সকাল সকাল ডেস্ক
লস এঞ্জেলস
বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রুপ ‘এইচ’-এর ছবি ছিল একেবারে পরিষ্কার। ফুটবলবিশ্বের ধারণা ছিল, স্পেন এবং উরুগুয়ে সহজেই নকআউট পর্বে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় আর সম্মান রক্ষার মধ্যে। কিন্তু মাত্র দুই ম্যাচের মধ্যেই সেই সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটি প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২–২ সমতা আদায় করে সবাইকে চমকে দেয়। মাত্র ছ’লক্ষ জনসংখ্যার দেশটি এখন নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে, আর সেই স্বপ্ন আর কল্পনা নয়—বাস্তব সম্ভাবনা।
দুই ম্যাচ শেষে স্পেন চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে এবং কার্যত শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে। কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ের পয়েন্ট সমান, দু’টি করে। তবে গোলসংখ্যা ও টাইব্রেকারের নিরিখে কেপ ভার্দে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সৌদি আরবের ঝুলিতে রয়েছে এক পয়েন্ট।
এবার সব নজর ২৬ জুনের ম্যাচে। হিউস্টনে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। সমীকরণ খুবই সহজ—জিতলেই নিশ্চিত নকআউট। ড্র করলেও সম্ভাবনা থাকবে, তবে তখন স্পেন বনাম উরুগুয়ে ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি উরুগুয়ে জয় না পায়, তাহলে কেপ ভার্দে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখে পরের পর্বে পৌঁছে যাবে।
তবে হারলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। তখন গোলপার্থক্য, অন্যান্য গ্রুপের ফল এবং সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির তালিকার ওপর নির্ভর করতে হবে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও শেষ বত্রিশে সুযোগ পায়।
সবচেয়ে বেশি চাপ এখন উরুগুয়ের ওপর। তাদের শেষ ম্যাচ খেলতে হবে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল স্পেনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের সামনে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। তাই ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন পুরোপুরি তাদের হাতেই। প্রথম বিশ্বকাপেই যদি কেপ ভার্দে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে, তবে তা হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন এবং অনুপ্রেরণার গল্প।
No Comment! Be the first one.