সকাল সকাল ডেস্ক।
সারিস্কার সফল অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে বাঘ পুনর্বাসন, প্রজেক্ট চিতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ কৌশল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা
রাজস্থানের আলওয়ারে Tiger Relocation বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন করলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। “বাঘ পুনর্বাসন: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বাঘ-অধ্যুষিত অঞ্চলের ফিল্ড ডিরেক্টর, প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন এবং সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি বা এনটিসিএ এবং রাজস্থান সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল বাঘ পুনর্বাসন, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সক্রিয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাঘ সংরক্ষণ ও ‘প্রজেক্ট চিতা’ সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনাও উন্মোচন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারতে বাঘের সক্রিয় ব্যবস্থাপনার রূপরেখা, বাঘের পুনর্বাসন ও সংখ্যা পুনরুদ্ধারের ওপর পুস্তিকা এবং ‘প্রজেক্ট চিতা’-র বার্ষিক প্রতিবেদন।
সারিস্কার সফল পুনরুদ্ধার সংরক্ষণে নতুন দিশা
সারিস্কা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনর্বাসনের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভাষণে শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, বাঘ সংরক্ষণ মানে শুধু একটি প্রাণীকে রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বনভূমি, জলাধার, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পরিবেশগত ভারসাম্যের সুরক্ষা।

মন্ত্রী সারিস্কা বাঘ পুনর্বাসন কর্মসূচিকে ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, সারিস্কা বিশ্বের প্রথম সফল বৈজ্ঞানিক বাঘ পুনর্বাসন কর্মসূচির অন্যতম দৃষ্টান্ত, যেখানে স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বাঘকে আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ২০০৫ সালে যেখানে সারিস্কায় বাঘ প্রায় বিলুপ্তির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, সেখানে আজ ৫৬টি বাঘের উপস্থিতি এক অসাধারণ পুনরুদ্ধারের উদাহরণ তৈরি করেছে।
Tiger Relocation-এ স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, Tiger Relocation সফল করতে শুধু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়; স্থানীয় মানুষের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি। পান্না এবং সারিস্কায় বাঘ পুনর্বাসনের সাফল্যের পেছনে স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ওড়িশার সাতকোশিয়া টাইগার রিজার্ভের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় সমর্থনের অভাবে সেখানে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
শ্রী যাদব বলেন, পর্যটন বৃদ্ধি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সংরক্ষণ এলাকার আশেপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণও অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। বাঘ সংরক্ষণকে স্থানীয় জীবিকা, বন ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
দেশের বাঘ সংরক্ষণে বড় সাফল্য
বাঘ সংরক্ষণে ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, গত এক দশকে দেশে টাইগার রিজার্ভের সংখ্যা ৪৬ থেকে বেড়ে ৫৮ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে বন্য বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গ ঘোষণার যে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল, ভারত তা সফলভাবে অর্জন করেছে।
এই সাফল্য শুধু বন দফতরের প্রচেষ্টার ফল নয়, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, আবাসস্থল উন্নয়ন, শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি, মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমানো এবং স্থানীয় সমাজের সহযোগিতার মিলিত ফল। Tiger Relocation কর্মসূচি ভবিষ্যতে বাঘ-শূন্য বা বাঘের সংখ্যা কম এমন এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
Official Statement: বিজ্ঞান ও মানবিকতার সমন্বয়ের বার্তা
কর্মশালায় শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল বাঘ রক্ষা করা নয়, বরং কোনও প্রজাতি যাতে বিলুপ্ত না হয় তা নিশ্চিত করা। বিপন্ন প্রজাতির পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হবে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল—সংরক্ষণ কার্যক্রমে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক মূল্যবোধ, দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাঘ ও হাতির বিচরণক্ষেত্র যেখানে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে ল্যান্ডস্কেপ কানেক্টিভিটি বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিভিন্ন বনাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা না গেলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ও জিনগত বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রজেক্ট চিতা ও ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনা
কর্মশালায় ‘প্রজেক্ট চিতা’ নিয়েও বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। চিতা স্থানান্তর, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, পশুচিকিৎসা সংক্রান্ত পদক্ষেপ, স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সাফল্যের পেছনেও স্থানীয় মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
এছাড়া গৌড় বা ভারতীয় বাইসন এবং বারাসিংহার মতো প্রাণী স্থানান্তরের মাধ্যমে শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘের সুস্থ আবাসস্থল তৈরি করতে হলে শুধু বাঘ নয়, সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
Public Information: কী আলোচনা হল কর্মশালায়
কর্মশালায় আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি, বনাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, বন্যপ্রাণী স্থানান্তর এবং সক্রিয় ব্যবস্থাপনা কৌশল নিয়ে কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সারিস্কা, পান্না এবং অন্যান্য টাইগার রিজার্ভের অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীরা ভাগ করে নেন।
যেসব রিজার্ভে বাঘের সংখ্যা কম, সেখানকার প্রতিনিধিরাও তাদের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কর্মশালার সুপারিশ ভবিষ্যতে Tiger Relocation, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং প্রজাতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.