সকাল সকাল ডেস্ক
বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া লিওনেল মেসির কাছে নতুন কিছু নয়। তবে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ২-০ জয়ের ম্যাচটি তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। কারণ এই এক ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের চারটি বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সেই কীর্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন মেসি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন এই মহাতারকা।
এর আগে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুটি গোল করে সেই রেকর্ড পেরিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে পৌঁছে দেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনও ফুটবলারের এত গোল নেই।
শুধু গোলের রেকর্ড নয়, আরও তিনটি বিভাগেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৮টি জয়ের মালিকও এখন মেসি। মাঠে কাটানো সময়ের হিসেবেও তিনি সবার উপরে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট খেলে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃত চারটি নতুন রেকর্ড:
• বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল – ১৮
• বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ – ২৮
• বিশ্বকাপে সর্বাধিক জয় – ১৮
• বিশ্বকাপে সর্বাধিক মিনিট মাঠে থাকা – ২,৪৮৯
তবে ম্যাচের শুরুটা মেসির জন্য সুখকর ছিল না। নবম মিনিটে ভিএআরের সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি মিস করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় পেনাল্টি ব্যর্থতা। কিন্তু সেই হতাশা দ্রুত কাটিয়ে উঠে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন ম্যাচ ছিল, তবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে ওঠা স্বস্তিদায়ক।” সতীর্থ হুলিয়ান আলভারেসও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন অধিনায়ককে। তাঁর মতে, “লিও শুধু এই সময়ের নয়, ইতিহাসেরও সেরা ফুটবলার।”
৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেন থামার নাম নিচ্ছেন না। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাস নতুন করে লিখে চলেছেন।
No Comment! Be the first one.