সকাল সকাল ডেস্ক
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি, ইতিহাস, আবেগ ও ফাইনালের স্বপ্ন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে
২২ বছরের অপেক্ষার অবসান, প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মেসি
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই। দুই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশ্বকাপের অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই ম্যাচকে সবসময়ই বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। তবে অবাক করার মতো বিষয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২২ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েও লিওনেল মেসি কখনও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেননি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক, যা তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
মেসির কাছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করার পর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন মেসি। তিনি বলেছেন, বিশ্বের প্রায় সব শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেললেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কখনও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। তাই এই ম্যাচ তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং বহু বছরের অপূর্ণতা পূরণের সুযোগ।
মেসির মতে, ইংল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের সমৃদ্ধ ফুটবল ঐতিহ্য, প্রতিভাবান ফুটবলার এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এই ম্যাচকে আরও কঠিন ও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
এতদিন কেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা হয়নি

দুই দশকেরও বেশি আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে এই বিরল ঘটনা অনেককেই অবাক করেছে। এর পেছনে রয়েছে একটি পুরনো ঘটনা। দুই হাজার পাঁচ সালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে খেলতে পারেননি মেসি। আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড দেখার কারণে তিনি নিষিদ্ধ ছিলেন।
এরপর দীর্ঘ সময়ে দুই দল বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও কখনও মুখোমুখি হয়নি। ফলে অবশেষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামছেন মেসি।
কঠিন পথ পেরিয়ে শেষ চারে আর্জেন্টিনা
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিযোগিতায় নামলেও আর্জেন্টিনার পথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিটি নকআউট ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মেসি। যদিও তিনি গোল করতে পারেননি, কিন্তু তাঁর নিখুঁত পাস, আক্রমণ তৈরি এবং নেতৃত্ব দলের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
এর আগে শেষ ষোলোতেও পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। অন্য ম্যাচেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে দলটি।
ক্লান্তি থাকলেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর অধিনায়ক
টানা অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলায় ফুটবলারদের শরীরে ক্লান্তি রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মেসি। তবে তিনি জানিয়েছেন, দল এখন বিশ্রাম নিয়ে সেমিফাইনালের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।
অধিনায়কের মতে, প্রতিযোগিতার এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ক্লান্তির কথা ভেবে লাভ নেই। এখন একমাত্র লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা। দলের সবাই সেই লক্ষ্যেই মনোযোগী এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
ইতিহাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে রয়েছে বহু নাটকীয় মুহূর্ত। অতীতের বহু স্মরণীয় ম্যাচ আজও ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের অংশ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে চলেছে এই দুই শক্তিশালী দল।
একদিকে তরুণ ও গতিময় ইংল্যান্ড, অন্যদিকে অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা। ফলে সেমিফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে পৌঁছেছে।
সরকারি বক্তব্য
ম্যাচের আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার খেলতে নামা তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ অনুভূতি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দল ক্লান্ত হলেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি এবং ফাইনালে ওঠাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
সমর্থকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল ম্যাচে জয়ী দল সরাসরি ফাইনালে পৌঁছাবে। ফলে দুই দেশের কোটি কোটি সমর্থকের নজর থাকবে এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের দিকে। বিশেষ করে মেসির প্রথম ইংল্যান্ড ম্যাচ হওয়ায় এই সেমিফাইনাল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.