সকাল সকাল ডেস্ক
Diesel Container Rule শিথিল করল রাজ্য সরকার। কৃষক, হাসপাতাল, চা-বাগান, কোল্ড স্টোরেজ ও জরুরি পরিষেবার জন্য কন্টেনারে ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে মিলল বিশেষ ছাড়।
Diesel Container Rule: কন্টেনারে ডিজেল কেনায় বড় ছাড়, কৃষি, হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবার জন্য নতুন নির্দেশ
কৃষিকাজ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি পরিষেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে কন্টেনার বা ব্যারেলে ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে বড় ছাড় দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন Diesel Container Rule অনুযায়ী, কৃষক, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, চা-বাগান, কোল্ড স্টোরেজ, ডেয়ারি, পোলট্রি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দফতরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কৃষি উৎপাদন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আর জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাহত হবে না।
সম্প্রতি কন্টেনারে ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে সমস্যার অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে কৃষক, হাসপাতাল এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা জানান, জরুরি প্রয়োজনে পর্যাপ্ত ডিজেল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দ্রুত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে।

কেন পরিবর্তন করা হল Diesel Container Rule?
সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি উৎপাদন এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কন্টেনারে ডিজেল সরবরাহে বিধিনিষেধের ফলে বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা এবং কৃষিকাজে অসুবিধা তৈরি হচ্ছিল। তাই জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদ্য ও সরবরাহ দফতর ইতিমধ্যেই সংশোধিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সেই নির্দেশ ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOCL), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) এবং ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL)-এর রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে, যাতে রাজ্যের সমস্ত পেট্রোল পাম্পে দ্রুত তা কার্যকর করা যায়।
কোন কোন ক্ষেত্রকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে?
নতুন Diesel Container Rule অনুযায়ী চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, হাসপাতাল, নার্সিংহোম, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মতো জরুরি পরিষেবাগুলি এখন প্রয়োজন অনুযায়ী কন্টেনারে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর চালানো, অ্যাম্বুল্যান্স এবং অন্যান্য জরুরি যানবাহন সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
দ্বিতীয়ত, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ক্ষেত্রকেও এই ছাড়ের আওতায় আনা হয়েছে। ট্র্যাক্টর, হারভেস্টার, সেচযন্ত্র, কৃষিযন্ত্র, ডেয়ারি, পোলট্রি, কোল্ড স্টোরেজ এবং বেকারি শিল্পের জন্য কন্টেনারে ডিজেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, বর্ষার মরসুমে কৃষিকাজ যাতে ব্যাহত না হয় এবং খাদ্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি পরিষেবাতেও মিলবে সুবিধা
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী আবাসিক কমপ্লেক্স, বড় আবাসন প্রকল্প, সরকারি দফতর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিজেলচালিত জেনারেটর পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। সরকারের মতে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিষেবা চালু রাখতে জেনারেটরের প্রয়োজন হয়। তাই এই ক্ষেত্রগুলিকেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
চা শিল্পের জন্যও বড় স্বস্তি
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান শিল্প চা শিল্প। নতুন Diesel Container Rule অনুযায়ী চা-বাগানের প্রসেসিং ইউনিট এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহণ ব্যবস্থার জন্যও কন্টেনারে ডিজেল সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে ডিজেলের উপর নির্ভরতা অনেক বেশি। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা পরিবহণ সমস্যার সময় উৎপাদন যাতে থমকে না যায়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ডিজেল কেনার সীমা ও নতুন সুবিধা
সরকার জানিয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলির জন্য দৈনিক ডিজেল কেনার সর্বোচ্চ সীমাও শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে PESO অনুমোদিত নয় এমন কন্টেনার বা ব্যারেলেও ডিজেল সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আগের নিয়মই কার্যকর থাকবে।

কী কী নথি দেখাতে হবে?
এই সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে কিছু প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, কৃষিজমির নথি অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত রিকুইজিশন।
এছাড়া তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে সমস্ত পাম্প অপারেটরদের নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যাতে কোনও গ্রাহক অযথা সমস্যার সম্মুখীন না হন।
সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, Diesel Container Rule-এ এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন কৃষকরা। বর্ষাকালে সেচ, চাষাবাদ এবং কৃষিযন্ত্র চালাতে ডিজেলের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। পাশাপাশি হাসপাতালগুলিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি পরিষেবা চালু রাখা সহজ হবে।
কোল্ড স্টোরেজ, ডেয়ারি, পোলট্রি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। চা শিল্পের ক্ষেত্রেও উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু কৃষি ও স্বাস্থ্য পরিষেবাই নয়, রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে। জ্বালানি সরবরাহে অযথা বাধা কমলে উৎপাদন, পরিষেবা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও স্বাভাবিকভাবে চলবে। সরকারের এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই কৃষক সংগঠন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিল্পমহলের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
No Comment! Be the first one.