা দল। ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যুতে এই সাফল্য বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাল।
চতুর্থ দিনের শুরুতেই শেষ ইংল্যান্ডের লড়াই
চতুর্থ দিনের শুরুতে ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র চারটি উইকেট। ৪৫৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৩০ রান। শেষ দিনে ভারতীয় বোলাররা কোনও সুযোগ না দিয়ে দ্রুত ম্যাচ শেষ করে দেন।
মাত্র ৬২.৫ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে ২৭০ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় মহিলা দলের টেস্ট রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হল। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনটি টেস্টে জয় এবং সাতটি ম্যাচ ড্র করেছে ভারত। অর্থাৎ, এখনও পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনও টেস্ট ম্যাচ হারেনি ভারতীয় মহিলা দল।
সচিনের উপস্থিতিতে বাড়ল অনুপ্রেরণা
চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে গিয়ে ক্রিকেট কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা ও অনুপ্রেরণা দেন। পরে লর্ডসের গ্যালারিতে বসে তিনি দলের ঐতিহাসিক জয় প্রত্যক্ষ করেন।
ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মাঠে সচিনের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচ শেষে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীও এই মুহূর্তকে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বিশেষ স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অ্যামি জোন্স ও সোফি একলস্টোনের লড়াই যথেষ্ট ছিল না
দ্বিতীয় ইনিংসে একসময় মাত্র ৫৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে অ্যামি জোন্স ও সোফি একলস্টোন লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দু’জনেই অর্ধশতরান করে কিছু সময় ভারতের জয় বিলম্বিত করেন।
অ্যামি জোন্স ৫৪ রান করার পর আউট হলে আবার চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ৫০ রান করা সোফি একলস্টোনকে ফিরিয়ে দেন স্নেহ রানা। সেই উইকেটের পরই কার্যত ম্যাচ ভারতের মুঠোয় চলে আসে।
স্নেহ রানা চারটি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে দেন। দীপ্তি শর্মাও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা পালন করেন।
ব্যাট হাতে উজ্জ্বল স্মৃতি, যস্তিকা ও রিচা

প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ভারতীয় ব্যাটাররা দারুণ পারফরম্যান্স দেখান।
স্মৃতি মন্ধনা প্রথম ইনিংসের ৮৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৭০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যস্তিকা ভাটিয়া ১১৩ রানের অসাধারণ শতরান করে লর্ডসের অনার বোর্ডে নিজের নাম তুলে নেন। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষ অপরাজিত ৫০ রান করে দলের বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে ইংল্যান্ডের সামনে ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত তারা স্পর্শও করতে পারেনি।
বল হাতেও নায়ক ক্রান্তি গৌড়
এই ঐতিহাসিক জয়ে বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন ক্রান্তি গৌড়। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি লর্ডসের অনার বোর্ডে জায়গা করে নেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও আরও দুটি উইকেট শিকার করে ম্যাচে মোট সাতটি উইকেট তুলে নেন।
স্নেহ রানা, দীপ্তি শর্মা এবং ক্রান্তি গৌড়ের সম্মিলিত বোলিং ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেয়। তাদের ধারাবাহিক সাফল্যই ভারতের বড় জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও দল যেভাবে লড়াই করেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা।
বিশ্বকাপের আগে বড় আত্মবিশ্বাস
কয়েক দিন আগেই সীমিত ওভারের সিরিজে হতাশাজনক ফলের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় মহিলা দল। সেই হতাশা কাটিয়ে লর্ডসে এই ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বিশ্বকাপের আগে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে তাদেরই মাঠে ২৭০ রানে হারানো শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের শক্তিরও বড় প্রমাণ। এই সাফল্য দেখিয়ে দিল, বিশ্বের যে কোনও দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতার সামর্থ্য এখন ভারতীয় মহিলা দলের রয়েছে।
No Comment! Be the first one.