সকাল সকাল ডেস্ক
TMC Bank Account Freeze মামলায় দোলা সেনের আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইডি, কলকাতা হাইকোর্টে শুনানিতে নতুন মোড়।
TMC Bank Account Freeze মামলায় সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এল। কালীঘাট তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার শুনানিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দাবি করেছে, মামলাটি দায়ের করার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আইনি এক্তিয়ার বা লোকাস স্ট্যান্ডি (Locus Standi) রয়েছে কি না, তা আগে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এই আপত্তির জেরে মামলার মূল বিষয়ের পাশাপাশি আবেদনকারীদের আইনি বৈধতাও আদালতের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এই মামলায় কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন আবেদনকারী হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। TMC Bank Account Freeze-কে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন এই প্রশ্ন মামলার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দোলা সেনের ভূমিকা নিয়ে আদালতের প্রশ্ন
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দোলা সেনের মামলা দায়ের করার বৈধ আইনি ক্ষমতা রয়েছে কি না।
ইডির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী এস. ভি. রাজু আদালতে বলেন, আবেদনকারীদের আইনি অবস্থান পরিষ্কার না হলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।
এর জবাবে রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, দোলা সেন তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন। সেই কারণে দলের স্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও আইনি বাধা নেই বলে রাজ্যের দাবি।
কীভাবে শুরু হয়েছিল TMC Bank Account Freeze বিতর্ক
এই মামলার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। প্রথমে রাজ্য পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়।
পরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য একজন বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তদন্তে নেমে ইডি শুধু ওই তিনটি নয়, আরও কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দেয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।
দলের ভাঙনের মধ্যেই বাড়ে আইনি জটিলতা
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে রাজনৈতিক ভাঙন তৈরি হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি পৃথক শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে।
এই শিবির দলের সাংগঠনিক অধিকার, নির্বাচনী প্রতীক এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপরও নিজেদের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে কালীঘাট নেতৃত্ব সেই দাবির বিরোধিতা করছে। এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আবহেই TMC Bank Account Freeze মামলা আরও জটিল আকার নিয়েছে।
আগের শুনানিতে কী নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অন্তর্বর্তী নির্দেশে কিছু শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে স্বস্তি দিয়েছিল।
আদালত জানিয়েছিল, ফ্রিজ হওয়া তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে আইনি লড়াইয়ের খরচ ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই বহন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি। আদালত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
বিশেষ আধিকারিকের অনুমতি ছাড়া অর্থ তোলা যাবে না
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলতে হলে অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিশেষ আধিকারিক সুব্রত তালুকদারের পাল্টা স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক।
তাঁর অনুমোদন ছাড়া কোনও অর্থ তোলা যাবে না। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনিই ওই অ্যাকাউন্টগুলির তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।
Official Statement
শুনানিতে ইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আবেদনকারীদের আইনি এক্তিয়ার প্রথমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, দোলা সেন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে মামলা করার বৈধ অধিকার রাখেন।
Background
প্রথমে রাজ্য পুলিশের তরফে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। পরে তদন্ত চলাকালীন ইডি আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
Impact
এই মামলার রায় শুধু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আবেদনকারীদের আইনি বৈধতা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বের অধিকার এবং তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতার সীমা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ভবিষ্যতের জন্য নজির তৈরি হতে পারে।
No Comment! Be the first one.