সকাল সকাল ডেস্ক
Kolkata Eviction Drive-এর অংশ হিসেবে বিদ্যাপতি সেতু ও সুকান্ত সেতুর নীচে থাকা বেআইনি দোকান ও বাজার সরাতে ৭ দিনের নোটিস, এরপর শুরু হতে পারে বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান।
কলকাতায় সরকারি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরকে দখলমুক্ত করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। Kolkata Eviction Drive-এর অংশ হিসেবে শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উড়ালপুল—শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু এবং যাদবপুর-সন্তোষপুর সংযোগকারী সুকান্ত সেতুর নীচে থাকা সমস্ত বেআইনি দোকান, বাজার ও অন্যান্য জবরদখল সরাতে সাত দিনের নোটিস জারি করা হয়েছে। পুরসভার স্পষ্ট বার্তা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় দখল না সরালে আইনি বিধান মেনে প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
কেন এই পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা?
শনিবার উড়ালপুল দুটির নীচে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস টাঙিয়ে কলকাতা পুরসভা জানায়, কলকাতা পুর কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী বেআইনি দখল অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা নিজেরাই দোকান, অস্থায়ী কাঠামো বা অন্যান্য নির্মাণ সরিয়ে নিতে পারেন।
পুরসভার মতে, বিদ্যাপতি সেতু এবং সুকান্ত সেতু শহরের অত্যন্ত ব্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই সেতুর নীচে অসংখ্য অস্থায়ী ও স্থায়ী দোকান, বাজার এবং অন্যান্য কাঠামো গড়ে ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পথচারীদের নিরাপত্তা এবং জনপরিসরের স্বাভাবিক ব্যবহারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই Kolkata Eviction Drive-এর আওতায় এই এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
কোন কোন এলাকায় উচ্ছেদ হবে?
সুকান্ত সেতুর নীচে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বড় বাজার বসে এবং সেখানে স্থায়ী হকার্স মার্কেটও রয়েছে। অন্যদিকে, শিয়ালদহ স্টেশনের সংলগ্ন বিদ্যাপতি সেতুর নীচেও বহু বছর ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দোকানপাট ও বাজার গড়ে উঠেছে।
পুরসভার নির্দেশ কার্যকর হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমস্ত বেআইনি কাঠামো সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে।

শহরজুড়ে জোরদার হচ্ছে Kolkata Eviction Drive
সম্প্রতি কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি দখল উচ্ছেদে পুরসভার সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতিমধ্যেই তপসিয়া, কসবা, পার্ক সার্কাস-সহ একাধিক এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি হাওড়া, শিয়ালদহ এবং দমদম স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও বেআইনি দোকান ও দখল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি, রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসর সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখতেই এই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
ঢাকুরিয়া-যাদবপুর এলাকাতেও উচ্ছেদের নোটিস
শুধু উড়ালপুলের নীচেই নয়, ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বস্তি এলাকাতেও ইতিমধ্যেই উচ্ছেদের নোটিস পৌঁছে গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রেললাইনের ধারে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ওই এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে।
সেখানে কাঁচা ঘরের পাশাপাশি বহু পাকা বাড়িও তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ?
পুরসভার এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন যানজট কমানো, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে, অন্যদিকে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাঁরা নোটিস পেয়েছেন, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আইন অনুযায়ী বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতে পারে।
নোটিসে এও উল্লেখ করা হয়েছে, যাদবপুর ও সন্তোষপুরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার হল সুকান্ত সেতু। সুলেখা ক্রসিং থেকে শুরু হয়ে গোপালনগর পর্যন্ত এই সেতুটি। এই সেতুর নিচের সন্ধেয় বাজার বসে। রয়েছে হকার্স মার্কেটও। অন্যদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারগুলির মধ্যে একটি হল শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু। শিয়ালদহ স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত এই সেতুর নিচে ঝাঁকে ঝাঁকে দোকান রয়েছে। এমনকী রয়েছে বিরাট বাজারও। এক সপ্তাহের মধ্যে ফ্লাইওভারের নিচের দোকানগুলি খালি করার নির্দেশ দিল পুরসভা। সুকান্ত সেতুর নিচেও বেআইনি নির্মাণ সরাতেও নোটিস দিয়েছে পুরসভা।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহেই ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর স্টেশন লাগোয়া বস্তি এলাকাও খালি করতে পুরসভার নোটিস পড়েছে। স্টেশনের ধারে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জায়গা জবরদখল করে বহু মানুষের বসবাস। জানা গিয়েছে, ওই বস্তি এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার বাসিন্দা থাকেন। কিন্তু পুরোটাই বেআইনিভাবে দখল করা গজিয়ে ওঠা। শুধু ঝুপড়ি নয়, একাধিক ছোট ছোট দোতলাও নির্মাণ হয়ে গিয়েছে দখলি জমিতে। এবার সেই জায়গা খালি করতেও ডেডলাইন দিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
No Comment! Be the first one.